চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক ভবনের দখল নিয়ে হাইকোর্টের স্থিতাবস্থা

আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০২১, ২২:৩৫

চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানার রহমতগঞ্জের ‘বাংলা কলেজ’ এলাকায় ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত ভবনের দখল ও অবস্থানের ওপর স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। জনস্বার্থে দায়েরকৃত রিটের শুনানি নিয়ে বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল বুধবার এই আদেশ দেয়। এছাড়া প্রাচীন পুরাকীর্তির এই ঐতিহাসিক নিদর্শন যতীন্দ্র মোহন সেনগুপ্ত ভবন (বর্তমানে শিশুবাগ স্কুল) রক্ষায় বিবাদীদের ব্যর্থতা কেন অবৈধ এবং ঐ ভবন পুরাকীর্তির তালিকায় কেন অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে। সংস্কৃতিসচিব, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনারসহ ছয় জনকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আদালতে আবেদনের পক্ষে ব্যারিস্টার হাসান এম এস আজিম ও রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায় শুনানি করেন।

পরে হাসান এম এস আজিম সাংবাদিকদের বলেন, আদালত ভবনটির দখল ও অবস্থানের ওপর এক মাসের স্থিতাবস্থা বজায় রাখার জন্য সবাইকে নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী আদেশের জন্য মামলাটি কার্যতালিকায় থাকবে।

চট্টগ্রামের স্থানীয় একটি দৈনিকে ৫ জানুয়ারি ‘শিশুবাগ স্কুলের ভবন ভাঙা নিয়ে উত্তেজনা’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয়, নগরীর রহমতগঞ্জ এলাকার শিশুবাগ স্কুলের ভবন ভাঙা নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার দুপুরে ভবন ভাঙাকালীন দুই পক্ষকে মুখোমুখি অবস্থান নিতে দেখা যায়। পরে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্তসহ বিভিন্ন জনের হস্তক্ষেপে ভবন ভাঙা স্থগিত রাখা হয়। যদিও এর আগেই স্কুলের বেঞ্চ-টেবিলসহ বিভিন্ন সরঞ্জামাদি বের করে ভবনের ওপরের একাংশ বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

স্থানীয়দের দাবি-স্কুলটি ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি। যা ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। ভারতীয় কংগ্রেসের নেতা যাত্রামোহন সেনগুপ্ত এই বাড়িটি নির্মাণ করেছিলেন। চট্টগ্রামের এই আইনজীবীর ছেলে হলেন দেশপ্রিয় যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্ত। ব্যারিস্টার যতীন্দ্রমোহনও ছিলেন সর্বভারতীয় কংগ্রেসের নেতা। তিনি কলকাতার মেয়রও হয়েছিলেন। ইংরেজ স্ত্রী নেলী সেনগুপ্তাকে নিয়ে কিছু দিন ভবনটিতে ছিলেন তিনি। মহাত্মা গান্ধী, সুভাষ চন্দ্র বসু, শরত্ বসু, মোহাম্মদ আলী ও শওকত আলীসহ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা বিভিন্ন সময় এই বাড়িতে এসেছিলেন। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের বিপ্লবীরাও এই বাড়ির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। সূর্য সেন, অনন্ত সিংহ, অম্বিকা চক্রবর্তীর হয়ে মামলা লড়েছিলেন যতীন্দ্র মোহন। এতে ব্রিটিশ শাসকদের রোষানলে পড়ে ১৯৩৩ সালে কারাগারে মৃত্যু হয়েছিল যতীন্দ্র মোহনের। এই প্রতিবেদন যুক্ত করে হাইকোর্টে রিট করেন অ্যাডভোকেট মাসুদ আলম চৌধুরী।