করোনা:ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডে নতুনভাবে লকডাউন জারি

আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০২১, ২১:৫০

সংক্রমণ রুখতে শাটডাউন দীর্ঘায়িত করছে জার্মানি

 রয়টার্স ও এএফপি

করোনা ভাইরাসের অতি সংক্রামক একটি ধরন ছড়িয়ে পড়ার পর আক্রান্ত ও রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়তে শুরু করায় ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডে নতুন করে লকডাউন জারি করা হয়েছে। এদিকে ইউরোপের শীর্ষ অর্থনীতির দেশ জার্মানি করোনা নিয়ন্ত্রণে শাটডাউন আরো দীর্ঘায়িত করছে।

টিকা কর্মসূচি লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছানোর আগেই বাড়তে থাকা কোভিড-১৯ সংক্রমণে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়ায় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন সোমবার ইংল্যান্ড জুড়ে লকডাউন জারির আদেশ দেন। নতুন এই লকডাউন ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত জারি থাকতে পারে বলে তিনি জানান। এ সময় ইংল্যান্ডের প্রত্যেক বাসিন্দাকে বাধ্যতামূলকভাবে বাসায় অবস্থান করতে হবে, শুধু অনুমোদিত কারণে বাইরে বের হওয়া যাবে। সব স্কুল, কলেজ বন্ধ থাকবে, তবে দূরশিক্ষণ চলবে। ইংল্যান্ডের লকডাউনের নিয়মগুলো বুধবার আইনে পরিণত হবে, কিন্তু তার আগেই জনগণকে অবিলম্বে সেগুলো অনুসরণ করতে বলেছেন জনসন।

আক্রান্ত ও রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় সামনের সপ্তাহগুলো ‘সবচেয়ে কঠিন’ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন জনসন। তিনি জানান, যে চারটি দলকে অগ্রাধিকারভিত্তিতে করোনা ভাইরাস টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া হবে তা আগামী মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হতে পারে। মধ্য ফেব্রুয়ারির মধ্যে সব বৃদ্ধনিবাসের সব বাসিন্দা ও তাদের সেবাদানকারীদের, সত্তরোর্ধ্ব সব নাগরিকদের, সামনের সারিতে থাকা স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের এবং চিকিত্সাগতভাবে ঝুঁকির মুখে থাকা রোগীদের করোনা টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া হবে। স্কটল্যান্ডের আগেই ‘স্টে-অ্যাট-হোম’ নির্দেশ জারি করে। ওয়েলস জানিয়েছে, অধিকাংশ শিক্ষার্থীর জন্য ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকবে। নর্দান আয়ারল্যান্ডের স্কুলগুলোর ‘দূর শিক্ষণ বর্ধিত সময়ের’ জন্যও অব্যাহত থাকবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

এদিকে ইউরোপের শীর্ষ অর্থনীতির দেশ জার্মানি করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে শাটডাউন দীর্ঘায়িত করছে। জার্মান চ্যান্সেলর এঙ্গেলা মার্কেল ও দেশটির ১৬ রাজ্যের প্রধানমন্ত্রীরা মঙ্গলবার এ লক্ষ্যে বৈঠক করেন। তারা ১০ জানুয়ারির পরও বর্তমান আংশিক লকডাউন জারি রাখতে চান। দেশটিতে ৩০ ডিসেম্বর প্রথমবারের মতো সর্বোচ্চ মৃত্যু সংখ্যা ১ হাজার ছাড়িয়েছে। জার্মানিতে এ পর্যন্ত ৩৪ হাজারেরও বেশি লোক করোনায় মারা গেছে। দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেন্স স্পান বলেছেন, সংক্রমণ হার এখনো অনেক বেশি। নিষেধাজ্ঞা আরো বাড়ানো প্রয়োজন হবে। দেশটিতে ২৬ ডিসেম্বর টিকা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ পর্যন্ত ২ লাখ ৬৪ হাজারেরও বেশি লোককে টিকা দেওয়া হয়েছে।