মানিক স্যারের দুই মেয়ে। কুসুম আর কাজল। ওরা পড়াশোনায় বেশ ভালো। ওদের আরেকটা গুণ আছে। দু বোনই চমত্কার ছবি আঁকে। এখন ওদের মন ভালো নেই। স্কুল বন্ধ। বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হয় না। সব জায়গায় যাওযা নিষেধ। করোনা মহামারি সব শান্তি নষ্ট করে দিয়েছে। সেদিন ওদের সামনের মাঠে স্কুলের ড্রয়িং স্যারের সঙ্গে দেখা। কুশল বিনিময় হলো। হঠাত্ স্যার বললেন, কী রে কুসুম ছবি আঁকছিস তো?
কুসুম বলল, হ্যাঁ স্যার আঁকছি।
স্যার বললেন, একটা বাঘের ছবি আঁকিস তো।
কুসুম অবাক হয়ে বলল, বাঘের ছবি?
হ্যাঁ। অবশ্যই আঁকবি।
কুসুম সারাক্ষণ বাঘের কথাই ভাবে। কাজল বলে, আপু তুমি কী এত ভাবছ?
কুসুম বলে, আর বলিস না; স্যার বলেছেন বাঘের ছবি আঁকতে।
আপু, আঁকতে পারবে?
চেষ্টা তো করতে হবে।
কুসুম কোনোদিন বাঘ দেখেনি। বাঘের ছবি দেখেছে। ওদের হিজলপুর গ্রামে চিড়িয়াখানা নেই। সেজন্য ওদের কোনো দুঃখ নেই। দোয়েল শ্যামা নিয়ে ওরা বেশ আছে। আকাশ ভরা মেঘ নিয়ে ওদের সময় বেশ কেটে যায়। সেদিন দুপুরে বিছানায় শুয়ে শুয়ে বাঘের কথাই ভাবছিল কুসুম। হঠাত্ ওর চোখ পড়ল ছাদের ওপর। ওদের ছাদটা অনেক পুরনো। বহুদিন রং করা হয়নি। হঠাত্ ছাদের মাঝে দেখল বাঘের মতো একটা মুখ। কুসুম তো খুশিতে আত্মহারা হয়ে গেল। ভাবল, বাঘের ছবি আঁকতে পারবে বোধহয়। কাগজ-পেন্সিল নিয়ে বসে গেল কুসুম। একটা বাঘের ছবি এঁকেও ফেলল। বাবার কাছে দৌড়ে গেল, বাবা দেখো তো বাঘের ছবি হয়েছে কি না।
বাবা দেখে অবাক। বলল, হ্যাঁ হয়েছে তো। ভালোই হয়েছে। কেমন করে আঁকলি মা?
কুসুম হাসল। কুসুম বলল, যা তো কাজল রং-তুলির বাক্সটা নিয়ে আয় তো।
কাজল দৌড়ে গিয়ে এনে দিল। কুসুম বসে পড়ল রং করতে। রং করার পর ভালোই হলো বাঘের ছবিটা। স্যারকে না দেখানো পর্যন্ত আনন্দ হচ্ছে না কুসুমের। পরের দিন ড্রয়িং স্যারের কাছে গেল। হাতে খাতা।
স্যার অবাক, কী রে কুসুম এত সুন্দর বাঘ এঁকে ফেললি।
একটু লজ্জা পেল কুসুম। অনেক পাখির ছবি এঁকেছে কুসুম। সেগুলোও স্যারকে দেখাল। স্যার খুব খুশি হলেন। বললেন, তুই বড় শিল্পী হবি কুসুম।
বিকালে বাবা বললেন, চল কুসুম কাজল তোদের একটু নদীর ধারে নিয়ে যাই।
কেন বাবা?
বাসাতেই বসে থাকিস। চল একটু ঘুরে আসি।
ওরা এলো রূপসা নদীর ধারে। মনটা ভালো হয়ে গেল ওদের। বাবা বললেন, তোরা ইচ্ছা করলে নদীর ছবি আঁকতে পারিস। আমাদের দেশ তো নদ-নদীতে ভরা। নৌকা আঁকবি। মাছ আঁকবি। এভাবে অনেক ছবি আঁকার জিনিস পেয়ে যাবি।
কুসুম কাজল ভাবল, তাই তো কত কিছু আঁকার আছে। ওরা এখন নতুন করে ভাববে। পালতোলা নৌকা বাদ যাবে কেন? বলল কাজল।
তাই তো ঠিক বলেছিস তুই। হেসে বলল কুসুম।
