রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন জনতা ব্যাংকের শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বুথে কর্মকর্তারা সরকারের কয়েক কোটি টাকা আত্মসাত্ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এখন তারা হিসাব দিতে পারছেন না। এ বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়।
জানা গেছে, জনতা ব্যাংকের লোকাল অফিসের অধীনে পরিচালিত হয় এই বুথ। সাধারণত, এ বুথে বিদেশগামী ও বিদেশফেরতরা বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় করেন। একই সঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) শুল্ক করের অর্থ জমা নেওয়া হয়। অভিযোগ উঠেছে, জনতা ব্যাংকের বিমানবন্দর বুথের কর্মকর্তারা বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় ও শুল্ক করের অর্থ জমা দেন না। এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট যে ভাউচার দেওয়ার কথা তা-ও দেওয়া হয় না। দীর্ঘদিন ধরে এমন ঘটনা ঘটছে। সম্প্রতি এ ঘটনা সামনে এসেছে। এ বিষয়ে তদন্ত করছে জনতা ব্যাংক। সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছে, এতে ব্যাংকের ও এনবিআরের কোটি কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে।
জনতা ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ঐ শাখায় বিদেশগামী ও বিদেশফেরত ব্যক্তিরা যে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় করেন তার ক্ষুদ্র অংশই ব্যাংকের খাতায় ওঠানো হয়। এক্ষেত্রে কর্মকর্তারা ব্যাংকের টাকায় বিনিময় না করে নিজস্ব টাকা দিয়ে বিনিময় করেন, যা অবৈধ। আর শুল্ক কর বাবদ যে অর্থ আদায় হয় তার বড় অংশ সরকারের তহবিলে জমা দেয়নি তারা। এতে সরকার প্রতি বছর প্রচুর পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। যা এনবিআর ও জনতা ব্যাংকের প্রাথমিক নিরীক্ষায় ধরা পড়েছে বলে জানা গেছে।
রাষ্ট্রীয় মালিকানার ব্যাংকগুলোর হেড অফিসের মতো বিমানবন্দর বুথেও ব্যাংকের সিবিএ নেতাদের আধিপত্য রয়েছে বলে জানা গেছে। তারা এসব বুথ নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেন। এমনকি এখানে বদলি হওয়ার জন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ারও অভিযোগ আছে। আর এ ঘুষের টাকা ওঠাতেই এখানকার কর্মকর্তারা প্রতারণার আশ্রয় নেন। আর এতে ক্ষতিতে পড়ছে ব্যাংক ও সরকার।
এ বিষয়ে জনতা ব্যাংকের লোকাল অফিসের ব্যবস্থাপক মো. মোবারক হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। শেষ হলে বোঝা যাবে আসলে কী ঘটেছে। এ বিষয়ে আর বেশি কিছু বলতে রাজি হননি তিনি।
