নারায়ণগঞ্জ মর্গে লাশ নিয়ে ভোগান্তি!

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০২১, ২২:৪৫

অস্বাভাবিক মৃত্যুর কারণ জানতে লাশ মর্গে পাঠানো হয়। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গেই পঁচে যায় লাশ। এখানে বিকাল ৪টার পর কোনো লাশ এলে পরের দিন করা হয় ময়নাতদন্ত। আর বৃহস্পতিবার হলে তো কথাই নেই; সেই লাশ পেতে রবিবার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় স্বজনদের। অজ্ঞাত পরিচয় লাশ হলে নিতে হয় সিটি করপোরেশনের অনুমতি। অনেক সময় লাশ পাঠালেও সুরতহাল ও চালান পাঠাতে দেরি করে পুলিশ। এতে ভোগান্তিতে পড়েন মৃতের স্বজনরা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে লাশ ফ্রিজিং করার জন্য মরচুয়ারি কুলার নেই। কয়েক বছর ধরে মর্গের এসিও নষ্ট। মরচুয়ারি কুলার না থাকায় লাশ ময়নাতদন্তের আগে ও পরে মেঝেতে রাখা হয়। ফলে মর্গ থেকে লাশ বের করার সময় আশপাশে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। তারা জানান, প্রতিবছর গড়ে চার শতাধিক লাশ নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে আসে। নারায়ণগঞ্জ ছাড়াও পাশের জেলা মুন্সীগঞ্জ থেকে অনেক সময় লাশ পাঠায় পুলিশ। হাসপাতালের রেজিস্টারের তথ্যমতে, ২০২০ সালের অপমৃত্যুজনিত ঘটনায় জানুয়ারি থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত এখানে ৪০১টি লাশ ময়নাতদন্ত হয়। হাসপাতালের বহির্বিভাগের ছয় জন চিসিত্সক পর্যায়ক্রমে এ ময়নাতদন্ত করেন।

১৭ ডিসেম্বর ফতুল্লায় সেপটিক ট্যাংক বিস্ফোরণে ১২ বছরের শিশু জিসান নিহত হয়। জিসানের বাবা মামুন জানান, ঐ দিন বেলা ১২টার দিকে জিসানের লাশ মর্গে নেওয়া হলেও ময়নাতদন্ত হয় পরদিন। এরপর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয় লাশ। ২১ ডিসেম্বর রূপগঞ্জে পাপিয়া নামে এক তরুণী আত্মহত্যা করেন। সন্ধ্যা ৬টার দিকে পাপিয়ার লাশ মর্গে আনা হয়। পরদিন দুপুরে হয় ময়নাতদন্ত। পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয় সন্ধ্যায়। মর্গের ডোম দর্পণ দাস বলেন, ‘আমার কিছু করার নেই। ডাক্তার যখন আসে তখন ময়নাতদন্ত হয়। একটি লাশ হলে টেবিলে রাখা হয়। বেশি হলে নিচেই কাজ করতে হয়। বিকালের পর লাশ কাটা হয় না।’

হাসপাতালের আবাসিক চিকিত্সক আসাদুজ্জামান বলেন, ‘সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে লাশ এলে বিকাল ৪টার মধ্যে ময়নাতদন্ত করা হয়। ৪টার পর এলে পরের দিন ময়নাতদন্ত হয়। এছাড়া অনেক সময় পুলিশ লাশ পাঠালেও সুরতহাল ও চালান কপি পাঠায় না। এ কারণেও দেরি হয়। অজ্ঞাত পরিচয় লাশের ক্ষেত্রে বেশি সমস্যা হয়। এসব লাশ দাফনের জায়গা নির্ধারণের পর ময়নাতদন্ত হয়। সিটি করপোরেশন থেকে কবরস্থানের অনুমতি পেতে দেরি হলে ময়নাতদন্তও দেরি হয়।’

নারায়ণগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘মর্গে মরচুয়ারি কুলারের বিশেষ প্রয়োজন জানিয়ে অনেক আগেই কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এখনো ব্যবস্থা হয়নি।’

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘পুলিশ লাশের সঙ্গে মর্গে সুরতহাল ও চালান পাঠায়। কোথাও আগে পরে হয়ে থাকলে আমরা সে বিষয়ে জানি না। এ বিষয়টি আরো গুরুত্ব দেবে পুলিশ।’ নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেডিক্যাল অফিসার ডা. শেখ মোস্তফা আলী বলেন, ‘অজ্ঞাত পরিচয় লাশ দাফনের জন্য আমাদের কাছে আবেদন করে পুলিশ। আবেদনের তিন ঘণ্টার মধ্যে সিদ্ধিরগঞ্জের পাঠানটুলি কবরস্থানে দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়।’