নির্বাচন বানচাল করার পরিকল্পনা নিয়েছে একটি অশুভ চক্র। এ পরিকল্পনা অনুযায়ী দলীয় পরিচয়ে দুর্বৃত্তরা হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে। আগামী ৩০ ডিসেম্বর ভোটের দিন কিংবা আগেই ভয়াবহ এই হামলার ছক কষছে তারা। তিনটি গোয়েন্দা সংস্থা অনুসন্ধানে এমন তথ্যও পেয়েছে। এ প্রেক্ষিতে সারাদেশে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। নজরদারিতে রাখা হয়েছে পতালক জঙ্গি ও তাদের মদদদাতাদের।
নির্বাচন সামনে রেখে মনোনয়ন ফরম বিক্রির কার্যক্রমের মধ্যেই বুধবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনাটি থানা ও গোয়েন্দা পুলিশের পাশাপাশি একাধিক গোয়েন্দা সংস্থাও তদন্তে মাঠে নেমেছে। এই সংঘর্ষের নেপথ্যে নির্বাচন বানচাল করার পরিকল্পনা কিংবা ষড়যন্ত্র আছে কিনা এ বিষয়টি গোয়েন্দা সংস্থা খতিয়ে দেখছে।
এই ঘটনার পর সরকারপ্রধান থেকে শুরু করে বিএনপিসহ অনেকেই বলছেন ষড়যন্ত্র চলছে। প্রধানমন্ত্রী গত দুই দিনে দুটি অনুষ্ঠানে বলেছেন, নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। বিএনপি নেতারাও বলছেন, নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র হচ্ছে। গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টেও উঠে এসেছে, ভোটের দিন কিংবা আগে যে কোন সময় হামলা হতে পারে। এক্ষেত্রে হামলার জন্য দুর্ধর্ষ জঙ্গিদের কিংবা পেশাদার অপরাধীদের ভাড়া করা হতে পারে।
গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যানুযায়ী, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী ভয়াবহ অপতত্পরতা চালানোর ছক কয়েক মাস আগে থেকেই তৈরি করেছে স্বাধীনতাবিরোধী একটি চক্র। নির্বাচনের সময় বড় ধরনের নশকতা চালিয়ে ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে নানা ধরনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত তারা। একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা এই সম্পর্কে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে প্রতিবেদনও দিয়েছে। আর এ অপতত্পরতা সফল করতে টার্গেট কিলিং, গুরুত্বপূর্ণ কিংবা বড় বড় স্থাপনা এবং গার্মেন্টস কারখানায় হামলার পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের। টার্গেট কিলিংয়ের আওতায় রয়েছেন মন্ত্রী-এমপি, শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, বুদ্ধিজীবীসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ। ঘটতে পারে বিভিন্ন ধরনের হত্যাকান্ড। তিনটি গোয়েন্দা সংস্থার অনুসন্ধানে এমন তথ্য উঠে এসেছে। তবে এমন নাশকতার পরিকল্পনা নস্যাত্ করার সক্ষমতা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর রয়েছে বলে শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
জামায়াত ছেড়ে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, ষড়যন্ত্র সফল করতে দেশব্যাপী তাদেরও একত্রিত করতে কাজ করছে একটি চক্র। এই চক্রের সঙ্গে বিদেশি একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার যোগাযোগ রয়েছে। এই চক্রটিকে মোটা অংকের টাকা দিয়েও সহযোগিতা করছে এ সকল বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা। এমন তথ্যও পাওয়া গেছে গোয়েন্দা সূত্রে। দুই শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, ওই চক্রটিকে শনাক্ত করার কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে।
