আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আগুন সন্ত্রাস আবার শুরু হয়েছে। জনগণ যখন উত্সবমুখর হয় তখন বিএনপির খুব খারাপ লাগে। তারা সেই উত্সবে পানি ঢালে। সেটাই বুধবার নয়াপল্টনে আমরা দেখলাম। বিএনপি তাদের স্বরূপে ফিরেছে। তারা আবার আগুন দিয়ে গাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে। তবে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করে লাভ হবে না। জনগণ আওয়ামী লীগের সঙ্গে আছে। নির্বাচন বানচালের চক্রান্ত জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিহত করা হবে। ২০১৪ ও ২০১৫ সালে চেষ্টা করেও সফল হয়নি, আগামীতে সফল হবে না। নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্রের পথ পরিহার করতে তিনি বিএনপির প্রতি আহ্বান জানান।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সংসদীয় বোর্ডের সভায় সূচনা বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচনে সব দল আসার ঘোষণায় দেশে যখন একটি উত্সবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তখনই নয়াপল্টনের ওই ঘটনা ঘটল। কোনো কথা নেই বার্তা নেই। সেখানে বিএনপির এক নেতা তার মিছিল নিয়ে এলো। সেখানে মারপিট হয়, এতে অনেক পুলিশ আহত হয়। তিনটা গাড়িও পোড়ালো। শেখ হাসিনা বলেন, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে তারা যে অগ্নিসন্ত্রাস করেছিল, আবার ঠিক সেই অগ্নিসন্ত্রাস শুরু করল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ চায়, একটা উত্সবমুখর পরিবেশে নির্বাচন হোক। যে নির্বাচনে তারা ভোট দিয়ে তাদের মন মত সরকার গঠন করবে। শেখ হাসিনা বলেন, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। যখন বাংলাদেশের সমস্ত মানুষ একটা আনন্দমুখর পরিবেশে, সবাই খুশি, নির্বাচন করবে, নির্বাচনে জনগণ ভোট দেবে, তাদের মনমত প্রার্থীকে জয়যুক্ত করবে, তখন এ ধরনের ঘটনা কাম্য নয়। তিনি বলেন, অনেকে দাবি করেছে, তাই ইসি নির্বাচনের সময় পিছিয়ে দিয়েছে।
মনোনয়ন প্রত্যাশী ৪ হাজার ২৩ জন প্রার্থীর বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের সঙ্গে কিছু কথা বলেছি, এতো প্রার্থীর মাঝে একজন প্রার্থী বেছে নেওয়া কঠিন কাজ। ৪ হাজারের মাঝে ৩০০ বেছে নেওয়া কঠিন কাজ। তারপরও আমরা মনোনয়ন বোর্ডে বসেছি। যাচাই-বাছাই করে ঠিক করবো। তিনি বলেন, আমি আশা করি, জনগণ নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে তাদের জীবনমানের উন্নয়ন নিশ্চিত করবে। জনগণ গত ১০ বছরে যে উন্নয়ন পেয়েছে, সেটা বিবেচনা করেই তারা নৌকায় ভোট দেবে।
প্রধানমন্ত্রীর সূচনা বক্তব্যের পর রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়। বৃহস্পতিবার থেকে এ প্রক্রিয়া শুরু করা হলো। এরপর ধারাবাহিকভাবে অনুষ্ঠিত হবে সংসদীয় বোর্ডের আরো সভা। এসব সভায় পর্যায়ক্রমে আলোচনা করে প্রার্থীদের মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হবে।
খুলনা-১ আসনে প্রার্থী হতে পারেন শেখ হাসিনা
প্রায় দুই যুগ পর আবারও খুলনা-১ আসনে প্রার্থী হতে পারেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ কথা এখন খুলনাবাসীর মুখে মুখে। দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহের প্রথম দিনে প্রধানমন্ত্রীর নামে সংগ্রহ করা দ্বিতীয় মনোনয়নপত্রটি কোন আসনের তা প্রচার না হওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে খুলনা-১ আসনেও তিনি নির্বাচন করবেন।
সমৃদ্ধশালী দেশ গড়তে সরকার কাজ করে যাচ্ছে
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, প্রজন্মের পর প্রজন্মের জন্য সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়তে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে। জাতির পিতা আমাদের কেবল স্বাধীনতাই দিয়ে যাননি তিনি আমাদের মর্যাদাও দিয়ে গেছেন। এই মর্যাদাকে আমাদের সমুন্নত রাখতে হবে। দেশের মর্যাদা সমুন্নত রাখতে এবং দেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত করতে সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিজয় সরণিতে বঙ্গবন্ধু সামরিক জাদুঘরের পাশে রাষ্ট্রীয় দেশি-বিদেশি উপহার সংরক্ষণ এবং প্রদর্শনীর জন্য নবনির্মিত ‘আধুনিক রাষ্ট্রীয় তোষাখানা ভবন’র উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব মোঃ নজিবুর রহমান, সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন, সেনাবাহিনী প্রকৌশল বিভাগের প্রধান মেজর জেনারেল সিদ্দিকুর রহমান সরকার অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানা, মন্ত্রী পরিষদ সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাবৃন্দ, কূটনৈতিক মিশনের সদস্যবৃন্দ, নৌ বাহিনী ও বিমানবাহিনী প্রধানগণ এবং ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী পরিষদ সচিব মোঃ শফিউল আলম অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
ছোট বোনকে বড় বোনের আদর
তাদের জনক, গোটা বাঙালি জাতিরও পিতা। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর বাঙালি জাতিকে একটি স্বাধীন দেশ উপহার দিয়েছিলেন। পৃথিবীর মানচিত্রে সেই দেশ পরিচিতি পায় ‘বাংলাদেশ’ হিসেবে। কিন্তু স্বাধীনতা লাভের তিন বছরের মাথায় এই দেশেরই গুটিকয় বিপথগামী প্রাণ কেড়ে নিলো সেই স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টার। কেড়ে নিলো তাদের জনককে, তাদের আদর-ভালোবাসার আশ্রয়স্থলকে। বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিকে পাশে রেখে ফ্রেমবন্দি তাঁর ?দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা।
রাজধানীর বিজয় সরণিতে নবনির্মিত ‘রাষ্ট্রীয় তোষাখানা ভবনে’ বাবার প্রতিকৃতি যেন সেই আদর-ভালোবাসার দিনগুলো স্মৃতিপটে এনে দিলো। বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিকে তাই মাঝে রেখে দুই বোন শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা ফিরে গেলেন যেন বাবার পাশে বসে কাটানো সেই মধুর দিনগুলোতে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক পর্যায়ে ছোট বোন শেখ রেহানার গালে আদুরে চুমুও এঁকে দেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজন সরকার প্রধান হয়েও তার পরিবার পরিজনকে সময় দিতে ভোলেন না। এর আগেও পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্মদিনে তার বিরিয়ানি রান্নার ছবি ভাইরাল হয়েছিল।
