দিন কয়েক আগে দেড় বছরের একটি শিশুর জ্বর ও ঘন ঘন বমির উপসর্গ দেখা দিলে একজন শিশু-চিকিত্সকের কাছে তাকে নেওয়া হলে প্যারাসিটামল সিরাপ ও অন্ড্যানসেট্রন সিরাপ ব্যবস্থাপত্রে লেখা হয়। ওষুধ খাওয়ানোর পর জ্বর ও বমি কমলেও শিশুটির ভয়াবহ ডায়রিয়া শুরু হয়ে যায়। শিশুটিকে স্যালাইন বা কোনো খাবারও খাওয়ানো যাচ্ছিল না। এ অবস্থায় শিশুটির অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। পরে ডায়রিয়া বন্ধের জন্য চিকিত্সকের পরামর্শ অনুযায়ী আবার সিপ্রোফ্লক্সাসিন সিরাপ খাওয়াতে হয়। বমি বন্ধের সিরাপের সঙ্গে দেওয়া নির্দেশনাপত্রে লেখা আছে—এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে ডায়রিয়া হতে পারে। কাজেই ব্যবস্থাপত্রে লেখা প্রতিটি ওষুধের ক্রিয়া ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে চিকিত্সকের যেমন ভালোভাবে জানা উচিত, তেমনি রোগী বা রোগীর অভিভাবককেও বিষয়টি অবশ্যই বলে দেওয়া উচিত। তবে সব শিশু বা রোগীর ক্ষেত্রেই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেবে, এমন নয়। আবার বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ওষুধের নাম ও খাওয়ার নিয়ম এমনভাবে লেখা হয়ে থাকে, যা অনেক সময়ই ওষুধ বিক্রেতা, রোগী বা রোগীর অভিভাবকের পক্ষে বুঝতে খুবই অসুবিধা হয়। বর্তমানে অবশ্য কিছু কিছু ক্ষেত্রে কম্পিউটারে লিখে প্রিন্ট করেও ব্যবস্থাপত্র দেওয়া শুরু হয়েছে। কাজেই সব ক্ষেত্রেই ব্যবস্থাপত্রে ওষুধের নাম, খাওয়ার নিয়ম স্পষ্ট করে লেখা এবং প্রতিটি ওষুধের ক্রিয়া-পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে রোগী বা রোগীর অভিভাবককে বুঝিয়ে দেওয়া উচিত। এ ব্যাপারে চিকিত্সকদের আরো সতর্ক হওয়া উচিত বলে মনে করি।
বিপ্লব বিশ্বাস
গোয়ালচামট, ফরিদপুর
