বাংলার মুখ

থানচি

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২১, ১৯:৪৩

গভীর রাতে ঘুম ভেঙে যেত কী এক ভয়ংকর রকমের শব্দে। তবু ছিল আনন্দ, ছিল ভালোবাসার এক মোহময় অনুভূতি। বান্দরবানের থানচি যাওয়া এবং সেখানে বেড়ানো জীবনের স্মরণীয় ঘটনা। সে তো ১৯৭৮ সালের কথা। তখন থানচি তো দূরের কথা, খোদ বান্দরবানে খুঁজে পাইনি কোনো পর্যটকের দেখা।

থানচি বর্তমানে বান্দরবান জেলার একটি উপজেলা। অনেক বছর আগেই এখানকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ঘটেছে; যাতায়াত পথ আগের মতো আর পিচ্ছিল নয়, নয় দুর্গম। আমি যখন গিয়েছিলাম তখন হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছিলাম, কতই না কষ্টকর থানচি যাওয়া।

জানা যায়, মার্মা শব্দ থাইন চৈ বা বিশ্রামের স্থান থেকে থানচি নামটির উত্পত্তি। ধারণা করা হয়, ১৯৪০ সালে বা তার আগে নৌপথে চলাচলকালে যাত্রীরা বিশ্রামের জন্য এখানে থামতেন বলে ‘থাইন চৈ’ নামে স্থানটি পরিচিত ছিল, পরে তা পর্যায়ক্রমে থানচি নামে পরিচিতি পায়। থানচি উপজেলার উল্লেখযোগ্য স্থান হলো রেমাক্রী, তিন্দু ও বলিপাড়া। থানচির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে সাঙ্গু নদী। এছাড়া রয়েছে রেমাক্রী খাল। এখন তো কত জমজমাট এই জনপদ। থানচি বাজার আর বলিপাড়া বাজারে মেলে আরাকানিদের পোশাক ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। ওখানকার পাকা পেঁপে তৃপ্তিকর। সবুজ শ্যামল শোভা গোটা এলাকায়, সুন্দর স্বাস্থ্যকরও বটে।

১৯৭৮ সালে ওখানে গিয়ে বলিপাড়ায় ঢুকে দারুণ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম। কে জানি বলল, বলিপাড়া গেলে বলি হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। সে ঘোর কেটে গেছে বহু বছর আগেই।

বান্দরবান থেকে থানচি এখন বাস যায়, যায় আরো কত ধরনের বাহন। দলে দলে পর্যটকরা যাচ্ছেন এই জনপদে। থানচির দর্শনীয় স্থান— নাক্ষিয়েংর আমিয়াখুম জলপ্রপাত, তিন্দুর রাজা পাথর বা বড় পাথর, রেমাক্রীর নাফাখুম জলপ্রপাত, সাফা হাফং চূড়া বা ত্ল্যাংময়—এর উচ্চতা ৩,৪৫১ ফুট; নাইটিং মৌজার বাকলাই গ্রামের জলপ্রপাত—জলপ্রপাতটি প্রায় ৩৮০ ফুট উঁচু, তিন্দু ইউনিয়নের ছোট পাথর ইত্যাদি।

লিয়াকত হোসেন খোকন