রাজধানীর পূর্ব নাখালপাড়ায় শ্যালিকাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে স্বামী। নিহতরা হলেন ইয়াসমিন আক্তার (২৮) ও তার বোন শিমু (১৭)। গতকাল শনিবার দুপুরে পূর্ব নাখালপাড়ার সমিতির বাজার গলির তিন তলার বাড়ির তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর আশপাশের বাসিন্দারা ঐ বাসা থেকে ঘাতক রনি মিয়াকে (৪০) বঁটিসহ আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। রনি মিয়া পেশায় রিকশাচালক। তিনি জুয়া খেলতেন।
পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, ইয়াসমিন আক্তার শিল্পাঞ্চল এলাকার একটি তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিক। শিমু সম্প্রতি নাবিস্কো এলাকায় একটি প্রতিষ্ঠানে কাজে যোগ দিয়েছিলেন। তাদের বাবার বাড়ি নরসিংদী জেলায়। রনির বাড়ি জামালপুরে। রনি রিকশা চালালেও বেশির ভাগ সময় বেকার থাকতেন। জুয়া খেলার পাশাপাশি মাদক সেবনও করেন রনি। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ সৃষ্টি হয়। জুয়া ও মাদকের পথ থেকে সরে না আসায় চার মাস আগে রনিকে তালাক দেন ইয়াসমিন। এতে রনি ক্ষুব্ধ হন। গত ১ জানুয়ারি ইয়াসমিন ও শিমু ২৫৩/৩ পূর্ব নাখালপাড়া ভবনের তৃতীয় তলায় একটি কক্ষে ভাড়ায় ওঠেন। রনি-ইয়াসমিন দম্পতির দুই মেয়ে। তিন বছরের মেয়ে নরসিংদীতে নানির বাসায় থাকে। বড় মেয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী রোকসানা মায়ের সঙ্গে থাকে। রোকসানা জানায়, তালাকের আগে প্রায়ই তার মাকে তার বাবা মারধর করতেন। ঘরের জিনিসপত্র বিক্রি করে জুয়া খেলতেন ও মাদক সেবন করতেন তার বাবা। এ কারণেই তার মা বাবাকে তালাক দেন।
পুলিশ জানিয়েছে, গতকাল দুপুর ১২টার দিকে রনি মিয়া ইয়াসমিনের বাসায় যান। শিমু একা বাসায় ছিলেন। শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করে কম্বলে পেঁচিয়ে খাটে শুইয়ে রাখেন রনি। সাবেক স্ত্রী ইয়াসমিনের অপেক্ষায় ঐ ঘরেই লাশের পাশে বসেছিলেন তিনি। তৈরি পোশাক কারখানা থেকে টিফিন সময়ে দুপুর সোয়া ১টার দিকে ইয়াসমিন বাসায় আসেন। ইয়াসমিন ঘরে ঢোকামাত্র রনি বঁটি দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। তার চিত্কার শুনে আশপাশের লোকজন সেখানে জড়ো হন। জানালা দিয়ে রনিকে কোপাতে দেখতে পান কয়েকজন। লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে রনি ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেন।
প্রতিবেশী মীর মিনার জানান, তিনি জানালায় উঁকি মেরে দেখেন, রনি তার সাবেক স্ত্রীকে বঁটি দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাচ্ছে। তিনি বারবার জানালার ওপাশ থেকে বারণ করেন রনিকে। কিন্তু কোনো কথায় কর্ণপাত না করে কোপাতে থাকেন। এক পর্যায়ে মিনার জানালা ভেঙে ঐ বাসায় ঢোকেন। আশপাশের লোকজনও ছুটে আসে। রনিকে আটকে রেখে ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশ ডাকা হয়। পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয় রনিকে। গণপিটুনিতে আহত হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে চিকিত্সা দেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন তিনি।
খবর পেয়ে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইমসিন ইউনিট ঘটনাস্থলে আসে এবং হত্যাকাণ্ডের আলামত সংগ্রহ করে। সন্ধ্যায় পুর্িলশ দুই বোনের লাশ উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠায়।
