টানা তিন বারের মত আওয়ামীলীগ আবারো ক্ষমতায়। এবার নারায়ণগঞ্জের মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা ধারণা করেছিল আধুনিক নারায়ণগঞ্জ গড়তে এবার একক ভাবে ক্ষমতায় আসা আওয়ামীলীগের দ্বন্দ্ব সংঘাত নিরসন হবে। নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনেই মহাজোটের প্রার্থীরা বিপুল ভোটের ব্যবধানে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীদের পরাজিত করার পর নব গঠিত আওয়ামীলীগের মন্ত্রী সভায় এই প্রথম নারায়ণগঞ্জ থেকে একজন পূর্ণমন্ত্রী হলেন। তাই আওয়ামীলীগের মতাদর্শে বিশ্বাসীরা মনে প্রাণে ভেবেছিলেন নারায়ণগঞ্জের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে জনপ্রতিনিধিরা অতীতের সকল মতভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করবেন। আওয়ামী লীগের ৩ এমপির পাশাপাশি জাতীয়পার্টির দুই এমপিও নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নে একহয়ে কাজ করার অঙ্গিকার করেছিলেন। সদর-বন্দর আসনের সাংসদ সেলিম ওসমান সাড়ে ৪ বছর যাবত সকল জনপ্রতিনিধিদের এক টেবিলে বসার আহবান জানিয়েও কোন সাড়া পাননি। নির্বাচনের পর যে আশা নিয়ে আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিল তা দিন দিন ম্লান হয়ে যাচ্ছে।
বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আওয়ামীলীগ একসাথে পালন না করায় সাধারণ নেতা-কর্মীরা হতাশ হয়ে পড়ে। নির্বাচনের পর নতুন মন্ত্রী সভায় নারায়ণগঞ্জের গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতিক) ঠাঁই পাওয়ার পর দিন যত যাচ্ছে দলে অনৈক্য দিন দিন যেন বেড়েই চলেছে। অথচ নেতা-কর্মীরা ভেবেছিলেন নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগের দ্বন্দ্ব নিরসন হতে চলেছে। একাদশ সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনে মহাজোটের প্রার্থীরা বিপুল ভোটে জয়লাভের নেপথ্যে নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নেমেছেন। অতীতের বিভেদ ভুলে দলীয় প্রধানের নির্দেশে নির্বাচনী মাঠে কাজ করায় মহাজোটের প্রার্থীরা বিজয়ী হতে পেরেছেন। আর প্রার্থীদের বিজয়ী করার পর বর্তমানে নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ঐক্যের সুবাতাস বইবে এমনটা সকলের কাম্য থাকলেও নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগে দ্বিধা বিভক্তি আরো বাড়ছে।
ইতিমধ্যে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীকে অভিনন্দন জানানো নিয়ে আওয়ামী লীগে দ্বিধা বিভক্তি দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতা-কর্মী মনে করে এই বিভাজনের ফলে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনে বিএনপির যে ভরাডুবি ঘটেছিল আওয়ামীলীগের দৃশ্যমান কোন্দলের কারণে বিএনপি নারায়ণগঞ্জে আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে। নারায়ণগঞ্জবাসী মনে করে আধুনিক নারায়ণগঞ্জ গড়তে এখানকার জনপ্রতিনিধিরা ব্যর্থ হলে ইতিহাসের পাতায় তারা ভিন্ন আঙ্গিকে চিহূিত হয়ে থাকবে। কারণ আওয়ামীলীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাধিক বার বলেছেন, নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নে আমি সব কিছু করব। এই উন্নয়ন যদি না হয় তার জন্য বর্তমান জনপ্রতিনিধিদের কোন্দলই দায়ি হিসাবে চিহূিত হয়ে থাকবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন।
