সন্তানের সম্পদে পিতা-মাতার অধিকার

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২১, ১৯:৪৫

সন্তানের কাছে পিতা-মাতার যেমন সদাচরণ পাওয়ার অধিকার রয়েছে, তেমনি তাদের অর্থনৈতিক অধিকারও রয়েছে। এক সময় পিতা-মাতা বৃদ্ধ হয়ে যান। তারা কর্ম করে খেতে পারেন না। আয়ের উত্স বন্ধ হয়ে যায়। এমন করুণ পরিস্থিতিতে পিতা-মাতার দায়ভার নিতে হবে সন্তানকে। যে পিতা-মাতা অক্লান্ত পরিশ্রম করে সন্তান লালনপালন করে বড় করে তোলেন, তাদের এ বয়সে ভালো থাকার অধিকার রয়েছে। সন্তান হচ্ছে একটি বৃক্ষের ন্যায়; যাদের পিতা-মাতা সেবা যত্ন দিয়ে বড় করে তোলেন। একসময় সন্তান উপার্জন করতে শেখে, বৃক্ষের ফলদানের মতো। এই ফল ভোগের সর্বাধিক অধিকার রাখেন পিতা-মাতা। তাই স্ত্রী-সন্তানের পাশাপাশি পিতা-মাতার জন্য সামর্থ্য অনুযায়ী খরচ করা সন্তানের দায়িত্ব ও কর্তব্য।

সন্তানের সম্পদ ভালো কাজে ব্যয় করার ক্ষেত্রে পিতা-মাতাকে সর্বাগ্রে স্থান দেওয়া হয়েছে। সুরা বাকারার ২১৫ নম্বর আয়াতে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআলা ইরশাদ করেন, ‘লোকেরা আপনার কাছে জানতে চাইবে তারা কী কী খাতে খরচ করবে, আপনি তাদের বলে দিন, ধন-সম্পদ হতে তোমরা  তোমাদের পিতা-মাতা, নিকটাত্মীয়, ইয়াতিম, মিসকিন ও মুসাফিরদের জন্য ব্যয় করো। আর মনে রেখো তোমরা যা কিছু সত্কর্ম করো, আল্লাহ সে বিষয়ে সম্যক অবগত রয়েছেন।’

আবু দাউদ শরিফের এক বর্ণনায় এসেছে, আমর ইবনুল শুআইব (রাজি) বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি নবি করিম (স)-এর কাছে এসে বললেন, আমার সম্পদও আছে সন্তানও আছে। আমার পিতা আমার সম্পদের মুখাপেক্ষী। নবিজি বললেন, ‘তুমি এবং তোমার সম্পদ উভয়ই তোমার পিতার। তোমাদের সন্তান তোমাদের জন্য সর্বোত্তম উপার্জন। সুতরাং তোমরা তোমাদের সন্তানদের উপার্জন খাবে।’

হজরত আবু হুরায়রা (রাজি) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার আমরা রাসুল (স)-এর সঙ্গে বসা ছিলাম। হঠাত্ এক যুবক সানিয়া নামক নিম্ন ভূমি থেকে আগমন করল। তাকে গভীর দৃষ্টিতে অবলোকন করে বললাম, হায়! যদি এই যুবকটি তার যৌবন, উদ্যম ও শক্তি আল্লাহর পথে ব্যয় করত! (বর্ণনাকারী বলেন) নবিজি আমাদের বক্তব্য শুনে বললেন, কেবল দ্বিনের পথে নিহত হলেই কি সে আল্লাহর পথে থাকবে? যে ব্যক্তি মাতা-পিতার সেবায় তার শক্তি সামর্থ্য ব্যয় করে, সে আল্লাহর পথে রয়েছে। যে ব্যক্তি গোনাহ থেকে রক্ষার চেষ্টায় রত সে আল্লাহর পথে রয়েছে। আর যে ব্যক্তি সম্পদের অধিকতর প্রাচুর্যের নেশায় রত সে শয়তানের পথে রয়েছে। (মুজামুল আওসাত, শুআবুল ইমান অধ্যায়)

পিতা-মাতা যাতে সন্তান কর্তৃক অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার না হন সেজন্য ইসলামি অনুশাসনের পাশাপাশি দেশে বিদ্যমান আইন রয়েছে। পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন ২০১৩, কতগুলো বাধ্য-বাধকতার নির্দেশ দিয়েছে। একাধিক সন্তান থাকলে নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করে পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ এবং তাদের একই সঙ্গে একই স্থানে বসবাস নিশ্চিত করতে হবে। পিতা বা মাতা অথবা তাদের উভয়ের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো বৃদ্ধ নিবাস কিংবা অন্য কোথাও একত্রে কিংবা আলাদা আলাদাভাবে বসবাস করতে বাধ্য করা যাবে না। প্রত্যেক সন্তান তার পিতা-মাতার স্বাস্থ্য সম্পর্কে খোঁজখবর রাখবে এবং প্রয়োজনীয় চিকিত্সাসেবা ও পরিচর্যা করবে। সব মা-বাবা জীবনের শেষ সময়ে সন্তানের পরম শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় থাকুক—এটাই হোক আমাদের কামনা।

lলেখক :বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারের ধর্মীয় উপস্থাপক ও আলোচক