মেয়াদের শেষ দিনগুলোতে টিকে থাকার পরীক্ষায় পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কংগ্রেস ভবন ক্যাপিটলে তার সমর্থকদের হামলা, ভাঙচুর ও মার্কিন গণতন্ত্রকে হুমকির মুখে ফেলার জন্য তাকে সরাতে তত্পর হয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। তাকে অভিশংসিত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি। এই প্রক্রিয়ায় সমর্থন দিচ্ছেন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারাও। এদিকে এক জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বেশির ভাগ মানুষ ট্রাম্পের অপসারণের পক্ষে। অন্যদিকে বিতর্কিত ও উসকানিমূলক বার্তা দেওয়ায় ট্রাম্পের ব্যক্তিগত একাউন্ট স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দিয়েছে মাইক্রোব্লাগিং সাইট টুইটার। খবর সিএনএন, বিবিসির।
গত ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে পরাজিত হলেও এখনো মেনে নেননি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি নির্বাচনের ফল উলটে দিতে আইনি প্রক্রিয়াসহ সব রকমের চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন। গত বুধবার কংগ্রেসে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জয় ঘোষণা আটকাতে তার সমর্থকরা ক্যাপিটলে হামলা চালিয়েছে। তবে এর পর দিন ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী ২০ জানুয়ারি বাইডেনের কাছে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন।
কিন্তু ক্যাপিটল ভবনে হামলা মার্কিন গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা। এ কারণে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ট্রাম্পকে অপসারণ করতে চায় ডেমোক্র্যাটরা। তাদের এই প্রক্রিয়ায় সমর্থন রয়েছে কিছু রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারও। এ কারণে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শেষ দিনগুলো অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়েই যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ডেমোক্র্যাটারা চাইছে, মন্ত্রিসভার সদস্যরা ও ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী ব্যবহার করে ট্রাম্পকে সরাতে উদ্যোগ নেবে। এটা না হলে দ্বিতীয় দফায় তাকে অভিশংসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এরই মধ্যে অভিশংসন আর্টিকেল প্রস্তুতে কাজ শুরু করেছে ডেমোক্র্যাটরা। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিদ্রোহে উসকানির অভিযোগ আনা হচ্ছে। সোমবারই ‘ফাস্ট ট্রাক’ ভিত্তিতে ট্রাম্পকে অভিশংসিত করতে প্রতিনিধি পরিষদে তা উত্থাপন করা হবে। ডেমোক্র্যাট নেতারা বলছেন, অভিশংসন প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক দীর্ঘ হবে না। এটা হলে দ্বিতীয়বারের মতো অভিশংসনের মুখে পড়বেন ট্রাম্প।
সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও তার ছেলে হান্টার বাইডেনের বিরুদ্ধে কথিত দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে ইউক্রেনকে চাপ প্রয়োগ, সামরিক সহায়তাকে ঘুষ হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগে প্রথমবার ২০১৯ সালের শেষদিকে অভিশংসন প্রক্রিয়ার মুখে পড়েন ট্রাম্প। প্রতিনিধি পরিষদে তাকে অভিশংসিত করা হয়। কিন্তু সিনেটের ভোটাভুটিতে তিনি রক্ষা পান।
এবারও অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু হলে প্রতিনিধি পরিষদে ট্রাম্পের অভিশংসিত হওয়া অনেকটাই নিশ্চিত। কিন্তু সিনেটে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য তাকে অভিশংসনে মত দেবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। ট্রাম্পের এক উপদেষ্টা সিএনএনকে বলেন, তার প্রায় সব জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাই পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন এবং তার অভিশংসন আসন্ন।
ন্যান্সি পেলোসি শুক্রবার ডেমোক্র্যাটিক ককাসের সভায় জানান, তিনি ট্রাম্পের পদত্যাগ করার কথাই বলবেন। কিংবা ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স ও মন্ত্রিসভাকে ২৫তম সংশোধনীর মাধ্যমে তাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। যদি এভাবে না হয়, তবে অভিশংসনই আসল বিকল্প। ট্রাম্পকে সরাতে প্রতিনিধি পরিষদের ১৬০ জনের বেশি প্রতিনিধি প্রস্তাবে সই করেছেন। সিনেটের মেজরিটি লিডার মিচ ম্যাককোনেল জানিয়েছেন, প্রতিনিধি পরিষদে কোনো অভিশংসন আর্টিকেল পাশ হলে সিনেটে তা দ্রুত সময়ে উত্থাপিত হবে।
এদিকে রয়টার্স/ইপসসের জরিপে বলা হয়েছে, ৫৭ শতাংশ মার্কিনি এ মুহূর্তে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অপসারণের পক্ষে। পার্লামেন্টে হামলার পর এ জরিপ হয়েছে।
ট্রাম্পের টুইটার অ্যাকাউন্ট স্থায়ীভাবে বন্ধ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্পকে টুইটার থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। যোগাযোগ মাধ্যমটি বলেছে, ‘রিয়াল ডোনাল্ড ট্রাম্প’ অ্যাকাউন্ট থেকে টুইটগুলো গভীর পর্যবেক্ষণ এবং সেটাকে ঘিরে যে প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে তার ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। ট্রাম্পের অ্যাকাউন্টটি টুইটার কর্তৃপক্ষ এর আগে ১২ ঘণ্টার জন্য অচল করে রেখেছিল। বৃহস্পতিবার ফেসবুক বলেছে, তারা ট্রাম্পকে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য নিষিদ্ধ করেছে। জনপ্রিয় গেমিং প্ল্যাটফরম টুইস্ট ট্রাম্পকে অনির্দিষ্ট কালের জন্য নিষিদ্ধ করেছে। এই চ্যানেল ব্যবহার করে তিনি তার সমাবেশ সম্প্রচার করতেন। স্ন্যাপচ্যাট থেকেও নিষিদ্ধ তিনি।
এদিকে টুইটার অ্যাকাউন্ট বন্ধ হওয়ার পর বিকল্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে সক্রিয় হওয়ার কথা জানিয়েছেন ট্রাম্প।
অভিষেক অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের না থাকা ভালো :বাইডেন
আগামী ২০ জানুয়ারি বাইডেনের অভিষেক অনুষ্ঠানে না থাকার ঘোষণা দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে বাইডেন বলেছেন, ট্রাম্পের না থাকাটা একটি ভালো জিনিস। দুই জনের ঐকমত্যের জিনিস খুব কম আছে। তার মধ্যে এটি একটি। তবে ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স থাকবেন এটা জেনে আমি খুশি। শুক্রবার ডেলাওয়ারে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
এদিকে ২০ জানুয়ারি অভিষেক অনুষ্ঠানের দিন সহিংসতা চালানোর জন্য আহ্বান জানাচ্ছে চরমপন্থিরা। বিশেষজ্ঞরা এ ব্যাপারে সতর্ক হতে বলেছেন।
