ফেডারেশন কাপ ফুটবল থেকে আবাহনীকে বিদায় করে বসুন্ধরা কিংস ফাইনালে উঠে গেছে। গতকাল রাতে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে উত্তেজনাপূর্ণ দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বসুন্ধরা কিংস ৩-১ গোলে আবাহনীকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে। আগামী রবিবার ফাইনালে বসুন্ধরা কিংস খেলবে সাইফ স্পোর্টিংয়ের বিপক্ষে।
টান টান উত্তেজনার এমন ম্যাচ ফুটবল দর্শক উপভোগ করেছেন। স্টেডিয়ামে আসা হাজার দুই দর্শক দেখে গেছেন গোলের আক্রমণ আর পালটা আক্রমণ, অফসাইড নিয়ে সহকারী রেফারির সঙ্গে বাগবিতণ্ডতা। আবাহনীর খেলোয়াড়রা রেফারি, সহকারী রেফারির দিকে তেড়ে গেলে খেলা বন্ধ। দর্শক ঢিল ছুড়ল। প্রায় ১০ মিনিট খেলা বন্ধ ছিল। ১২০ মিনিটের খেলায় বসুন্ধরা জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ল।
ফেডারেশন কাপ ফুটবলে বসুন্ধরা কিংস এনিয়ে টানা তিন বার ফাইনালে উঠল। ২০১৮ সালে ফাইনালে আবাহনীর কাছে ৩-১ গোলে হেরেছিল তারা। গত ফেডারেশন কাপে ৩-১ গোলে রহমতগঞ্জকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় এবং এবার ফাইনালে ওঠার হ্যাটট্রিক করল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস। মোহামেডান, আবাহনী, শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব ও মুক্তিযোদ্ধার পর বসুন্ধরা পঞ্চম দল যারা টানা তিন বার ফাইনাল খেলছে।
আবাহনী ফেডারেশন কাপ ফুটবলে ১১ বারের চ্যাম্পিয়ন। মোহামেডান ১০ বার জিতেছে ট্রফি। এবার ফাইনালে উঠলে আরেকটি শিরোপার হাতছানি ছিল; কিন্তু সেই আশায় জল ঢেলে দিয়েছে বসুন্ধরা কিংসের ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার দুই ফুটবলার। বিশ্ব ফুটবলে এই দুই দেশের শত্রু সম্পর্ক। আর ঢাকায় খেলতে এসে আর্জেন্টাইন রাউল অস্কার এবং ব্রাজিলের জনাথন-রবসন যেন একে অন্যের পরিপূরক। কালও এই দুই ফুটবলারের রসায়নে গোল হয়েছে।
বসুন্ধরার শুরুটা ছিল দারুণ। আক্রমণের পর আক্রমণে আবাহনীকে কাঁপিয়ে দেয়। ১০ মিনিটে বসুন্ধরার ব্রাজিলিয়ান রবসনের শট আবাহনীর সাইড বারে লেগে ফিরে এলে বেঁচে যায় আবাহনী। তার বিপরীতে ৩১ মিনিটে আবাহনীর ব্রাজিলিয়ান ফ্রান্সিসকো রদ্রিগেজ দ্রুতগতিতে ঢুকে গোল করেন ১-০।
বিরতির পর বসুন্ধরা কিংস খেলোয়াড় পরিবর্তন করে। মাসুক মিয়া জনির বদলে ইব্রাহিম ও বিপলুর বদলে আলমগীর কবির রানাকে মাঠে নামায় বসুন্ধরার স্প্যানিশ কোচ অস্কার ব্রুজন। এই বদলেই বদলে যায় বসুন্ধরা। দ্বিতীয়ার্ধে পুরোটাই বসুন্ধরার দখলে চলে যায় খেলা। গোল শোধ করেন ব্রাজিলিয়ান জনাথন। ৯০ মিনিট শেষ হয় ১-১ গোলে।
অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের সময় বসুন্ধরা কিংস দ্বিতীয় ১৫ মিনিটে আরো দুই গোল করে। ১১১ মিনিটে আর্জেন্টাইন রাউল অস্কার ২-১। খেলার দুই মিনিট বাকি থাকতে আবাহনীর জীবনের গোল বাতিল করা হয়। সহকারী রেফারি ইকবাল আলম অফসাইডের পতাকা তোলেন। গোল বাতিলের প্রতিবাদে খেলা বন্ধ থাকে প্রায় ১০ মিনিট। খেলা পুনরায় শুরু হলে বাঁশি বাজার শেষ ক্ষণে জনাথন নিজের দ্বিতীয় গোলে ৩-১ ব্যবধানে নিশ্চিত করেন বসুন্ধরার ফাইনাল।
ইত্তেফাক/এসআই

