আসুন মানবিক হই, শীতার্তদের পাশে দাঁড়াই

আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০২১, ২১:২১

সমগ্র বিশ্বে করোনা মহামারিতে অসংখ্য লোক প্রাণ হারিয়েছে। আমাদের নিজ দেশেও অনেক লোক আক্রান্ত হয়েছে। সারা দেশ এখনো থমকে আছে। আর এই করোনা পরিস্থিতির মাঝেই দেখা দিয়েছে মৃদু শৈতপ্রবাহ। বিভিন্ন জেলায় এমন অনেক মানুষ আজও অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। তাদের মৌলিক চাহিদাগুলোর অভাব। অনেক মানুষ শীতবস্ত্র, বাসস্থান, খাদ্য ইত্যাদির অভাবে কষ্টে দিন কাটাচ্ছে।

প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মেই ঋতুর পালাবদল ঘটে। কিন্তু মাঝে মাঝে প্রকৃতির রূঢ় আচরণ মানুষের অসহায়ত্বকে বড় করে দেখিয়ে দেয়। হিমেল হাওয়া ও তীব্র শৈত্যপ্রবাহ দরিদ্র জনগোষ্ঠী-অধ্যুষিত অঞ্চলে বিরূপ প্রভাব ফেলে। হতদরিদ্র অনেক মানুষেরই প্রচণ্ড শীতের প্রকোপ থেকে আত্মরক্ষার জন্য ন্যূনতম শীতবস্ত্র, খাদ্যদ্রব্য, উপযুক্ত আশ্রয় বা বাসস্থানের সুবিধা থাকে না। চরম ভোগান্তিতে পড়ে সারা দেশের মানুষ।

বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্য চলমান শৈত্যপ্রবাহ দুর্ভোগ বাড়িয়ে তুলেছে। শীত মৌসুম কেটে যাওয়ার আগে আরো শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা আছে। শীতের দুর্ভোগ আরো বাড়তে পারে। গত কয়েক দিনের শৈত্যপ্রবাহে সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছে উত্তরাঞ্চলের গ্রামের অভাবী ও গরিব মানুষ।

আমাদের একটু সহায়তা লাঘব করতে পারে তাদের কষ্ট ও দুর্বিষহ জীবন। আর নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষকে প্রতিদিন শীতের তীব্রতা উপেক্ষা করেই কাজের খোঁজে বের হতে হচ্ছে। ছিন্নমূল মানুষ, যাদের রাত কাটাতে হয় খোলা আকাশের নিচে, তারা আরো বেশি অসহায়। নেই তাদের শীতবস্ত্র। মাথার ওপর কোনো ছাউনি। সরকার ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে শীতার্তদের মধ্যে শীতবস্ত্র ও কম্বল বিতরণ করা হচ্ছে। ব্যক্তিগত উদ্যোগেও বিতরণ করা হচ্ছে শীতবস্ত্র ও কম্বল। কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট নয়। কাজেই শীতবস্ত্র বিতরণ আরো বাড়াতে হবে। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ এ ব্যাপারে বড় কর্মসূচি হাতে নিতে পারে। ব্যক্তি পর্যায়ে অনেকেরই প্রয়োজনের অতিরিক্ত শীতবস্ত্র আছে, যা অসহায় দরিদ্র মানুষের হাতে তুলে দেওয়া যেতে পারে।

তাই আসুন, আমরা যারা বিত্তবান আছি, আমাদের জন্য এটা একটা মোক্ষম সময়, যার সদ্ব্যবহার করতে পারলে অসহায় ভাইবোনদেরও সাহায্য করা হবে, আবার মহান আল্লাহরও সন্তুষ্টি অর্জন করা যাবে। করোনার কারণে মানুষের আর্থিক অবস্থা এমনিতে খারাপ, তার ওপর শীতের প্রকোপ। এই অবস্থায় সামর্থ্যবানদের অবশ্যই উচিত গরিব ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান।

n লেখক :শিক্ষার্থী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ