মানিকগঞ্জে যাত্রাশিল্পীদের দুর্দিন

আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:৩৩

মানিকগঞ্জে যাত্রাশিল্পীদের দুর্দিন চলছে। একসময় জেলার শিবালয় উপজেলার মহাদেবপুর এলাকায় অনেক যাত্রাশিল্পী বসবাস করতেন যারা গ্রাম বাংলার এই সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধরে রাখতে মুখ্য ভূমিকা পালন করতেন। তাদের অভিনীত রূপবান, কমলার বনবাস, লাইলী মজনুর প্রেমকাহিনী, কারবালার ইতিহাস, রসমধুসহ নানা ধরণের শিক্ষনীয় যাত্রাপালার সুনাম সারাদেশে ছিল। শত শত লোক জীবিকা নির্বাহ করতো যাত্রাপালায় অভিনয় করে। এখন আর তা অনেকাংশেই নেই। এখন অর্থাভাবে অধিকাংশ পালাকার যাত্রায় অভিনয় বাদ দিয়ে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত হয়ে পড়ছেন। তবে এরও মাঝে কিছু লোক আছেন যারা আজও যাত্রাশিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তারা এখনো অন্য পেশায় নিয়োজিত হন নি। আর হলেও তার পাশাপাশি যাত্রায় অভিনয় করে যাচ্ছেন। তারা অত্যন্ত অর্থকষ্টে আছে। তাদের মতে যাত্রা পালার মাঝে কিছু অসাধু শিল্পীর অশ্লীল কার্যকলাপের কারণে প্রশাসন যাত্রাপালার অনুমোদন দিতে চায় না। আর অনুমোদন না দেওয়ায় তাদের আয়ও দিন দিন কমে যাচ্ছে। তারা বলেন, সরকার তাদের প্রতি কিছুটা সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিলে তারা গ্রাম বাংলার এই ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে সক্ষম হবেন।

জানা গেছে,  এই এলাকায় সরকার অনুমোদিত ৪টি সংগঠনসহ সর্বমোট  ২১ থেকে ২৫টি সংগঠনের ৭ শ থেকে সাড়ে ৭ শত যাত্রাশিল্পী ছিলেন। তাদের প্রধান আয়ের উত্সই ছিল যাত্রাপালায় অভিনয়। তারা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে যাত্রায় অভিনয় করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। যাত্রাশিল্পীরা ১ থেকে ৬ মাস প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর কোনো একটি চরিত্রে অভিনয় করতে পারতেন। একটি যাত্রাপালা করতে গেলে ৩০ থেকে ৩৫টি চরিত্রের প্রয়োজন হতো। বর্তমানে মহাদেবপুর এলাকায় ১শর মতো যাত্রাশিল্পী আছেন যারা ব্যবসার পাশাপাশি যাত্রাপালায় অভিনয় করে থাকেন। এর মধ্যে  নিউ যমুনা, নবরুপা,নিউ জয়ন্তী ও কল্পনা অপেরার সরকারি অনুমোদন রয়েছে। তাদের কেন্দ্র করে  বাকী সব সংগঠন কাজ করে আসছে।

কথা হয় কয়েকজন যাত্রাশিল্পীর সঙ্গে। এর মধ্যে ছিলেন কল্পনা অপেরা যাত্রার শিল্পী গোপাল। তিনি যাত্রাপালায় রাজার অভিনয় করে থাকেন। তবে রাজা চরিত্রে অভিনয় করলেও বাস্তবে তিনি একজন মুদি দোকানি। ব্যবসার পাশাপাশি তিনি যাত্রায় অভিনয় করে থাকেন। পরিবারের আর্থিক চাহিদা মেটাতেই তাকে যাত্রার পাশাপাশি অন্য পেশা বেছে নিতে হয়েছে ।

কথা হয় কল্পনা অপেরার স্বত্তাধীকারী ও  বাংলাদেশ যাত্রা শিল্পী উন্নয়ন পরিষদের মানিকগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক লিটন ভূইয়ার সাথে। তিনি বলেন, আমরা যাত্রা মৌসুমে তিন মাস অভিনয় করি। আর বছরের বাকি ৯ মাস বেকার থেকে ধার দেনা করে চলি। আমি অন্য কোনো কাজ করতে পারি না। তবে আমাদের মধ্যে অনেকে রিকশা চালান অথবা মুদি দোকানদারি করে নয় মাস সংসার চালান। যারা  এসমস্ত কাজ করতে পারে না তারাই সেসময়টায় বেকার থাকেন। তাই এসমস্ত যাত্রাশিল্পীদের পূনর্বাসনের ব্যবস্থা করেন তিনি।