জয়পুরহাটে ‘আদর্শ ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি’ নামের একটি সমিতি গ্রাহকদের প্রায় ৯ কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছে। শহরের মাস্টারপাড়া এলাকায় অবস্থিত ঐ সমবায় সমিতি গ্রাহকদের টাকা নিয়ে ৩১ ডিসেম্বর রাতে উধাও হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বিনিময় আদর্শ ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির ম্যানেজার পূজা রানী জানান, স্থানীয় জেলা সমবায় অফিস ২০১১ সালের ১৮ আগস্ট মাসে ৪১৯ নম্বর ও ২০১৪ সালের ১২ নভেম্বর ৬০৯ নম্বর রেজিস্ট্রেশন গ্রহণ করে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন মাস্টারপাড়া এলাকার দুলু সরদারের ছেলে রাহাত সরদার সবুজ (৪৮)। এখানে লাখে প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা লাভ দেওয়ার কথা বলে আমানত সংগ্রহ করা হয়। ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সমিতির বর্তমানে স্থায়ী আমানত, মাসিক ও দৈনিক সঞ্চয় মিলে মোট ৫০২ জন সদস্যের ৮ কোটি ৭৩ লাখ ৫৪ হাজার ২৪৫ টাকা আমানত রয়েছে। এর মধ্যে সমিতির স্থায়ী আমানতকারী হচ্ছেন ৪১৮ জন। আমানতের পরিমাণ ৮ কোটি ৬৫ লাখ ৮ হাজার ২০ টাকা। এছাড়াও সঞ্চয় সদস্য রয়েছেন ৮৪ জন। এদের সঞ্চয়ের পরিমাণ ৮ লাখ ৪৬ হাজার ২২৫ টাকা। ১৯ জন কর্মচারী থাকলেও তারা তিন মাস ধরে বেতন ভাতা পাননি। পূর্ব পরিকল্পিতভাবে কয়েক দিন আগেই অফিসের সাইনবোর্ড ও এসি খোলা হলেও কর্মচারীরা কিছুই বুঝতে পারেননি বলে জানান পূজা রানী । নিজের ও পরিবারের সদস্য মিলে ৮ লাখ টাকা আমানত রেখেছেন বলে দাবি করেন তিনি। উধাও হওয়ার খবর শুনে ছুটে আসেন সদস্যরা। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রথম দিকে আমানতের বিপরীতে লাভ দেওয়া হলেও গত বছর থেকে আর পাচ্ছেন না। যোগাযোগ করা হলে রাহাত সরদার সবুজ গ্রাহদের বলেন করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে একটু সমস্যা হয়েছে। টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিলেও টাকা দিতে গড়িমসি করতে থাকেন। এর মধ্যে ৩১ ডিসেম্বর অফিসের কর্মচারীদের সঙ্গে যোগাযোগের পর মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। বিনিময় আদর্শ ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির জয়পুরহাট ছাড়াও ধামইরহাট, পাঁচবিবিতে শাখা রয়েছে। ঢাকা, রাজশাহী, নওগাঁ, হিলি, আক্কেলপুর ও ধামইরহাট মিলে বর্তমানে আমানতকারীর সংখ্যা হচ্ছে ৫০২ জন। গতকাল মঙ্গলবার টাকা ফেরত নিতে আসা আমানতকারীদের সঙ্গে কথা বলার সময় অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এলজিইডির অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক অবসরের সবটুকু ৫০ লাখ ৭০ হাজার টাকা এখানে রাখেন অধিক মুনাফা লাভের আশায়। হারুনুর রশিদ ২ লাখ ১৫ হাজার টাকা, বোনের বিয়ের জন্য টাকা জমাকারী পান দোকানী আলম হোসেন প্রতিদিন ৩০০ করে ৩ লাখ টাকা জমা করেছেন বলে জানান। আউসগাড়া এলাকার আনিসুর রহমান ৫ লাখ, লিলি বেগম ১ লাখ টাকা জমা রাখেন।
জেলা সমবায় কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন সিরাজী জানান, জেলা সমবায় অফিসের অডিটর জাহাঙ্গীর হোসেনকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এরকম গ্রাহকের আমানত নিয়ে উধাও হওয়ার মতো সমবায় সমিতির তালিকা তৈরি করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণসহ মনিটরিং কার্যক্রম আরো জোরদার করার কথা জানান তিনি। এ ব্যাপারে বিনিময় আদর্শ ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির পরিচালক রাহাত সরদার সবুজের মোবাইল ফোনে (০১৩১২৪৪৯৩১৪) যোগাযোগ করার চেষ্টা করে তা বন্ধ পাওয়া যায়।
