‘পৃথিবীর এই ক্লান্ত চেহারা দেখতে আর ভালো লাগছে না!’

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০২১, ০০:১৮

এদেশের বাংলা আধুনিক গানে তপন চৌধুরী একটি মানদণ্ডের নাম। দীর্ঘদিন প্রবাস জীবনে থাকলেও নিয়মিত দেশে কনসার্ট ও অডিও রেকর্ডিংয়ে যাতায়াত থাকে তার। প্রায় ৩ প্রজন্মের কাছে সমান জনপ্রিয় থাকা শিল্পী এদেশে রয়েছে হাতেগোনা কয়েকজন। তার ভেতরের এক অনবদ্য নাম তপন চৌধুরী। গতকাল ছিল তার জন্মদিন। এই করোনাক্রান্ত সময়ে কিভাবে মূল্যায়ন করছেন তার সফলভাবে যাপিত জীবনকে। সেই প্রসঙ্গে কিছু কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সঙ্গে—

কেমন আছেন? এই প্রশ্নটা এখন অবান্তর। কানাডায় ফুল লকডাউন চলছে। ঘরবন্দি সময়ে কেমন কাটল জন্মদিন?

আমার তো এসব নিয়ে কখনো কোনোদিন আড়ম্বর ছিল না। এখনো বাড়াবাড়ি নেই। পরিবারের সঙ্গে আছি। ছেলে, স্ত্রীকে নিয়ে সুস্থভাবে আরো একটা বছর পার করলাম। মানে মৃত্যুর দিকে আরো একটা বছর এগিয়ে এলো আর কি!

 

গতবছর বেশকিছু অনলাইন আড্ডা ও গানের অনুষ্ঠানে আপনার কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিচারণ শুনলাম। নিজের যাপিত জীবনে কোন সময়টা খুব স্মৃতিতাড়নায় থাকে?

এটাতো বলা মুশকিল! গুনে গুনে সংগীতেই তো ৪০ বছর পার হয়ে গেল কবে! সোলসের সময়টাই হয়তো বারবার স্মৃতিতে ফেরে। কারণ সংগীতে সে তো আমার দীর্ঘ সংসার। একটা প্লাটফর্ম থেকে কত মিউজিশিয়ান বের হলো। এটা কিন্তু একটা বিরল ইতিহাস। এ নিয়ে অনেকেই থিসিস করেছে। আমার মনে হয় আমাদের সংগীতের ঐ সময়টা আমাদের আধুনিক গানের ভ্রুণ তৈরির সময় ছিল।

 

বাহ! কী দারুণ বললেন। আইয়ুব বাচ্চুর শিল্পী জীবন আপনার হাতে তৈরি। বাচ্চু ভাই জীবদ্দশাতেও বারবার সে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। এই হিরের টুকরোকে কিভাবে চিনেছিলেন?

না, আসল হিরে চেনার প্রয়োজন হয় না। এমনিতেই জ্বল জ্বল করে ওঠে। সে তার নিজের যোগ্যতাতেই আইয়ুব বাচ্চু হয়েছিলেন। কষ্ট এটাই বড় ভাই হয়ে ছোট ভাইকে আগে পৃথিবী থেকে বিদায় দেওয়া। এর চেয়ে ভারি কিছু হতে পারে না। আমার নিজের অ্যালবাম বলে বলছি না। ওর সুরে আমার একক অ্যালবামের গানগুলো আইয়ুব বাচ্চুর সেরা ক্লাসিক সুর ছিল বলে আমি মনে করি। এক অন্য আইয়ুব বাচ্চু ধরা দিয়েছিল আমার গানের সুরের ক্ষেত্রে।

 

এখন তো একটা অস্থির সময় চলছে। নতুন মৌলিক গান নিয়ে আগ্রহ কমে যাচ্ছে একেবারেই। গানের জনরায় ঢুকেছে, রিমেক, ম্যাশআপ। আবার কেউ কেউ গানের জনপ্রিয় দু-লাইন নিয়ে পুরো গান বেঁধে ফেলছেন। এই প্রবণতাকে কিভাবে দেখছেন?

যুগের চাহিদা বলবে জানি সবাই। কিন্তু আমি বলবো অলসতা। এছাড়া বড় বড় কিছু কর্পোরেট কোম্পানি অনেক টাকাও লগ্নি করছে। এটা আরো হতাশাজনক। তাদের উচিত মৌলিক গান তৈরিতে উত্সাহ দেওয়া। কারণ এই বড় বড় লগ্নি একটি নতুন মৌলিক গানে পেলে নতুন গান জীবন পায়। এছাড়া কোনো তর্ক তৈরিরও সুযোগ থাকে না। আাামাদের দেশে দারুণ সব মেধাবী সংগীত পরিচালক আছেন। কিন্তু দুঃখের ব্যাপার হলো একটি ভালো গান হলেই টুক করে তিনি নিজেই গেয়ে ফেলছেন। এতে গানটা কম মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে, একইসঙ্গে গানটির জন্য প্রকৃত শিল্পীর সুযোগটাও নষ্ট হচ্ছে। আদতে কোনো পক্ষেরই এতে লাভ হয় না। তাই আমি বলবো, যার যেটা কাজ তার সেটিই করা উচিত।

 

নতুন গান নিয়ে কতটুকু ভাবছেন?

ভাবতেই তো চাই। কিন্তু কিভাবে? দেশে ফেরার উপায় নেই। কানাডা এখন ফুল লকডাউন। এ বাড়ি থেকে ওবাড়ি গেলেও পুলিশ ফাইন করছে। দ্রুত সব স্বাভাবিক হোক এটাই একটা চাওয়া। পৃথিবীর এই ক্লান্ত চেহারা দেখতে আর ভালো লাগছে না!