মার্কিন কংগ্রেস ভবনে হামলা গণতন্ত্রের জন্য লজ্জার

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২১, ২২:৪৭

যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভা কংগ্রেসের ভবন ক্যাপিটলে ঢুকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকদের হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন বিশ্ব নেতারা। এ ঘটনায় বিস্মিত ও স্তব্ধ হওয়ার প্রতিক্রিয়ার কথা জানিয়েছেন অনেকে। একই সঙ্গে এ ঘটনাকে গণতন্ত্রের ইতিহাসে লজ্জার বলে অভিহিত করেছেন তারা। খবর:বিবিসি ও সিএনএনের।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এ ঘটনাকে লজ্জাজনক দৃশ্য বলে মন্তব্য করেছেন। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ এবং সুশৃঙ্খল ক্ষমতা হস্তান্তরের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাইকো মাস বলেছেন, ট্রাম্প এবং তার সমর্থকদের উচিত শেষ পর্যন্ত মার্কিন ভোটারদের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া এবং গণতন্ত্রের পদদলন না করা। জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস এ ঘটনায় মর্মাহত বলে জানিয়েছেন। নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নানাইয়া মাহুতা বলেছেন, গণতন্ত্রে সহিংসতার কোনো স্থান নেই। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বলেছেন, এটি খুবই বেদনাদায়ক দৃশ্য।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, এটি শুধু আমেরিকার ওপর হামলা নয়, এটি মার্কিন গণতন্ত্রের আস্থা ও শক্তির ওপর হামলা। ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেছেন, ক্যাপিটল হিলে হামলা পশ্চিমা গণতন্ত্রের ব্যর্থতার প্রদর্শন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র দুঃখ প্রকাশ করে বলেছেন, শান্তিপূর্ণ ও নিয়মমাফিক ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকতে। 

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ এক বিবৃতিতে বলেছেন, এটা পুরোপুরি অসুস্থ এবং হূদয়বিদারক দৃশ্য। রাজনৈতিকভাবে অস্থিতিশীল কোনো দেশে এ ধরনের ঘটনার মাধ্যমে নির্বাচনের ফলকে বিতর্কিত করা হয়। আমাদের গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে এর কোনো স্থান নেই। আরেক সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেন, ইতিহাস সঠিকভাবেই ক্যাপিটলের ওপর এই আক্রমণকে মনে রাখবে, আর সেটি হচ্ছে। এই মুহূর্তটি প্রচণ্ড অসম্মান এবং এই জাতির জন্য লজ্জাজনক।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেছেন, গণতন্ত্রের ওপর এই আঘাতের ঘটনায় কানাডিয়ানরা প্রচণ্ড বিরক্ত। আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফার্নান্দেজ জো বাইডেনের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছেন এবং সহিংসতার ঘটনার প্রতি নিন্দা জানিয়েছেন। একইভাবে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট ইভান দোকে সহিংসতাকে প্রত্যাহার করে কংগ্রেসের সদস্যদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। চিলির প্রেসিডেন্ট সেবাস্টিয়ান পিনেরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছেন।