সরকারি নীতিগত কারণে টাকা কালো হয় :অর্থমন্ত্রী

আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০২১, ২২:৩৮

সরকারি পলিসি বা নীতিগত কারণে টাকা ‘কালো’ হয় বলে উল্লেখ করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, ‘আমরা কিছু খাতে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ দিয়েছি।’ এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, পলিসিগত কারণে টাকা কালো হয়ে যাচ্ছে। কর বেশি হওয়ার কারণেও এটি হচ্ছে। কর হার বেশি হওয়ায় অনেকেই কর ফাঁকি দেয়। গতকাল বুধবার ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। সিঙ্গাপুর থেকে বৈঠকে অংশ নেন তিনি। অর্থবছরের ছয় মাসে ১০ হাজার কোটি টাকারও বেশি কালোটাকা সাদা হয়েছে—এমন বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা সাদা করতে চাই বলে সাদা হলো। আমাদের বাজেটে আছে, বাজেট বক্তৃতায় আছে, আমরা কিছু কিছু ক্ষেত্রে এগুলো অ্যাড্রেস করতে চাই। প্রথমেই আমাদের রেমিট্যান্সে প্রণোদনা চালু করেছি। আরো একটা ক্ষেত্র রয়েছে যেটা প্রতিটা দেশের জন্য বড় এলাকা। সেটা হলো আবাসন খাত। এ আবাসন খাতে স্ট্যাম্প ফি ও ডিউটি বাড়তি থাকার কারণে কোনো রেজিস্ট্রেশন হয় না। ফলে সরকার কোনো রাজস্ব পাচ্ছে না। বাড়ি বিক্রি হচ্ছে অথচ দেখানো হচ্ছে না। এজন্য স্ট্যাম্প ডিউটি কমিয়ে দিয়েছি। এ রকম যেসব জায়গায় হাত দেওয়া দরকার সেখানে করেছি। সেগুলো করার কারণেই এখন কালোটাকা সাদা হচ্ছে। যেমন আমাদের পুঁজিবাজার, এটা সব দেশেই করে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের ব্যাংকের সুদের হার অনেক বেশি ছিল। এত বেশি সুদ হারে কোনো দেশে শিল্পায়ন হয় না। কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় না। মোটামুটি আমরা যেটি করে দিয়েছি, সেটা সবাই গ্রহণ করেছে। এখন ৬ শতাংশে ঋণ পাচ্ছে। তবে এ হারও অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি। অর্থমন্ত্রী বলেন, রেমিট্যান্স ছয় মাসে প্রত্যাশার চেয়ে ৪০ হাজার কোটি টাকা বেশি এসেছে। আমরা আশা করছি, পুরো অর্থবছরে ৮০ হাজার কোটি টাকা বাড়তি রেমিট্যান্স আসবে। এই টাকা আমাদের অর্থনীতিতে যাচ্ছে, পুঁজিবাজারে যাচ্ছে। এর ফলে অর্থনীতিতে প্রাণচাঞ্চল্য আসছে।

আড়াই লাখ টন চাল ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন

ভারত থেকে সরাসরি পদ্ধতিতে চাল ক্রয়ের অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় খাদ্য অধিদপ্তর কর্তৃক জিটুজি ভিত্তিতে ভারতের ন্যাশনাল অ্যাগ্রিকালচার কোঅপারেটিভ মার্কেটিং ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া লি. (এনএএফইডি) থেকে ১ লাখ টন নন-বাসমতি সিদ্ধ চাল ও ৫০ হাজার টন আতপ চাল জরুরি ভিত্তিতে ক্রয় করা হবে। এতে ব্যয় হবে ৫২১ কোটি ৯৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এছাড়া পৃথক আরেকটি প্রস্তাবে ভারত থেকে আন্তর্জাতিক কোটেশনের মাধ্যমে ৫০ হাজার টন নন-বাসমতি সিদ্ধ চাল ইটিসি অ্যাগ্রো প্রসেসিং (ইন্ডিয়া) প্রাইভেট লিমিটেডের নিকট থেকে ১৭১ কোটি ৯৭ লাখ টাকায় ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বুধবার ভার্চুয়াল সভায় ক্রয় প্রস্তাবগুলো অনুমোদন দেওয়া হয়। এছাড়া সভায় পৃথক আরেকটি প্রস্তাবে সিঙ্গাপুর হতে ৫০ হাজার টন আতপ চাল অ্যাগ্রোকর্প ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিমিটেডের থেকে ১৭৩ কোটি ১১ লাখ টাকায় ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে গতকালের সভায় আড়াই লাখ টন চাল ক্রয়ের তিনটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল সভায় কমিটির সদস্য, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সচিব, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। সভা শেষে অনুমোদিত ক্রয় প্রস্তাবগুলোর বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. আবু সালেহ মোস্তফা কামাল। তিনি জানান, অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় দুটি প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় ৯টি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সরাসরি পদ্ধতিতে ভারত থেকে চাল ক্রয়ের প্রস্তাব অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার কমিটিতে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। এছাড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে কোভিড-১৯ রোগীদের সেবা প্রদানে জরুরি ভিত্তিতে যন্ত্রপাতি ওষুধ ও অন্যান্য জিনিসপত্র ও সেবা ১০ কোটি ২৫ লাখ টাকায় সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ক্রয়ের ভূতাপেক্ষ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।