রাশিয়া থেকে পাচার করে আনা ২ পাউন্ড ইউরেনিয়াম দেশে কাদের ব্যবহার করার কথা ছিল—তা এখনো অজানা। ২ পাউন্ড ইউরেনিয়ামসহ গ্রেফতারকৃত তিন জন জিজ্ঞাসাবাদে কোনো তথ্যই দিতে পারেনি। র্যাব বলছে, গ্রেফতারকৃতরা ইউরেনিয়াম বহনকারী ছিলেন। তাদের কাছে একটি চক্র ঐ ২ পাউন্ড ইউরেনিয়াম রাখতে দিয়েছে। সেটি কাদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল—সে বিষয়ে গ্রেফতারকৃতরা কিছুই জানেন না। তবে জিজ্ঞাসাবাদে তারা দীর্ঘদিন ধরে বিদেশ থেকে ইউরেনিয়াম এনে অন্য দেশে পাচার করার তথ্য স্বীকার করেছেন। এই ইউরেনিয়াম ওষুধ শিল্প ও চিকিত্সা বিজ্ঞানে ব্যবহারের জন্য তারা এটি পার্শ্ববর্তী একটি দেশে পাচার করা হতো বলে তারা জানিয়েছেন। গত ২৮ ডিসেম্বর রাজধানীর রামপুরা থানার পূর্ব রামপুরার জাকের গলির একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৫৫ কোটি টাকা মূল্যের ইউরেনিয়ামসহ তিন জনকে গ্রেফতার করে র্যাব। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, এ বি এম সিদ্দিকী বাপ্পী , আক্তারুজ্জামান ও মিজানুর রহমান।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, উদ্ধারকৃত ইউরেনিয়াম যে প্রকৃতপক্ষে ইউরেনিয়াম, সেটি আমরা এখনো নিশ্চিত নই। এটি পরীক্ষার জন্য রামপুরা থানা পুলিশের মাধ্যমে পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষায় যদি নিশ্চিত হওয়া যায় যে, সেটি ইউরেনিয়াম—তখন এ ব্যাপারে গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ মামলা দায়ের করা হবে। তবে গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তেমন কোনো তথ্য মিলেনি।
এদিকে, পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. সানোয়ার হোসেন বলেন, পুলিশের কাছ থেকে ইউরেনিয়াম পরীক্ষার জন্য আলামত পাঠানো হয়েছে। সেটি পরীক্ষার পর নিশ্চিত করে বলা যাবে যে, এটি ইউরেনিয়াম কি না। তবে অতীতে বাংলাদেশে এ ধরনের ইউরেনিয়ামের দুয়েকটি চালান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়েছিল।
সূত্র জানায়, পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের বিকিরণ উন্নয়ন সেলে এই ইউরেনিয়াম পরীক্ষা করা হবে। বিকিরণ উন্নয়ন সেলের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইউরেনিয়ামের বিকিরণের ক্ষমতার ওপর এর তেজষ্ক্রিয়তা নির্ভর করে। বিশেষ করে উচ্চমাত্রার বিকিরণের ইউরেনিয়াম খুবই ভয়ংকর। ইউরেনিয়াম সংরক্ষণ ও বহন করতে হয় অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে। অতীতে বাংলাদেশে যেসব ইউরেনিয়াম জব্দ হয়েছে, সেসব সাধারণত পারমাণবিক বিদ্যুেকন্দ্রে ব্যবহার হয়ে থাকে।
র্যাব-১০-এর উপঅধিনায়ক মেজর শাহরিয়ার জিয়াউর রহমান বলেন, ‘আমরা যে ইউরেনিয়াম জব্দ করেছি, তা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সংরক্ষণ করা হচ্ছিল। যা একটি চামড়ার তৈরি বড় বক্সের মধ্যে সংরক্ষণ ছিল। এ থেকে একটি স্টিলের বক্স, রিমোর্ট, ম্যানুয়েল বই, গ্যাস মাস্ক, ইলেকট্রিক মিটার, রাবারের ড্রপার, স্টিলের ঢাকনাযুক্ত কাচেরপট, কাঁচি, মিটার, কম্পাস, মেটাল ছাঁকনি, ক্যাটালগ, এক জোড়া হ্যান্ড গ্লাভস, চামড়ার জ্যাকেট (গ্রাউন), দুটি পাইপ, ও পাঁচটি কাচের তৈরি ছোট চিকন পাইপ জব্দ করা হয়েছে।
