বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি
মিলন রহমান, স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া
উত্তরাঞ্চলের প্রাণকেন্দ্র বগুড়া শহরের যানজট নিত্যদিনের। বিশেষ করে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইকের কারণে যানজট বেড়েছে আরো অনেক। প্রশাসন থেকে যানজট নিরসনে অনেক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও কোনোটিই কাজে আসেনি। তাই নতুন বছরের শুরুতেই বগুড়া জেলা পুলিশের একটি সিদ্ধান্তে শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথা এলাকায় যানজট কমলেও জনগণ পড়েছেন চরম দুর্ভোগ ও ভোগান্তিতে। পুলিশ কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না করে শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথা ও তার আশপাশে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় বেশির ভাগ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। নতুন বছরের ১ তারিখ থেকে ট্রাফিক পুলিশ এ কাজ শুরু করেছে।
বগুড়া শহরের সাতমাথা সাতটি সড়কের সংযোগস্থল। এই শহরের উত্তর থেকে দক্ষিণে, দক্ষিণ থেকে উত্তরে, পূর্ব থেকে পশ্চিম ও পশ্চিম থেকে পূর্বে সড়কের বাসিন্দারা ব্যাটারিচালিত বা অটোরিকশা নিয়ে সাতমাথা অতিক্রম করতে পারছেন না। সাতমাথার অনেক অনেক আগেই ব্যারিকেড করে দিয়েছে পুলিশ। ফলে এসব এলাকায় এসে শহরের মানুষ হেঁটে অন্য পাড়ে গিয়ে রিকশা নিয়ে বাড়ি ফিরছে। বিশেষ করে শহরের প্রধান বাজার ফতেহআলী ও রাজাবাজার থেকে মানুষ বাজার করে রিকশা নিয়ে বাড়িতে যেতে পারছেন না। শহরের বনানী-মাটিডালী সড়কে বড়গোলা থেকে ইয়াকুবিয়া স্কুলের মোড় পর্যন্ত দুই কিলোমিটার সড়ক ছাড়াও সাতমাথায় প্রবেশে মুখগুলোতে ব্যারিকেড দিয়েছে পুলিশ। ব্যাটারিচালিত রিকশা যেন সাতমাথা যেতে না পারে সেজন্য শহরের বড়গোলা, ১ নম্বর রেল ঘুমটি, চেলোপাড়া, জজকোর্ট (ঘোড়ার মোড়), ইয়াকুবিয়া স্কুলের মোড়, স্টেশন রোডে প্রেসক্লাবের সামনে, গোহাইল রোডে টিটু মিলনায়তনে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইকের কারণে পায়ে চালিত রিকশা হারিয়ে গেছে বেশ কয়েক বছর আগেই। এখন পায়ে চালিত রিকশার কদর বাড়লেও চলাচলের জন্য খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে শহরে বিভিন্ন কাজে আসা এবং বাজার করতে আসা লোকজনকে পড়তে হয়েছে চরম বিপাকে। মাঝ পথে রিকশা থেকে নেমে বাজারের ব্যাগ কিংবা লাগেজ নিয়ে হাঁটতে গিয়ে নানা ধরনের বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে মানুষকে। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, শহরে যানজট নিয়ন্ত্রণে জেলা পুলিশের এ সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়ার জন্য গত কয়েক দিন ধরে শহরে মাইকিং করা হয়েছে। এছাড়াও শহরে ২০ হাজারের বেশি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইক অনুমোদনবিহীনভাবে চলাচল করায় যানজট নিয়ন্ত্রণ করতে ট্রাফিক পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়। পুলিশের নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলো ঘুরে দেখা গেছে, শহরের রাজাবাজার, ফতেহ আলী বাজার ছাড়াও সাতমাথাকেন্দ্রিক কাজে আসা লোকজনকে অর্ধেক পথ হেঁটে যাতায়াত করতে হচ্ছে। শহরের নির্দিষ্ট এই পয়েন্টগুলোতে রিকশা আটকে দেওয়া নিয়ে কর্তব্যরত পুলিশের সঙ্গে তর্ক-বিতর্কে জড়িয়ে পড়ছেন রিকশা যাত্রীদের অনেকেই। এসব যাত্রীকে বোঝাতে গিয়ে পুলিশকেও হিমশিম খেতে হচ্ছে।
বগুড়া উপশহরের বাসিন্দা ব্যবসায়ী আল ফারুক হোসেন বলেন, শহরের উত্তর মানুষকে হাসপাতালে চিকিত্সা, স্কুল, কলেজ যেতে হলে সাতমাথা পার হয়ে যেতে হয়। এখন পায়ে ঠেলা রিকশা তেমন নেই। বাধ্য হয়ে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইকে করে যাতায়াত করতে হয়। যানজট কমাতে বিকল্প ব্যবস্থা না করে পুলিশ এভাবে চলাচল বন্ধ করাতে তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তিনি বলেন, আমরাও চাই শহর যানজটমুক্ত থাকুক। কিন্তু অধিকাংশ মানুষকে ভোগান্তির মধ্যে ফেলে নয়। সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) বগুড়া জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মাছুদার রহমান হেলাল বলেন, পুলিশের উচিত ছিল কোনো ব্যবস্থা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া। তাছাড়া শহরের পরিধি আগের তুলনায় যে হারে বেড়েছে তাতে কিছু ব্যাটারিচালিত রিকশাকে লাইসেন্স দিয়ে এ দুর্ভোগ কমানো যেতে পারে।
বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা বলেন, শহরের যানজট সমস্যা অনেক দিনের। তাই জনগণের স্বার্থেই এই কাজটি করা হয়েছে। যানজট নিয়ন্ত্রণে মানুষের যেন ভোগান্তি না হয় সেই ব্যবস্থাও করা হবে। ভোগান্তিতে পড়া রাস্তায় চলাচল করা বৃদ্ধ, নারী, শিশুকে পুলিশ সহযোগিতা করবে। যদিও এসব কাজ পৌরসভার। কিন্তু পুলিশ অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছে মাত্র।
