দিনাজপুরে ধানের দাম কমলেও কমেনি চালের দাম

আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০২১, ২১:২৮

মতিউর রহমান, স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর

চাল আমদানিতে শুল্ক কমানোর সরকারি সিদ্ধান্তের খবরে দিনাজপুরে হঠাত্ করেই কমতে শুরু করেছে ধানের দাম। কদিনের ব্যবধানেই বাজারে ধানের দাম কমেছে বস্তাপ্রতি ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। তবে সে তুলনায় কমেনি চালের দাম। ধানের দাম কমলেও বাজারে আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে চাল।

দিনাজপুরের অন্যতম বড় ধানের বাজার সদর উপজেলার গোপালগঞ্জে গিয়ে গতকাল সোমবার দেখা যায়, হাটে ধানের সরবরাহ বেশ বেড়েছে। ধান ক্রেতারা জানান, ঐ হাটে আগে প্রতি হাটবারে (সোম ও শুক্রবার) ১ হাজার থেকে দেড় হাজার বস্তা ধান উঠলেও গতকাল হাটে আসে ২ হাজার বস্তারও বেশি। বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রতি বস্তা (৭৫ কেজি) মোটা জাতের ধানের দাম কমেছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত। বাজারের ধান ক্রেতা বিভাকর বসাক জানান, কয়েক দিন আগেই প্রতি বস্তা গুটি স্বর্ণা ধান বিক্রি হতো ২ হাজার ১৮০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকায়। এখন তা বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৯৫০ টাকায়। বিআর-৫১ ধান ২ হাজার ৩০০ থেকে নেমে বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ১০০ টাকায়। আর সুমন স্বর্ণা ধান ২ হাজার ৩৫০ থেকে নেমে এখন বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ১৫০ টাকায়। তিনি জানান, বাজারে সরবরাহ বাড়লেও মিলের মালিকেরা ধান কেনা কমিয়ে দেওয়ায় দাম কমতে শুরু করেছে।

বাজারে ধান বিক্রি করতে আসা কৃষক বলরাম জানান, ধানের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছেন মিলের মালিকেরা। তারা ইচ্ছামতো ধানের দাম নির্ধারণ করে থাকেন, বাধ্য হয়েই তাদের সেই দামে ধান বিক্রি করতে হয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকার চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়ায় এবং চালের আমদানি শুল্ক কমিয়ে নিয়ে আসায় মিলের মালিকেরা ধান কেনা কমিয়ে দিয়েছেন। এ কারণেই কমতে শুরু করেছে ধানের দাম। সম্প্রতি খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে চাল আমদানির শুল্ক ৬২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ করার ঘোষণা দেন। নতুন শুল্কহারে চাল আমদানি করতে আগামী ১০ জানুয়ারির মধ্যে মন্ত্রণালয়ে আবেদন করতে পারবেন আমদানিকারকেরা। এদিকে বাজারে ধানের দাম বস্তাপ্রতি ১৫০ টাকা থেকে ২০০ টাকা কমলেও আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে চাল।

গতকাল সোমবার দিনাজপুরের প্রধান চালের বাজার বাহাদুর বাজারে গিয়ে দেখা যায়, এখন পর্যন্ত ধানের দাম কমার প্রভাব পড়েনি। বাহাদুর বাজারের চাল ব্যবসায়ী লিয়াকত আলী জানান, তারা শুনেছেন ধানের দাম কমেছে। কিন্তু মিলের মালিকদের কাছে আগের দামেই চাল কিনতে হচ্ছে। তাই বাজারে চালের দাম কমেনি। তিনি জানান, বিআর-২৮ জাতের চাল বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৫৩ থেকে ৫৫ টাকা, গুটি স্বর্ণা বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৪৩ টাকা, সুমন স্বর্ণা বিক্রি হচ্ছে ৪৪ টাকায় এবং প্রতি কেজি মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৮ থেকে ৬০ টাকায়। আগেও এই দামে চাল বিক্রি হতো বলে জানান তিনি।দিনাজপুরের চালকল মালিক গ্রুপের নেতা সহিদুর রহমান পাটোয়ারী জানান, সরকার চাল আমদানিতে শুল্কহার কমানোর ফলে বাজারে ধানের দাম কমেছে, চালের বাজারও বস্তাপ্রতি কমেছে। চালের দাম তেমন না কমার প্রশ্নে তিনি জানান, আমদানিনীতির ওপর কিছু শর্ত আছে। যেমন—আবেদন করতে হবে, অনুমতি নিতে হবে। এ কারণে বাজারটা আর থামেনি, এখন স্থিতিশীল আছে। সরকার যদি আমদানি আরো সহজ প্রক্রিয়ায় করে, তাহলে বাজার আরো নিম্নমুখী হবে। এতে ধানের বাজার আরো কমবে এবং কমবে চালের দামও। একটা চেক অ্যান্ড ব্যালান্স থাকবে।