আমরা ২০২১ সালে অর্থাত্ নতুন ইংরেজি বছরে পা রাখলাম। কী আশা এ বছর ঘিরে, আশঙ্কাও আছে কি? এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হয়েছিল পাঠকের কাছে। টেলিফোন ও ইমেইলে প্রাপ্ত পাঠকের সেই অভিমত আজ প্রকাশিত হলো।
করোনা ভাইরাসের ভয়াবহ তাণ্ডব আর শীতকালীন ঢেউয়ের চরম আশঙ্কার মধ্য দিয়ে বিদায় ও অভিষেক হলো পুরাতন ও নতুন বছরের। জীবনযাত্রার স্থবিরতা কাটিয়ে স্বাভাবিক সময়ের প্রত্যাশা আমাদের সবার। সেইসঙ্গে নির্বাসিত হোক দুর্নীতি, অপসংস্কৃতি ও অমানবিক কর্মকাণ্ড। বিপর্যস্ত শিক্ষা খাতের বৈপ্লবিক পরিবর্তনের যে রূপরেখা এসেছে তা যেন আগামীর কর্মোপযোগী ও সমৃদ্ধ জাতি গঠনের নিয়ামক হয়। আশা করি, সড়ক দুর্ঘটনা এবং নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি প্রান্তিক পর্যায়ে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সুলভে মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে। প্রান্তিক পর্যায়ে কৃষকদের যথাযোগ্য সুবিধা প্রদান করে আমদানি-নির্ভরতা কমানোর মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতি সমৃদ্ধ করা সময়ের দাবি।
আবু ফারুক
বনরূপা পাড়া, সদর, বান্দরবান
কেবল পরিবর্তনই ধ্রুব। সেই পরিবর্তনের স্রোতে নতুনকে ঘিরে প্রত্যাশার ঝাঁপি খুলে তাকে স্বাগত জানানোই বাস্তবতা। কাভিড-১৯ প্রতিরোধে বহুল প্রত্যাশিত ভ্যাকসিনকে বৈশ্বিক গণপণ্য হিসেবে বিবেচনায় আনতে হবে। দেশের মানুষের জন্য যথাসময়ে ভ্যাকসিন প্রাপ্তির বিষয়টি আশায় বুক বাঁধার সুযোগ করে দেয়। দেশের কয়েক লাখ শিক্ষার্থীর শিক্ষায় পুঞ্জীভূত ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সঠিক ও বাস্তবমুখী কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নপূর্বক সমন্বিত উদ্যোগে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির উচ্চধারা বজায় রাখার পাশাপাশি আবশ্যিকভাবে যুব কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। ঘুণে ধরা স্বাস্থ্য খাতে প্রয়োজনীয় সংস্কারসাধনে একে আগাগোড়া ঢেলে সাজাতে হবে। অসাধু সিন্ডিকেট চক্র, মধ্যস্বত্বভোগী ফড়িয়া ও মুনাফাখোরদের কঠোর হস্তে মোকাবিলার মাধ্যমে ন্যায্য বাজারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাকরণ ও ভোক্তার অধিকার সংরক্ষণে বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে।
ওয়ারেছ আলী খান
সদর, নরসিংদী
বিষময় বিশ্বের বিষবাষ্প পেরিয়ে আমরা প্রবেশ করেছি নতুন এক বছরে। নতুন বর্ষে করোনাসহ সব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ও বিষমুক্ত বিশ্বের প্রত্যাশা থাকবে সবার। করোনাকালে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে যে অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি পরিলক্ষিত হয়েছে সেগুলো সমাধান করা না গেলে ভবিষ্যতে দেশকে চরম মূল্য দিতে হতে পারে। কর্মসংস্থান বৃদ্ধিসহ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করাও থাকবে জনগণের উল্লেখযোগ্য দাবি। তাছাড়া করোনাকালীন আমরা মানবিকতা ও মূল্যবোধের যে অবক্ষয় দেখেছি তা পুনরুদ্ধারের জন্য শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা থাকতে হবে।
মনিরুল হক রনি
সাভার, ঢাকা
নতুন বছরে পরিবেশবান্ধব সুষম উন্নয়ন নিশ্চিতের পাশাপাশি দুর্নীতির বিষফোঁড়া সমূলে উত্পাটনে সরকারের কঠোর অবস্থান প্রত্যাশা করি। সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থাপনাসহ দেশীয় কৃষকদের দুর্ভোগ কমানো জরুরি। শিক্ষিত বেকারের দল ভারী করার বদলে কর্মমুখী শিক্ষার প্রসারে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হোক। দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি জোরদার করতে প্রকৃত দেশপ্রেমের চেতনায় উজ্জীবিত হোক সব প্রাণ।
মোহাম্মদ ফয়সাল
পূর্ব মাদারবাড়ী, চট্টগ্রাম
২০২০ যদি হয় পৃথিবীকে থমকে দেওয়ার বছর, ২০২১ সাল হবে নতুন সম্ভাবনার। গত বছরের পাওয়া না পাওয়ার স্মৃতিকে ঝেড়ে ফেলে নতুন আশায় বুক বেঁধেছে বিশ্ববাসী। সেই ভাবনায় পিছিয়ে নেই আমাদের দেশের তরুণেরাও। বর্তমান বিশ্বে শিক্ষিত তরুণদের চাহিদার তুলনায় কর্মসংস্থানের সুযোগ খুবই অপ্রতুল। বেকারমুক্ত বাংলাদেশই হতে পারে ২০২১ সালের চালিকাশক্তি, যা দেশকে নিঃসন্দেহে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।
মো. জিল্লুর রহমান
গেন্ডারিয়া, ঢাকা
নতুন বছর শুরু হয়েছে, এই বছর নিয়েও রয়েছে শঙ্কা। বিশ্ব জুড়ে করোনা মহামারির প্রকোপ বেড়ে গেছে। এই করোনার জন্য আমাদের অনেক ক্ষতি হয়েছে।
সালেহা আফরিন বেবী
শিবগঞ্জ, সিলেট।
২০২০ সাল অতিক্রম করে ২০২১ সালে এখন আমরা অবস্থান করছি। মানুষ করোনা ভ্যাকসিনের আশায় বুক বেঁধে আছে। করোনার কারণে ২০২০ সালে অনেক মেগা প্রকল্প বাধাগ্রস্ত হয়েছে। আশা করি, ২০২১ সালে এ বাধা অতিক্রম করে মেগা প্রকল্পগুলোর সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে যাবে।
খন্দকার কামরুজ্জামান
মিরপুর-১০, ঢাকা
নতুন বছর ২০২১ সালে সকল অনিশ্চয়তা ও বিভ্রান্তি দূর হোক কোভিড-১৯ নিয়ে। জানুয়ারি অথবা ফেব্রুয়ারিতে অক্সফোর্ডের টিকা আসবে। চুক্তি অনুযায়ী প্রত্যাশার দিন নিশ্চিত করতে হবে।
রাসেল আহমেদ
মুগদা, ঢাকা
রাতের পর দিন আসে, কষ্টের পর আসে সুখ ও আনন্দ। ভাগ্য, ঝুঁকি, সুযোগগ্রহণ এবং আশা—এই নিয়ে নতুন সাল ২০২১। আমাদের আগামীদিনগুলো আরো উন্নত ও সুন্দর হবে ও সাফল্যমণ্ডিত হবে—এমনটাই আশা নতুন বছরকে ঘিরে।
শিশির , পিলখানা, ঢাকা
বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশ্ববাসী করোনামুক্ত হোক নতুন বছরে । শিক্ষাক্ষেত্রে সব সংকট কেটে গিয়ে শিক্ষার্থীদের কলরবে মুখরিত হয়ে উঠুক শিক্ষাঙ্গন । দেশ-বিদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিরাজমান অচলাবস্থা সচল হোক। পারিবারিক কলহ, হত্যা, ধর্ষণ, সন্ত্রাসী কার্যকলাপসহ দুর্নীতি ও অর্থপাচারের অবসান হোক।
মুহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ
সরদারপাড়া, মুন্সীগঞ্জ
উন্নয়নের যে ধারা সূচিত হয়েছে তাকে নতুন বছরে অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। অন্যদিকে সুন্দর, সমৃদ্ধ, দারিদ্র্যমুক্ত দেখতে চাই এই দেশ। নিজেদের সততা, মূল্যবোধ মানসিকতা ও দক্ষতা দিয়ে গড়ে তুলতে হবে স্বপ্নের বাংলাদেশ।
আইরিন সুলতানা সনজু
মাইজপাড়া, চট্টগ্রাম
২০২০ সাল কোভিড-১৯ তথা করোনা প্রাদুর্ভাবের সাল হিসেবে স্মরণীয়। নতুন বছরে এই মহামারিকে জয় করে মানবজাতিকে তার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হবে ।
ভূঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী
বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী
করোনার কারণে মানবিক সম্পর্কগুলো আজকে প্রশ্নের সম্মুখীন। পারিবারিক সম্পর্কগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে! আশা করব নতুন বছরে আমরা নারীরা স্বাধীনভাবে চলতে পারব। ধর্ষণের মতো অপরাধের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে আসবে। সেই সঙ্গে আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগও নিশ্চিত হবে। সর্বোপরি, নতুন বছর আমাদের আবারও ফিরিয়ে দিক সেই চেনাজানা বিশ্বকে।
বিলকিছ আক্তার
কাউনিয়া, রংপুর।
নতুন বছরের শুরুতেই আমাদের অঙ্গীকার হোক আলোর পথে, প্রগতির পথে এগিয়ে চলা হোক। বিশ্বব্যাপী ধর্মীয় ও জাতিগত সব সহিংসতা বন্ধ হোক। সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হোক এবং গণতন্ত্র চলুক নিরবচ্ছিন্নভাবে।
মেনহাজুল ইসলাম তারেক
পার্বতীপুর, দিনাজপুর
বাংলাদেশে করোনা টিকা নিয়ে যে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে তা শিগিগরই কেটে যাবে বলে আমাদের বিশ্বাস। টিকা প্রাপ্তি নিয়ে সব ধরনের অনিশ্চয়তা ও বিভ্রান্তির দ্রুত অবসান হবে—এমনটাই প্রত্যাশা ২০২১ সালে।
রিফাত
কুষ্টিয়া
নতুন আশা ও কর্ম-উদ্দীপনা নিয়ে নতুন বছর আমাদের সবার জীবন আনন্দময় হোক। সবার কাছে হোক ২০২১ করোনা মুক্তির বছর।
পারভীন সুলতানা বিউটি
রামচন্দ্রপুর, ঝিনাইদহ
নতুন বছরে অনেক প্রত্যাশা থাকে। কোভিড-১৯-এর টিকা বন্টন, বাল্যবিবাহ বন্ধ, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে গুরুত্ব দিতে হবে। কম দামে পণ্য বিক্রির নামে টিসিবির প্রতারণা বন্ধ করতে হবে। করোনাকালে অর্থনৈতিক বিভিন্ন খাতে যে স্থবিরতা সৃষ্টি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
মো. খায়রুল ইসলাম ফুল
আরাপপুর, ঝিনাইদহ
বিজ্ঞানীরা অনেক গবেষণার পর শতভাগ কার্যকর না হলে এর কাছাকাছি করোনার টিকা আবিষ্কার করেছেন। আশা করি বর্তমান সরকার টিকার সুষম বন্টন বিষয়ে সাফল্য অর্জন করবে নতুন বছরে।
মনজু আজাদ
উত্তরা, ঢাকা
গত বছর ছিল বিশ্ববাসীর জন্য করোনায় আতঙ্কগ্রস্ত বছর। এ বছরটি করোনার আতঙ্ক সম্পূর্ণ মুক্ত না হলেও আমরা একটি আশার বছর হিসেবে দেখছি। বিশ্ববাসী ২০২১ সালে করোনামুক্ত হবে—এটাই সবার প্রত্যাশা।
মাখরাজ খান
সাটুরিয়া, মানিকগঞ্জ
করোনা মহামারির কারণে দেশের অর্থনৈতির সব খাতই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নতুন বছর ২০২১ সাল এসেছে নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে। চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে জীবনের গতি নতুনভাবে ঘুরে দাঁড়াবে—এমনই প্রত্যাশা আজ।
আলমগীর
ঢাকা
২০২১ সালের আশা অনেক, আশঙ্কাও রয়েছে। কোভিড-১৯-এর ছোবল এখনো কাটেনি। এক-দুই মাসের মধ্যে দেশে করোনা ভাইরাসের টিকা আনার নিশ্চিত ব্যবস্থা করতে না পারলে করোনা রোগীর মৃত্যুর সংখ্যা কমার কোনো লক্ষণ নেই। দেশে ভ্যাকসিন আসার পরে ঐগুলোর বিতরণ এবং সংরক্ষণেরও সঠিক ব্যবস্থাপনার উন্মেষ ঘটানো বেশি প্রয়োজন। অন্যদিকে বর্তমান সরকার যদি উন্নয়ন-পরিকল্পনা সঠিকভাবে বাস্তবে রূপদান করতে পারে তাহলে আমরা আগামী দিনগুলোতে উন্নত দেশে উপনীত হতে পারব।
আলহাজ মো. হাফিজুল ইসলাম চৌ. (হিফজু)
রাজশাহী
২০২১ সালকে ঘিরে মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি; হয়তো ভ্যাকসিনের সুখবর মানুষের রোগ ও আশঙ্কা নিরাময়ে ভূমিকা রাখবে। নানা সংকট, সংঘাত, পীড়নের মধ্যেও বেঁচে থাকার নতুন স্বপ্ন, লড়াই করার নতুন উদ্দীপনা আর সংকট পেরোনোর নতুন প্রত্যাশা নিয়ে মানুষ বরণ করেছে ২০২১ সালকে।
মোহাম্মদ শহীদউল্যা
মেরাদিয়া, ঢাকা
২০২০ সাল কাটিয়ে আমরা ২০২১ সালে পা রেখেছি। আশঙ্কা রয়েছে—দেশের রাজনীতিতে কী হবে, কী ঘটবে। আমরা চাই দেশের রাজনীতিতে সুস্থ ধারা ফিরে আসবে। দেশের মানুষ উন্নত জীবনযাপন করবে। বছর জুড়ে মানুষের জীবন সুখ-শান্তি-সমৃদ্ধিতে এমন নতুন আশা এদেশের মানুষের মনেপ্রাণে।
ফারুক আহমেদ
বাগমারা, রাজশাহী
নতুন বছরে অনেক প্রত্যাশাই রয়েছে। আমাদের দেশের শক্তিশালী নারীর ক্ষমতায়ন থাকার পরেও ক্রমান্বয়ে নারী শিশু নির্যাতন বেড়েই চলেছে। এসব রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ বন্ধ করতে হবে।
সাইফুল ইসলাম তানভীর
গুলশান, ঢাকা
নতুন বছরে দেশের গণতন্ত্র চর্চা ও বহু মতের সহাবস্থান গড়ে তুলতে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। নতুন বছর শুধু ব্যক্তি জীবনে নয়, জাতীয় জীবনেও হবে ইতিবাচক—এমনটি প্রত্যাশা।
আনতারা আনিকা লাবণ্য
আজিমপুর, ঢাকা
করোনা থেকে মুক্তি পেয়ে নতুন পৃথিবী যা আবার অনেক নুতন রূপে ফিরে আসবে। নতুন বছরে কর্মমুখর হয়ে উঠবে সারা দেশ, সবার মধ্যে আবার সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশে হয়ে উঠবে সব কিছু—এমনিই আশা।
খন্দকার মাসুদ-উজ-জামান
নাজিমুদ্দিন রোড, ঢাকা
নতুন বছরে আমরা নতুনভাবে তৈরি করব নিজেদেরকে। অন্যকে সাহায্য-সহযোগিতা করব, সত্ কাজে দৃঢ় থাকব—নতুন বছরে এমনি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়া চাই, তাহলেই জীবন সুন্দর ও সহমর্মিতায় ভরে উঠবে।
সুলতানা জামান
মানিকনগর, ঢাকা
নতুন বছরে নতুন আশা, অনেক প্রত্যাশা থাকবে। নতুন বছর হোক সবার জন্য অনাবিল সুখের।
মো. মামুন
বংশাল, ঢাকা
