বরিশালের সীতারামের দিঘি ভরাট তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের

আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০২১, ২১:২৩

ইত্তেফাক রিপোর্ট

বরিশাল শহরে ২০০ বছরের প্রাচীন সীতারামের দিঘি ভরাটের ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। আগামী দুই মাসের মধ্যে তদন্ত করে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন হাইকোর্টে দাখিল করতে বরিশালের জেলা প্রশাসক ও পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল সোমবার এই আদেশ দেয়।

অবৈধভাবে সীতারামের দিঘি ভরাট নিয়ে একটি ইংরেজি জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ঐ প্রতিবেদনে বলা হয়, বরিশাল নগরীর সবচেয়ে বড় ও দুই শতাধিক বছরের প্রাচীন জলাধার সীতারামের দিঘি বালু দিয়ে ভরে ফেলছে জমির মালিকানা দাবি করা একজন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আলী হোসেন। ইতিমধ্যে জলাধারের কিয়দংশ ভরাট করে ফেলা হয়েছে। এত বড় জলাধার বন্ধে স্থানীয় প্রশাসন বাধা দিলেও চুপিসারে প্রতিনিয়ত ভরে ফেলা হচ্ছে এই দিঘি। জলাধারের কাগজপত্রে এটি ‘সীতারামের দিঘি, পানীয় জলের জন্য সাধারণের ব্যবহার্য’ এই কথাটি উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও প্রতিনিয়ত বালু দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে। বরিশাল নগরীর ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের আওতাধীন কাশিপুর বাজার ছাড়িয়ে গেলে চোখে পাড়বে বৃহত্ আকারের এই দিঘিটি। এক সময়ে চন্দ্রদ্বীপ রাজবংশের অন্তর্গত এই ২ দশমিক ৯৮ একরের দিঘি ছাড়াও ১ দশমিক ৩৯ একর জায়গায় স্থাপিত হয়েছে ইউনিয়ন ভূমি আফিস যা একটি বৃহদাকার ভবন নিয়ে গঠিত। এসএ খতিয়ানে ভূমি অফিসের বালাম বইয়ে দিঘির মালিকানা হিসেবে দেখানো হয়েছে জয়ন্ত লাল বসু, রাজকুমার বসু, গুণদা সুন্দরী বসু, বসন্ত কুমার বসু প্রমুখকে। সবশেষ ১৯৫৪ সালে জমির হাত বদল হয়েছে ও রেকর্ডভুক্ত হয়েছে সৈয়দ কাওসার হোসেনের নামে। সিএস ও এসএ দাগে যা সীতারামের দিঘি নামে উল্লিখিত আছে।

করোনাকালে এই দিঘি ভরাট কার্যক্রম শুরু করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৬ জুন দিঘি ভরাট বন্ধে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়। কিন্তু ভরাট বন্ধ না করে তা অব্যাহত রাখা হয়। একইসঙ্গে সেখানে জমি বিক্রির সাইন বোর্ডও টাঙানো হয়। এরপরই হাইকোর্টে রিট করে বেসরকারি সংগঠন নাগরিক অধিকার। রিটের পক্ষে আইনজীবী হাসান তারেক শুনানি করেন। শুনানি শেষে ঐ দিঘি রক্ষায় বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তাকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং এসএ ও আরএস পর্চা অনুসারে দিঘিটি আগের অবস্থায় কেন ফেরত নেওয়া হবে না—তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে হাইকোর্ট।