যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ইলেক্ট জো বাইডেনকে চূড়ান্ত অনুমোদন দিতে স্থানীয় সময় ৬ জানুয়ারি কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশন বসবে। কংগ্রেসে আনুষ্ঠানিকভাবে ইলেকটোরাল কলেজের ভোট গণনা হবে। অধিবেশন উপলক্ষ্যে প্রেসেডন্ট ট্রাম্পের সমর্থক গলযোগে লিপ্ত হতে পারেন এই আশংকায় ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে জর্জিয়ায় দু’জন সিনেটর নির্বাচনে উত্তেজনার মধ্যেই ভোট গ্রহণ চলছে। খবর সিএনএন ও ভয়েস অব আমেরিকার
৩ ডিসেম্বর ভোটাভুটির পর গত ১৪ ডিসেম্বরের চূড়ান্ত গণনায় জো বাইডেন ৩০৬টি ও ডোনাল্ড ট্রাম্প ২৩২টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট পেয়েছেন। আগামী ২০ জানুয়ারি শপথ নিতে যাচ্ছেন জো বাইডেন। তবে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো হোয়াইট হাউজ ছাড়তে রাজি নন। ট্রাম্প নির্বাচনের ফল পালটে দিতেই সবচেয়ে বেশি ব্যস্ত। এখন পর্যন্ত তার আইনি লড়াইয়ের প্রতিটি প্রচেষ্টাই ব্যর্থ হয়েছে। এরই মধ্যে ১১ জন রিপাবলিকান সিনেটর জো বাইডেনের জয়কে স্বীকৃতি দেবেন না বলে জানিয়েছেন।
কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে কোনো সদস্য চাইলে কোনো রাজ্যের নির্বাচনি ভোটের ফল নিয়ে আপত্তি তুলতে পারবেন। যদি কোনো রাজ্যের একজন সিনেটর ও একজন হাউজ সদস্য একসঙ্গে ওই রাজ্যের ভোট নিয়ে আপত্তি তোলে, তবে এ নিয়ে অধিবেশনে দুই ঘণ্টার বিতর্ক চলবে। বিতর্কের পরে সব সদস্য ভোট দেবেন। যদি হাউজ ও সিনেট উভয়েরই সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যরা ভোটের বিরুদ্ধে মত দেন, তবে নির্বাচন বাতিল ঘোষণা করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রে ১৮৮৭ সালের পর আর কোনো নির্বাচনে এমন ঘটনা ঘটেনি।
ওয়াশিংটনে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সমর্থকরা গতকাল মঙ্গলবার ও আজ বুধবার ওয়াশিংটন ডিসিতে অপ্রমাণিত ব্যাপক ভোট জালিয়াতির সমর্থনে বিক্ষোভের কর্মসূচি নিয়েছে। সম্ভব্য সহিংসতার আশংকায় ডিসির মেয়র মিউরিয়েল বাউজার ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের অনুরোধ জানিয়েছেন এবং মেয়র বাউজার এলাকার লোকজনকে ডাউন টাউন ডিসি থেকে সরে থাকার ও যে কেউ হামলা চালাতে চায় তার কাছ থেকে দূরে থাকবার পরামর্শ দিয়েছেন। ডিসির ভারপ্রাপ্ত পুলিশ প্রধান রবার্ট কোনটি বলেছেন, সশস্ত্র লোকদের শহরে প্রবেশের প্রবণতা বাড়ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও এই বিক্ষোভে সামিল হতে চান বলে জানিয়েছেন।
জর্জিয়ায় উত্তেজনার ভোট
মার্কিন সিনেটে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি না কী রিপাবলিকান পার্টি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে তা নির্ধারণ করবে এই রাজ্যের ভোট। এটা রিপাবলিকান রাজ্য বলে পরিচিত হলেও সামান্য ভোটের ব্যবধানে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী জো বাইডেন জিতেছেন। গত নভেম্বরের নির্বাচনে দু’টি সিনেটর পদে কেউ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় ফের ভোটাভুটি হচ্ছে। গতকাল ভোটের লাইনে অনেককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। জরিপে দেখা যায়, ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী জন অসফ এবং রাফায়েল ওয়ার্নোক সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে। রিপাবলিকান প্রার্থী ডেভিড পারডু এবং কেলি লফলার দু’জন অথবা এদের একজনও বিজয়ী হলে রিপাবলিকান পার্টিকে সিনেটে সম্পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা এনে দেবে এবং সিনেটের এজেন্ডা নির্ধারণ ও আইনসভা কমিটিতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের অধিকার প্রদান করবে। অন্যদিকে জন অসফ এবং রাফায়েল ওয়ার্নোক উভয় প্রার্থী বিজয়ী হলে সিনেটে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ও রিপাবলিকান পার্টি সমান আসন পাবে। অর্থাত্ আসন দাঁড়াবে ৫০-৫০ এ। তখন কমলা হ্যারিস ভাইস প্রেসিডেন্ট ভোট প্রদানের মাধ্যমে ব্যবধান আনবেন। এভাবে কমিটি পরিচালনা ও আইনি সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।
