বরিশাল পুলিশে কর্মরতদের সম্পত্তির অনুসন্ধান শুরু

আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০২১, ২২:৩৪

বরিশাল মেট্রোপলিটনে মাঠ পর্যায়ে দীর্ঘদিন কর্মরত থেকে বিলাসবহুল বাড়িসহ বিপুল সম্পত্তির মালিক পুলিশ সদস্যদের বদলি করা হচ্ছে। বরিশাল মেট্রোপলিটনের চার থানা এবং গোয়েন্দা বিভাগে ঘুরেফিরে দীর্ঘদিন কর্মরতদের তালিকা করছে ঊর্ধ্বতনরা। এ বদলির খবর পুলিশের অন্য সদস্যদের মধ্যে জানাজানি হওয়ার পর অনেকের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে আতঙ্ক।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) এক শীর্ষ কর্মকর্তা ইত্তেফাককে জানিয়েছেন, বিভিন্ন সূত্রের খবর অনুযায়ী এ বদলি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তিনি জানান, যারা দীর্ঘদিন কর্মরত থেকে ইমেজ ধরে রাখতে পারেননি অথবা বিপুল বিত্তবৈভবের মালিক হয়েছেন তাদের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। তবে এক সঙ্গে অনেকের বদলি না করে পর্যায়ক্রমে চার-পাঁচ জন করে এ বদলি করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই খোদ মহানগরীসহ পার্শ্ববর্তী উপজেলা ও জেলায় যারা বিপুল সম্পত্তি গড়েছেন তাদের নাম ঊর্ধ্বতনদের কাছে পৌঁছে গেছে। মেট্রোপলিটনের এমন কয়েক জনকে বদলি করা হয়েছে বলে পুলিশের এ শীর্ষ কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন। সম্প্রতি বরিশাল মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের নির্যাতনে রেজাউল করিম রেজা (৩০) নামে শিক্ষানবিশ আইনজীবীর মৃত্যুতে এসআই মহিউদ্দিন মাহির একই এলাকার বহুতল ভবনসহ বিপুল সম্পত্তি নিয়ে সংবাদ প্রচার হলে টনক নড়ে পুলিশ বিভাগের। মহিউদ্দিন ছাড়াও মাঠ পর্যায়ে কর্মরত ও স্থায়ীভাবে বসবাসরতদের বদলির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয় পুলিশ বিভাগ।

প্রসঙ্গত শনিবার দৈনিক ইত্তেফাকে বরিশাল মেট্রোপলিটন গঠিত হওয়ার পর থেকে ঊর্ধ্বতনরা কেউ বেশি দিন কর্মস্থলে না থাকলেও মাঠ পর্যায়ে কর্মরত একাধিক সদস্য ঘুরেফিরে বছরের পর বছর মেট্রোপলিটনেই কর্মরত থেকে বিলাসবহুল বহুল বাড়িসহ বিপুল সম্পত্তির মালিক সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশিত হয়।

এদিকে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি) সদস্যদের নিয়ে গতকাল শনিবার উদ্দীপনামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ১০টায় নগরীর চাঁদমারী পুলিশ অফিসার্স মেসে কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বিএমপি কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান বলেন, ‘মা’ এর বদনাম যেমন অসহনীয়, তেমনি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ পুলিশের বদনামও অসহনীয়। তিনি বলেন, প্রতিটি অপরাধের তদন্তে যেন সঠিক চিত্র উঠে আসে। পেশার বাইরে দুরভিসন্ধিমূলকভাবে লাভবান হওয়ার জন্য কোনো অন্যায় চেষ্টা, অনুকম্পা, অগ্রহণযোগ্য কোনো আচরণ বরদাস্ত করা হবে না।

কর্মশালায় অতিথি বক্তা হিসেবে ‘শিষ্টাচার ও সদাচরণ’ শীর্ষক বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার প্রলয় চিসিম। ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী শীর্ষক আলোচনা করেন অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার রুনা লায়লা। উপ-কমিশনার (সদর) আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় উপ-কমিশনার মো. জুলফিকার আলী হায়দার, উপ-কমিশনার মো. মোকতার হোসেন, উপ-কমিশনার মোহাম্মদ জাকির হোসেন মজুমদার, উপ-কমিশনার মো. খাইরুল আলম, উপ-কমিশনার খান মুহাম্মদ আবু নাসের এবং উপ-কমিশনার মো. মনজুর রহমানসহ কর্মকর্তা থেকে কনস্টেবল পর্যন্ত বিএমপির প্রায় শতাধিক সদস্য অংশগ্রহণ করেন। পর্যায়ক্রমে ধারাবাহিকভাবে উদ্দীপনামূলক কর্মশালায় বিএমপির সব সদস্য অংশগ্রহণ করবেন বলে পুলিশ সূত্র জানায়।