বিচারের নামে মারপিট করে চেয়ারম্যানের মন্তব্য ‘ঠিক হয়েছে’

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০২১, ১৯:৫১

নওগাঁ সদরের কীর্ত্তিপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আতোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে বিচারের নামে ডেকে নিয়ে তিনজনকে মারপিট করার অভিযোগ উঠেছে। তবে এই মারপিট করাকে ঠিক হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ইউনিয়ন পরিষদ চত্ত্বরে এ ঘটনা ঘটে। মারপিটের শিকার ওই তিনজন নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। 

তারা হলেন, মাগুরা গ্রামের ফিরোজ হোসেন (২৭), জাহিদুল ইসলাম নারু (৫৫) ও শাজাহান আলী ভুট্ট (৩৯)।

জানা গেছে, মাগুরা গ্রামের শাজাহান আলী ভুট্ট ও মোহাম্মাদ আলী শাহের ছেলে হাসুসহ পাঁচজনের শরিকানা একটি পুকুর রয়েছে। বুধবার সকালে গ্রামের রাসেল নামে এক ব্যক্তির একটি শ্যালো মেশিন ভাড়া করে নিয়ে এসে পুকুর থেকে জোরপূর্বক পানি তুলছিলেন হাসু। 

এসময় শাজাহান আলীর স্ত্রী শাহনাজ পানি উঠাতে রাসেলকে নিষেধ করে। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে পুকুরের শরিকানা মালিক হাসু লাঠি দিয়ে শাহনাজকে আঘাত করে। বিষয়টি শাহনাজ তার স্বামী শাজাহান আলীকে জানান। পরে শাজাহান আলী ঘটনাস্থলে আসলে আবারো উত্তেজনা শুরু হয়। এক পর্যায়ে শাজাহান আলীর বাড়িতে হামলা চালান প্রতিপক্ষ হাসু। থানায় বিষয়টি অবগত করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। 

ওই দিন বিকালে শ্যালো মেশিনের মালিক রাসেলের বাবা আদেশ আলী বাদী হয়ে গ্রাম আদালতে একটি অভিযোগ করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে গ্রাম আদালতে শাজাহান আলী ভুট্ট, জাহিদুল ইসলাম নারু, ফিরোজ হোসেন ও সাত্তারের বিরুদ্ধে নোটিশ পাঠানো হয়। 

নোটিশে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার সময় তাদের ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত থাকতে বলা হয়। সময় মতো শাজাহান আলী ভুট্ট, জাহিদুল ইসলাম নারু, ফিরোজ হোসেন ইউনিয়ন পরিষদের এলে তাদের একটি ঘরে আটকে রাখা হয়। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চেয়ারম্যান আতোয়ার রহমান কোনো কথা ছাড়াই একে একে ঘর থেকে বের করে লাঠি দিয়ে তাদের মারপিট করে আহত করেন। এ সময় জোরপূর্বক তাদের নিকট থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর করে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরিবারের লোকজন জানতে পেরে আহতদের নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। 

আহত শাজাহান আলী ভুট্ট, জাহিদুল ইসলাম নারু ও ফিরোজ হোসেন জানান, গ্রাম আদালতে বিচারের নামে চেয়ারম্যান আমাদের ইউনিয়ন পরিষদে ডেকে কোনো কথা ছাড়াই লাঠিপেটা করেন। অন্যায়ভাবে আমাদের নির্যাতন করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন মহলের কাছে আমরা চেয়ারম্যান আতোয়ার হোসেনের বিচার দাবি করছি।

চেয়ারম্যান আতোয়ার হোসেন মারপিটের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, যাদেরকে মারপিট করা হয়েছে তারা সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। তাদেরকে মারপিট করা আমার দৃষ্টিতে ঠিক হয়েছে।

নওগাঁ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মির্জা ইমাম উদ্দিন বলেন, বিচারের নামে কাউকে মারপিট করার নিয়ম ইউপি চেয়ারম্যানদের নেই। গ্রাম আদালতে চেয়ারম্যানদের নির্দিষ্ট কিছু ক্ষমতা রয়েছে। প্রয়োজনের তিনি নোটিশ ও জরিমানা করতে পারেন। 

নওগাঁ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোহরাওয়ার্দি হোসেন জানান, থানায় এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ দায়ের করেননি। অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ইত্তেফাক/জেডএইচ