শ্রদ্ধা ভালোবাসায়, গানে-কথায়-কবিতায় সদ্যপ্রয়াত নাট্যজন মান্নান হীরাকে স্মরণ করেছে বাংলাদেশ পথনাটক পরিষদ। গতকাল বিকালে শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় এই আয়োজন। শুরুতেই নাট্যশালার উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে মান্নান হীরার বিভিন্ন নাটকের অংশ বিশেষ মঞ্চায়ন করে আরণ্যক নাট্যদল। পরে নাট্যশালার লবিতে স্থাপিত প্রয়াত এই নাট্যকার ও নির্দেশকের প্রতিকৃতির সামনে মোমবাতি প্রজ্বালন করে নাট্যকর্মীরা। মান্নান হীরার জীবন ও কর্মের ওপর নির্মিত একটি ভিডিওচিত্রও প্রদর্শন করা হয়।
স্মরণানুষ্ঠানে মান্নান হীরার স্মৃতিচারণ করেন নাট্যজন মামুনুর রশীদ, আতাউর রহমান, শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী, লাকী ইনাম, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, নাট্যকার ও নির্দেশক মাসুম রেজা, ঝুনা চৌধুরী, পথনাটক পরিষদের সহসভাপতি মিজানুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আহম্মেদ গিয়াস, নাট্যকার রতন সিদ্দিকী, শাহ আলম দুলাল প্রমুখ। মামুনুর রশীদ বলেন, ‘মান্নান হীরার কাজের মধ্যেই মানুষের জন্য ভালোবাসা ছিল। দুই বাংলাতেই যারা থিয়েটার করি তাদের সবার কণ্ঠ ম্রিয়মাণ। এই ম্রিয়মাণ কণ্ঠের ভেতর মান্নান হীরা যে আলো ফেলেছিল তা নিভে গেল। প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে তার পথনাটকের হাল এখন কে ধরবে? তাও অনিশ্চিত। আশা করি, তরুণরা এগিয়ে আসবেন।’ আতাউর রহমান বলেন, ‘প্রচারবিমুখ মানুষ ছিলেন মান্নান হীরা। শেকসপিয়রকে মানুষ যেমন ৪০০ বছর পরেও স্মরণ করছে মান্নান হীরাকেও তেমনি বাঙালি চিরদিন মনে রাখতে বাধ্য হবে। কর্মের মধ্য দিয়ে তিনি আমাদের মধ্যে প্রতিদিন ফিরে আসবেন।’
লিয়াকত আলী লাকী বলেন, এই শিল্পী যেসব সৃষ্টি দিয়ে দেশকে উপকৃত করেছেন, তা অনন্য।
লাকী ইনাম বলেন, দেশে মৌলিক নাটকের জায়গায় তার মতো আর কেউ নেই। গোলাম কুদ্দুছ বলেন, ‘আমাদের চেতনার বাতিঘর ও অন্যতম কান্ডারি ছিলেন মান্নান হীরা। ঝুনা চৌধুরী বলেন, যারা মনের ভেতর শক্তি জুগিয়ে থাকেন তাদের মধ্যে মান্নান হীরা অন্যতম। কথামালার ফাঁকে ফাঁকে আবৃত্তি পরিবেশন করেন রফিকুল ইসলাম, শাহাদাত্ হোসেন নিপু, মাহফুজা আক্তার মিরা। অনুষ্ঠানে শোকসঙ্গীত পরিবেশন করেন চেতনা রহমান ভাষা ও কাজী মানাফ।
