গতকাল বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের বৈঠক শেষে জোটের প্রধান সমন্বয়ক এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেছেন, বর্তমান অবস্থা চলতে থাকলে নিরপেক্ষ নির্বাচন অসম্ভব এবং সেক্ষেত্রে বলতে চাই ২০ দল নির্বাচনে আসুক সরকার সেটা চায় কি না তাতে সন্দেহ আছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
অলি বলেন, নির্বাচন হবে কি না, আমরা নির্বাচনে থাকবো কিনা সেটা সম্পূর্ণ নির্ভর করে সরকারের ওপর। কারণ এই নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নাই। গত পরশু নির্বাচন কমিশন আইজিকে এক নির্দেশে বলেছে, মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সময় কোনো মিছিল যাতে না হয় সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য। এই নির্দেশের ফলেই বুধবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মনোয়নপত্র জমা দিতে আসা সারা দেশের লাখ নেতাকর্মীর ওপর পুলিশ বিনা উস্কানিতে হামলা চালায়।
তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশের এই হামলায় নারীকর্মীসহ বিএনপির ৬০/৭০ জন মারাত্মক আহত হন। এসময় খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র জমা দিতে আসা তার উপদেষ্টা হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, গ্রাম সরকার বিষয়ক সম্পাদক গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আনিসুজ্জামান খান বাবু, খুলনা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমীর এজাজ খানসহ নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করেছে।
তিনি বলেন, ‘ঘটনার পর বিএনপি কার্যালয় যখন জনশূন্য তখন একদল হেলমেটধারী লোক গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এই হেলমেট বাহিনী নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনকারী কিশোর ছাত্র-ছাত্রীদের ওপরও হামলা চালিয়েছিল। তখন কর্তব্যরত সাংবাদিকদের অত্যাচার করেছিল। গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়া যার ছবি পাওয়া গেছে সে ছেলেটি ছাত্রলীগের কর্মী বলে অনেকে অভিযোগ করেছেন।’
তিনি বলেন, সরকার লেভেল প্লেইং ফিল্ডের কথা বলে। কিন্তু মাঠে ময়দানে যখন আমরা যাই তখন দেখি মন্ত্রীরা এখনও পুলিশ পাহারায় চলে। কয়েক দিন আগে এরশাদ রংপুরে গিয়েছিলেন, সেখানে তাকে পুলিশের এসপি নিরাপত্তা দিয়েছেন। তাহলে বিএনপি ২০ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতাদেরও পুলিশের নিরাপত্তা দিতে হবে। অন্যথায় এজন্য নির্বাচন কমিশনকে এক সময় জনগণের কাছে জবাব দিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মাওলানা আব্দুল হালিম, জাতীয় পার্টির মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার প্রমুখ।
