পাচ্ছি, না বঞ্চিত হচ্ছি সেই হিসেবই মেলাতে পারছি না

আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০২১, ০৪:৪৫

এক সময় দেশের সংগীতাঙ্গনে দাপটের সঙ্গে কাজ করেছেন সংগীতশিল্পী পলাশ সাজ্জাদ। ছিলেন শ্রোতাপ্রিয়তার শীর্ষে। ক্যারিয়ারের ঝুলিতে রয়েছে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ ২ শতাধিক অ্যালবাম। দীর্ঘ বিরতীর পর আবার গানে সরব হচ্ছেন তিনি। নিজের নতুন প্রকাশিতব্য গান ও সংগীত ইন্ডাস্ট্রির নানা বিষয় নিয়ে কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন এ এম রুবেল

দীর্ঘ বিরতীর পর আপনার নতুন গান প্রকাশ পাচ্ছে? গানটি নিয়ে আপনার প্রত্যাশা—

আমরা যারা গান করি, গান লিখি বা সুর করি তাদের সকলেরই প্রত্যাশা থাকে সকল শ্রেণির শ্রোতার কাছে যেন আমাদের সৃষ্টিটা যেন পৌঁছায়। আমার এই নতুন গানটি যেহেতুে মোলোডিয়াস ধরনের সেহেতু আমার মনে হয় গানটি সকলেই গ্রহণ করবেন। তবে করোনার কারণে গানটি শুধু ইউটিউবে প্রকাশ করছি। পরিস্থিতি ভালো হলে অন্য উপায়ে গানটি দর্শক-শ্রোতার কাছে কিভাবে পৌঁছে দেওয়া যায় সেটা নিয়ে চিন্তা করবো।

এক সময়ের জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা সংগীতশিল্পী পলাশ হটাত্ অনিয়মিত হয়ে পড়লেন। এ কারণ কী?

আপনারা জানেন আমি বেশ কিছুদিন দেশের বাইরে ছিলাম। যখন দেশে আবার ফিরে আসি তখন আমি আসলে নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ছিলাম। আমি কী গান নিয়েই থাকবো না অন্য প্রফেশনে যাবো, ঠিক করতে পারছিলাম না। তখন আমার কাছে মনে হতো আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে গান নিয়ে ক্যারিয়ার গড়া পাগলামি ছাড়া কিছু না। গানে নিয়মিত হতে পারবো কি-না এ নিয়েও নার্ভাস ছিলাম। তাছাড়া ব্যক্তিগত কিছু কারণও ছিল।

আবার দর্শকরা তাদের প্রিয় শিল্পীকে নিয়মিত পাবে কি-না?

দেখুন, অনেকদিন বিরতী দিয়ে কিন্তু আমি গতবছরও গান প্রকাশ করেছি। কিন্তু হটাত্ করোনার আঘাতে সবকিছু থমকে যায়। তবে আবারো নতুন করে কাজ শুরু করছি। এখন থেকে নিয়মিত গানের সঙ্গে থাকার ইচ্ছে রয়েছে। আশা করছি দর্শক-শ্রোতারা আমাকে আগের মতোই পাশে পাবেন।

ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন প্রজন্মকে নিয়ে অনেক বিতর্ক রয়েছে। আপনি ফিরেই নতুন তাদের সঙ্গে কাজ করলেন। অভিজ্ঞতা কেমন?

হ্যাঁ, আমিও শুনেছি এমন অনেক কথা। দেখুন, ভালো-খারাপ সব জায়গাতেই আছে। তবে আমি যাদের সঙ্গে কাজ করেছি তাদের কাছ থেকে বিতর্কিত হওয়ার মতো আচরণ পাইনি। বলতে পারেন নতুন প্রজন্মের সঙ্গে আমার অভিজ্ঞতা অনেক ভালো। পুরনো যারা আছেন তারা তো থাকবেনই পাশাপাশি নতুন যারা আছেন তাদের নিয়ে কাজ করলে সেখান থেকেও আমরা নতুন কিছু পাবো। নতুন অনেকেই আছেন যারা অনেক ভালো কাজ করছেন। আমার মনে হয় দ্বিধা না রেখে সকলে একসঙ্গে কাজ করলে ইন্ডাস্ট্রি আরো এগিয়ে যাবে।

সংগীত ইন্ডাস্ট্রির বর্তমান প্রেক্ষাপটকে কিভাবে মূলায়ন করবেন?

আমাদের মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি আসলে আর ইন্ডাস্ট্রির পর্যায়ে নেই। কারণ এক সময় অডিও চলতো, সিডি চলতো, এরপর এলো ইউটিউব। এখন আসলে আমরা শিল্পীরা কী পাচ্ছি, কতটা বঞ্চিত হচ্ছি সেই হিসেবই মেলাতে পারছি না। আমাদের এখন গাইড দেওয়া লোকের অভাব। যদিও বিভিন্ন সংগঠন বা গ্রুপ হচ্ছে কিন্তু কোনটা উপকারি আর কোনটা উপকারি না সেটাই আমরা বুঝতে পারছি না। সংগঠনগুলো কাজ করার পর যখন একজন শিল্পী বুঝতে পারবে যে, আমি আগে ভালো ছিলাম না, কিন্তু এখন ভালো আছি, তখনই আমরা বুঝবো সংগঠন করে আমাদের লাভ হয়েছে।

সংগীত ইন্ডাস্ট্রিতে আর কী দেওয়ার আছে বা পাওয়ার আছে বলে মনে হয়?

আমার বহুদিনের স্বপ্ন এমন একটি গান করবো যা আগামী ১শ’ বছর পরও মানুষ শুনবে। সংগীত ইন্ডাস্ট্রির ক্ষতি হয়, দেশের ক্ষতি হয় এমন কাজ না করে মানুষের কল্যাণে সামাজিক কাজে যুক্ত থাকার ইচ্ছে আছে।

ইত্তেফাক/বিএএফ