আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কোনো অশুভ শক্তি বানচাল করতে পারবে না। জনগণ সতর্ক পাহারায় রয়েছে। এ ধরনের কোনো অপতত্পরতা চালালে জনগণ তা প্রতিহত করবে। গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগ দুই-তিন দিনের মধ্যে জোট শরিকদের সঙ্গে বসার পর প্রার্থী চূড়ান্ত করবে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমাদের কাছে মাঠপর্যায়ের সার্ভে রিপোর্ট রয়েছে সব দলের বিষয়ে। আমরা এ সার্ভে রিপোর্ট থেকে নির্বাচনে বিজয়ের বিষয়ে আশাবাদী।’ নির্বাচন সামনে রেখে ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে জোট বাঁধা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বিজয়ী হলে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার মতো নেতা কে আছেন- এমন প্রশ্ন রেখে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমি জানতে চাই, দেশবাসীও জানতে চায়, বলুন প্রধানমন্ত্রী কে হবেন? ড. কামাল হোসেন না তারেক রহমান? কে হবেন? হু ইজ দেয়ার পিএম ফেইস।’
ভাবতে পারিনি মির্জা ফখরুল
এতটা মিথ্যা বলবেন
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমি ভাবতে পারিনি মির্জা ফখরুল এতটা মিথ্যা কথা বলবেন। এটা কে বিশ্বাস করবে? ছাত্রলীগ নাকি হামলা করেছে, এটা কেউ বিশ্বাস করবে? মির্জা ফখরুলের মুখে এমন মিথ্যা কথাও শুনতে হবে। পল্টন হামলা নিয়ে মির্জা ফখরুলের বক্তব্য বিএনপিও বিশ্বাস করে না। তিনি বলেন, নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপি যে তান্ডব চালিয়েছে, সেটি পূর্বপরিকল্পিত। তারা আসলে নির্বাচনে আসতে চায় না। নির্বাচন বানচাল করতেই তারা এ অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। নির্বাচনী সুবাতাস কারা নষ্ট করছে? নির্বাচন ভন্ডুলের যে অশুভ তত্পরতা, তা বুধবার প্রমাণ করেছে বিএনপি। তারা যদি নির্বাচন চায়, তাহলে তাদের এ অশুভ তত্পরতা বন্ধ করতে হবে।’ ওবায়দুল কাদের বলেন, পূর্বপরিকল্পনা নিয়ে বিএনপি পুলিশেরে ওপর হামলা চালিয়েছে। বিএনপিকর্মীরা সেখানে দিয়াশলাই জ্বালিয়ে গাড়িতে আগুন ধরিয়েছে। তারা পুলিশের গাড়িতে উঠে শেখ হাসিনার পতন চেয়েছে। এটা কেন?
ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচন এক ঘণ্টাও পেছাক, তা চায় না আওয়ামী লীগ। নির্দিষ্ট সময়ে নির্বাচন হবে। বিএনপি যে দাবি করেছে, তা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য নয়, নির্বাচন বানচাল করার জন্য।
মনোনয়নে জনমতের প্রতিফলন ঘটবে
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দলের কাছে দেশি-বিদেশি ৫-৬টি রিপোর্ট আছে। এগুলো স্টাডি করা হচ্ছে। মনোনয়নে জনমতের প্রতফলন ঘটবে। আর শরিকদের মধ্যে ৬৫ থেকে ৭০টি আসন বণ্টন করার পরিকল্পনা আওয়ামী লীগের রয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকালে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সংসদীয় বোর্ডের সভা শেষে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
