ঢাকা কলেজে পড়ার আকাশচুম্বী স্বপ্ন নিয়ে গ্রাম ছেড়ে চলে আসি রাজধানীতে। আমার বড় ভাই জি এম সম্রাট পুরান ঢাকায় একটি মেসে থেকে সোহরাওয়ার্দী কলেজে লেখাপড়া করেন। সেই মেসেই আমার ঠাঁই হলো বড় ভাইয়ের কাছে। আমার স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিল। আমি ঢাকা কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেলাম। ক্লাস শুরু হলো। লেখাপড়ার পাশাপাশি টিউশনি কিংবা কিছু একটা করে লেখাপড়ার ব্যয়ভার মেটাতে হবে এমন লক্ষ্য নিয়েই ঢাকায় পড়তে আসা। নতুন পরিবেশ। তখনো বন্ধুবান্ধব খুব একটা গজায়নি। বাড়ি থেকে নিয়ে আসা টাকাকড়ি প্রায় শেষের দিকে। দুর্ভাবনার বোঝাটা দিনে দিনে ভারী হতে থাকে। তাই পাঠাগার কিংবা চায়ের দোকানে পত্রিকার পাতা উলটিয়ে প্রতিদিন টিউশনি খুঁজতে থাকি। একদিন ‘গৃহশিক্ষক চাই’ দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত এমন একটি ছোট্ট বিজ্ঞাপন চোখে পড়ে। ইত্তেফাকে প্রকাশিত সেই বিজ্ঞাপনের সূত্র ধরেই একটি টিউশনি মিলে যায়। সেই টিউশনিটা ছিল আমার শিক্ষাজীবনে অন্ধকারে আলোর ঝলকানির মতো। এখান থেকেই আমার উপার্জনের যাত্রা শুরু। এরপর আরো টিউশনির সন্ধান মেলে। আমি স্বচ্ছন্দে লেখাপড়া চালিয়ে যাই। সেই থেকেই ‘ইত্তেফাক’ হয়ে যায় আমার প্রিয় পত্রিকা; হয়ে যাই ইত্তেফাকের ভক্ত এবং নিয়মিত পাঠক।
কলেজের শিক্ষা শেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা সমাপন। একটি বেসরকারি কলেজের অধ্যাপনা দিয়ে শুরু হয় আমার কর্মজীবন। ১৯৮৭ সালে গ্রাম থেকে শহরে আসা সেই ‘আমি’ পেশা বদলের মধ্য দিয়ে অনেক ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে সফলতার মুখ দেখতে পাই। অনেকেই বলেন, আমি নাকি আজ একজন প্রতিষ্ঠিত আইনজীবী, সফল ব্যবসায়ী। পাশাপাশি সমাজসেবাও করছি। কিন্তু আজও আমার অন্যতম প্রিয় ও পছন্দের পত্রিকা ‘ইত্তেফাক’। শুধু অন্যতম পছন্দের পত্রিকাই নয়। এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণাও বটে। খান অ্যাসোসিয়েটসের সিইও, ইফাজ তাহিয়া এগ্রোফার্ম নামে দুটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমি। আমার সফলতা ও এগিয়ে যাওয়ার পথে ইত্তেফাকের অনুপ্রেরণা ও অবদান অনস্বীকার্য বলে আমি আজও ইত্তেফাক পড়ছি এবং ভবিষ্যতেও ইত্তেফাক আমার প্রিয় পত্রিকা হয়েই থাকবে।
সকালে এক কাপ চা আর ইত্তেফাক না হলে দিনটাই যেন জমে ওঠে না। ইত্তেফাকের আমি এতটাই ভক্ত। শুধু আমি নই, আমার পরিবারের সদস্যরাও ইত্তেফাকের পাঠক। আমার প্রতিষ্ঠানেও আমি নিয়মিত ইত্তেফাক রাখছি। প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সবাই ইত্তেফাকের পাঠক। আমি কেবল ইত্তেফাকের একজন ভক্ত ও নিয়মিত পাঠকই নই, ইত্তেফাক ছাড়া অন্য পত্রিকা পড়লে আমার কাছে অসম্পূর্ণ থেকে যায়। জাতীয় স্বার্থে জনগণকে ট্যাক্স প্রদানে অনুপ্রাণিত করতে একজন আয়কর আইনজীবী হিসেবে আমার কথা হলো ইত্তেফাক—আমার আপনার সবার। ইত্তেফাক আমার মতো হাজার হাজার পাঠকের পত্রিকা।
কিংবদন্তি সাংবাদিক তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত দৈনিক ইত্তেফাক এদেশের ঐতিহ্যের স্মারক। প্রতিটি মুক্তি আন্দোলনে পত্রিকাটির অসামান্য অবদান রয়েছে, ইত্তেফাকের ৬৮ বছরের ইতিহাস এ কথাই বলে। আর মুক্তিযুদ্ধের কথা তো একেবারেই আলাদা। আরো আধুনিকতা, আরো উপযোগিতা, আরো তথ্যবহুল সংবাদ নিয়ে দেশের ঐতিহ্যবাহী কাগজ দৈনিক ইত্তেফাকের পথচলা অব্যাহত থাকবে, একজন ভক্ত পাঠক হিসেবে এটাই আমার প্রত্যাশা।
দেশের প্রাচীনতম ঐতিহ্যবাহী পত্রিকা হিসেবে সুনাম ও আভিজাত্যের ধারা অব্যাহত রেখে দৈনিক ইত্তেফাক অনন্তকাল টিকে থাকবে, এমনটিই প্রত্যাশা। ইত্তেফাকের ৬৮ বছরে পদার্পণকে অভিনন্দন জানিয়ে আরো বলতে চাই, ইত্তেফাক হোক আরো পাঠকসমাদৃত, আরো সমৃদ্ধ, আরো আধুনিক, আরো উন্নত। আরো সফলতা আসুক ইত্তেফাক পরিবারে।’
n লেখক :আয়কর আইনজীবী
