নিখোঁজ ২০ জনের সন্ধান এখনো মেলেনি, ট্রলারের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা

আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:২২

মুন্সীগঞ্জের মেঘনা নদীতে তেলবাহী জাহাজের ধাক্কায় মাটিভর্তি ট্রলার ডুবিতে নিখোঁজ ২০ শ্রমিকের সন্ধান এখনো মেলেনি। অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করেও ট্রলারটির অবস্থান শনাক্ত করা যাচ্ছে না। এদিকে মুন্সীগঞ্জ অংশে উদ্ধার অভিযান শনিবার বিকাল ৫টায় সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। তবে আজ রবিবার পার্শ্ববর্তী চাঁদপুরের ষাটনলের মেঘনায় উদ্ধার অভিযান শুরু হবে। এদিকে পাবনার ভাঙ্গুড়ায় নিখোঁজ শ্রমিকদের পরিবারে চলছে আহাজারি।

গত চার দিনে মুন্সীগঞ্জের মেঘনার ৪ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানা ঘটনাস্থলে জানান, উদ্ধারকারী জাহাজ ‘প্রত্যয়’, নৌযান শনাক্তকারী বিশেষ সরঞ্জামাদি ব্যবহার করে। পাশাপাশি বিআইডব্লিউটিএ ও নৌবাহিনী সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ট্রলারটির অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চালাচ্ছে। নৌবাহিনীর একটি, বিআইডব্লিউটিএ’র দু’টি ও ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিটের সাথে যৌথভাবে উদ্ধার অভিযানে কাজ করছেন জেলা প্রশাসন, নৌ-পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা।

ট্রলার চালকের অনুপস্থিতি এবং অভিযুক্ত তেলবাহী জাহাজটিকে শনাক্ত করা না যাওয়ায় ট্রলার ডুবির স্থানটিও নিশ্চিত করতে পারছেন না উদ্ধারকারীরা। সোমবার কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে ট্রলারে মাটি তুলে ৩৪ শ্রমিক নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার বক্তাবলী নিয়ে যাচ্ছিলেন। তেলবাহী জাহাজ ট্রলারটিকে ধাক্কা দিয়ে চাঁদপুরের দিকে চলে যায়। এতে ট্রলারটি ডুবে যায়। ট্রলারে থাকা শ্রমিকদের মধ্যে ১৪ জন সাঁতরে প্রাণে বাঁচলেও ট্রলারটির ভেতরে ঘুমন্ত ২০ শ্রমিকের ভাগ্যে কি ঘটেছে তা এখনও জানা যায়নি। নিখোঁজ শ্রমিকদের মধ্যে ১৮ জনের বাড়িই পাবনা জেলায়।

গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান সাদিক জানান, চতুর্থদিনের মতো শনিবার সকাল থেকে বিআইডব্লিউটিএ ও নৌবাহিনীর এক্সপার্ট টিম উদ্ধার অভিযান চালিয়েছে। তিনি জানান, নির্দিষ্ট স্থান না জানায় পুরো মেঘনা নদী চষে বেড়ানো সম্ভব নয়। তারপরও কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে খোঁজা হয়েছে। কিন্তু কোনো সন্ধান মিলেনি। এজন্য ট্রলার চালককে আটক বা ঘটনাস্থলে উপস্থিতি দরকার। শরীয়তপুরের শিবচর উপজেলার হাজী শুক্কুর হালদারকান্দির মৃত করিম বেপারীর ছেলে ট্রলার চালক হাবিব বেপারী দুর্ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছে। এদিকে ট্রলারডুবির ৫ দিন অতিবাহিত হলেও মুন্সীগঞ্জের কোনো শ্রমিক নেতাকে দেখা যায়নি নিখোঁজ শ্রমিকদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে।

ভাঙ্গুড়ায় নিখোঁজদের পরিবারে আহাজারি

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) সংবাদদাতা জানান, মুন্সীগঞ্জে ট্রলার ডুবির পাঁচদিন অতিবাহিত হলেও পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নের নিখোঁজ ১৭ শ্রমিকের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উপজেলা চেয়ারম্যান তাদের জন্য খাদ্য সহায়তা নিয়ে গেলে দাসমরিচ গ্রামের হনুফা খাতুন এবং তার পুত্রবধূ কান্নায় ভেঙে পড়েন। হনুফা বলেন, ‘আমরা সাহায্য চাই না, আমার স্বামী ও সন্তানদের এনে দেন’। হনুফার স্বামী মোশারফ হোসেন এবং তার দুই পুত্র ওমর আলী ও মোন্নাফ আলী তিনজনই ট্রলার ডুবিতে নিখোঁজ রয়েছেন।  রমানাথপুর গ্রামের নিখোঁজ শ্রমিক সহোদর আলিফ উদ্দিন ও গোলাম মোস্তফার বৃদ্ধ পিতা আব্দুল জাব্বার হাউমাউ করে কেঁদে বলেন, ‘বাবারা আমার ছেলেদের এনে দাও। আমরা কিচ্চু চাই না শুধু তাদের লাশগুলো চাই।’ এ আর্তনাদ এখন ওই ইউনিয়নের মন্ডুমালা, মাদারবাড়িয়া, চন্ডিপুর ও দাসমরিচ গ্রামের নিখোঁজ শ্রমিকদের পরিবারে। নিখোঁজদের জন্য ইউনিয়নবাসীও কাতর হয়ে পড়েছে। খানমরিচ ইউপি চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আছাদুর রহমান বলেন, উদ্ধার তত্পরতা সম্পর্কে সার্বক্ষণিক খোঁজ-খবর রাখতে আমার ভাই শাহ আলম (রতন) মুন্সীগঞ্জ নৌ-পুলিশদের সঙ্গে রয়েছেন। কিন্তু শনিবার বিকাল পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি না থাকায় আমরা হতাশ।