দেখতে অনেকটা কমলালেবুর মতো, তবে কমলা নয়। আকারে বেশ ছোট, ডিম্বাকৃতি মিষ্টি স্বাদের আর ঘ্রাণের উজ্জ্বল কমলা রঙের এই মজার ফলটি লেবু পরিবারের সবচেয়ে ছোট আকৃতির এবং একমাত্র সদস্য, যার ছোলাসহ খেতে কোনো অসুবিধা নেই। পাতলা ছোলাসহ খেতে বেশ মিষ্টি। উদ্ভিদবিজ্ঞানীরা নাম দিয়েছেন ‘সাইট্রাসজাপনিকা’। প্রচলিত আরেকটি নাম হলো ‘কুমকোয়াত’, চীনের ক্যান্টন প্রদেশের লোকজনেরা নামটি দিয়েছে। এর অর্থ হচ্ছে ‘স্বর্ণকমলা’।
চীনা এবং সংস্কৃত ভাষায় অত্যন্ত প্রাচীন গ্রন্থগুলো থেকে জানা যায় যে, ফলটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পুরো অঞ্চলে প্রায় চার হাজার বছর ধরে চাষ করা হচ্ছে—বিশেষ করে ভারত, চীন, মালয়েশিয়া, মিয়ানমার, কাশ্মীর, জাপান, তাইওয়ান, ফিলিপাইন এবং আরো অনেক দেশে। ১৮৪৬ সালে ব্রিটিশ খ্যাতিমান সংগ্রাহক রবার্ট ফরচুন ইউরোপে প্রথম কুমকোয়াত চাষ করেন। বর্তমানে ইউরোপ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্বর্ণকমলার ব্যাপক চাষ হয়। লেবু পরিবারের বিভিন্ন প্রজাতির সঙ্গে সংকরায়নের ফলে কুমকোয়াতের অনেকগুলো প্রকরণ উদ্ভাবন করা সম্ভব হয়েছে।
সাধারণত লেবু জাতীয় ফলে চিনির পরিমাণ কম থাকে। খাদ্যপ্রাণে ভরপুর এ ফলটি অনেকেরই খুব প্রিয়, কারণ ভিটামিন সি-এর মতো অ্যান্টি অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ আর বিভিন্ন মিনারেল বা খনিজ উপাদানে ভরপুর। হূদযন্ত্র ভালো রাখে। চেহারাতে রূপ-লাবণ্য দীর্ঘদিন ধরে রাখতে সাহায্য করে। আঁশ সমৃদ্ধ বলে কোষ্ঠকাঠিন্য উপশমে ভালো কাজ দেয়। ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। আকার-আয়তনে ছোট হলেও পুষ্টিগুণে স্বর্ণকমলা কম যায় না। সুযোগ থাকলে স্বাস্থ্যসচেতন ব্যক্তিমাত্রই ফলটির স্বাদ আস্বাদনে উত্সাহী হবেন।
বসন্তের শুরুতে সাদা সুগন্ধি ফুলে ফুলে ছেয়ে যায় স্বর্ণকমলার ৩ থেকে ৮ মিটার (১০-১৩ ফুট) উঁচু গাঢ় সবুজ পাতার গাছ। একটি গাছে ফলের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। ইউরোপে জানুয়ারি থেকেই বাজারে ফলটি আসতে শুরু করে। তবে স্থানভেদে সময়ের হেরফের হতে পারে। মূল্য কেজিপ্রতি ৪ থেকে ৮ ইউরো।
সহজেই গ্রাফটিং করে চাষ করা যায়। স্বর্ণকমলার সূর্যালোক খুব পছন্দ, জলাবদ্ধতা একদমই পছন্দ নয়। আমাদের দেশে বিভিন্ন ফলের চাষ করে অনেকে অর্থোপার্জনে স্বাবলম্বী হয়েছেন। স্বর্ণকমলা চাষে সে সম্ভাবনা অনেক।
