একসময় আমরা চাল উত্পাদনে পিছিয়ে ছিলাম। কিন্তু আজ প্রেক্ষাপট ভিন্ন। শ্রীলঙ্কায় চাল রপ্তানি দিয়ে শুরু করে বাংলাদেশ বিশ্বে চাল রপ্তানিকারক দেশ হিসাবে পরিচিত। চাল উত্পাদনে আমরা বিশ্বে তৃতীয় অবস্থানে আছি। জনপ্রিয় সবজি আলু উত্পাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে সপ্তম। ইলিশ উত্পাদনে ১ নম্বর স্থানটি আজো বাংলাদেশের। গবাদিপশু উত্পাদনে বিশ্বে ১২তম অবস্থানে আমার দেশ। ছাগলের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং মাংস উত্পাদনে অবস্থান চতুর্থ আর ছাগলের দুধ উত্পাদনে বিশ্বে দুই নম্বর স্থানে। সবজি উত্পাদনে এদেশের অবস্থান বিশ্বে তৃতীয়। দেশে এখন ৬০ ধরনের ২০০ জাতের সবজি উত্পাদন হচ্ছে। এরপর আসা যাক বস্ত্রের দিকে। এখানেও পুরো পৃথিবীতে এদেশের জয়জয়কার। তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশ বিশ্বে দ্বিতীয়। পাট উত্পাদনে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা সত্ত্বেও পাট এবং পাটজাত পণ্য রপ্তানিতে বিশ্বে বাংলার অবস্থান প্রথম। জনশক্তি রপ্তানি এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয়ে বাংলাদেশ বিশ্বে অষ্টম। খেলাধুলার দিকে দৃষ্টি ফেরাই। ক্রিকেট-বিশ্বে সপ্তম স্থান আমাদের। বাংলাদেশ অনুর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। মৌসুমি ফল উত্পাদনে বাংলাদেশ ১০ম। আম উত্পাদনে ৯ম এবং পেয়ারায় ৮ম, আর জাতীয় ফল কাঁঠাল উত্পাদনে দ্বিতীয়। মাছে ভাতে বাঙালি—সেই প্রবাদ আজো বাংলাদেশের সঙ্গেই যায়, কেননা মাছ উত্পাদনে চতুর্থ। এছাড়া অর্থনীতির অন্যতম সূচক জিডিপির প্রবৃদ্ধির এককে বাংলাদেশ বিশ্বে ষষ্ঠ। এমনি নানা এককে বাংলাদেশ এগিয়ে।
আজ বাংলাদেশ নিজেই বড় বড় জাহাজ বানাচ্ছে। বাংলাদেশে টানেল নির্মাণ হচ্ছে, গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ হচ্ছে, মেট্রোরেল হচ্ছে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র হচ্ছে। এছাড়া আজ বাংলাদেশ পদ্মা সেতুর মালিক। আমরা স্যাটেলাইট উেক্ষপণকারী দেশ হিসাবেও বিশ্বে জায়গা করে নিয়েছি। মানুষ ঘরে বসেই অনলাইনে সব কাজ সেরে ফেলতে পারছে। যার ফলে আউটসোর্সিং আয়ের দিক থেকে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান অষ্টম। বাংলাদেশকে ছোট করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। কয়েকটা অপ্রাপ্তিকে বড় করে না দেখে প্রাপ্তির খাতকে বড় করে দেখতে হবে।
মো. আফসারুল আলম মামুন
পদার্থবিজ্ঞান ডিসিপ্লিন,
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়
