শেষ যাত্রায় মানুষের শ্রদ্ধা, ভালোবাসায় সিক্ত হলেন কথাশিল্পী রাবেয়া খাতুন। প্রতিকূল সময়ে আধুনিক সাহিত্য রচনার মধ্য দিয়ে পাঠকের হূদয়ে চিরস্থায়ী আসন করে নিয়েছেন তিনি। সেসব লেখার মধ্যেই বেঁচে থাকবেন তিনি। গতকাল সোমবার বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদন, চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে বাদ আসর বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন বাংলা কথাসাহিত্যের অন্যতম লেখক রাবেয়া খাতুন। গত রবিবার বিকেলে বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান তিনি।
সোমবার সকালে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তার মরদেহ নিয়ে আসা হয় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে। একাডেমির নজরুল মঞ্চে অস্থায়ী বেদিতে তার শ্রদ্ধানুষ্ঠান শুরু হয়। শুরুতেই আওয়ামী লীগের পক্ষে দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এছাড়াও রাবেয়া খাতুনের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, বাংলা একাডেমির সভাপতি শামসুজ্জামান খান ও মহাপরিচালক হাবিবুল্লাহ সিরাজী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, নাট্যজন মামুনুর রশিদ ও নাসির উদ্দিন ইউসুফ প্রমুখ।
প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন করে তথ্য মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়, বাংলা একাডেমি, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, গণসংগীতশিল্পী সমন্বয় পরিষদ, ঢাকা পদাতিক, জাতীয় কবিতা পরিষদ, চন্দ্রাবতী একাডেমি, পঞ্চভাস্বর, টইটুম্বর, জাসদ, বাংলাদেশ টেলিভিশন নাট্যশিল্পী সংসদ, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও পরিবেশক সমিতি, বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি।
তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, রাবেয়া খাতুন বাংলাদেশের এমন একজন লেখিকা যিনি বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন। তিনি যেসময় সাহিত্যচর্চা শুরু করেছিলেন, তখন একজন নারীর পক্ষে সাহিত্যচর্চা এত সহজ কাজ ছিল না।
রামেন্দু মজুমদার বলেন, রাবেয়া খাতুন আমাদের পথ দেখিয়েছেন। রাবেয়া খাতুন বর্ণাঢ্য ও দীর্ঘ জীবন পালন করেছেন। তিনি সব ক্ষেত্রে সফল হয়েছেন।
নাসির উদ্দীন ইউসুফ বলেন, পঞ্চাশের দশকে তিনি কলম হাতে ধরেছিলেন। সেই সময়টি ছিল পশ্চাত্পদ সময়। বাংলাদেশের অগ্রসরতার পেছনে তার অবদান রয়েছে।
বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী বলেন, রাবেয়া খাতুন একজন সচেতন লেখক ছিলেন। তিনি সবসময় সমাজের নিপীড়িত মানুষের জন্য কলম ধরেছেন।
অন্যপ্রকাশের প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম বলেন, সাহিত্যের এমন কোনো শাখা নেই, যেখানে তিনি কাজ করেননি। শিশুসাহিত্য থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্য—সব ধরনের রচনা তিনি করেছেন।
বাংলা একাডেমি থেকে রাবেয়া খাতুনের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় তেজগাঁয়ের চ্যানেল আই কার্যালয়ে। চ্যানেল আই-এ অনুষ্ঠিত জানাজায় অংশ নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে কথা বলেন মুকিত মজুমদার বাবু। তিনি রাবেয়া খাতুনের আত্মার শান্তি কামনায় সকলের দোয়া চান।
এই সময় পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী ৮ জানুয়ারি বাদ জুমা চ্যানেল আই মসজিদে রাবেয়া খাতুনের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া অনুষ্ঠিত হবে।
এরপর রাবেয়া খাতুনের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় বনানী কবরস্থানে। বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হন প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুন।
