ভোলার লালমোহন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন আহমেদ, পৌরসভার মেয়র এমদাদুল ইসলাম তুহিন, সদ্য বদলি হওয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাবিবুল হাসান রুমি এবং সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এ কে এম নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে শতকোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠছে। এ ব্যাপারে ভোলার স্পেশাল জজ আদালতে পৃথকভাবে এজাহার দায়ের করা হয়েছে। দায়েরকৃত এসব এজাহার দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বরিশালের সমন্বিত কার্যালয়ে এফআইআরের জন্য পাঠিয়েছেন ভোলার স্পেশাল জজ আদালত। এর মধ্যে সদ্য ইউএনও হাবিবুল হাসান রুমিকে প্রধান আসামি করে দায়ের হওয়া এজাহারটি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এফআইআর হিসেবে রেকর্ড করে প্রথম দফা তদন্তও করেছে।
এই চারটি এজাহারের মধ্যে ইউএনওর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এজাহারের বাদী হয়েছেন লালমোহন উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এ কে এম নজরুল ইসলাম। ২০২০ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি দায়ের করা ঐ এজাহারে বলা হয়, হাবিবুল হাসান রুমি উপজেলার তেঁতুলিয়া নদীর মাঝে অবস্থিত চরকচুয়াখালীতে গুচ্ছগ্রাম নির্মাণ প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতি করে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাত্ করেছেন।
এরপর এ কে এম নজরুল ইসলাম দ্বিতীয় এজাহারটি দায়ের করেন বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন আহমদের বিরুদ্ধে।
অপরদিকে লালমোহন পৌরসভার মেয়র এমদাদুল ইসলাম তুহিনের বিরুদ্ধে বিশাল ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ এনে গত ৪ জানুয়ারি এজাহার দায়ের করেছেন লালমোহন পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম বাদল। এমদাদুল ইসলামের তুহিনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগে ৩০ কোটি টাকারও বেশি আত্মসাতের বিবরণ দেওয়া হয়।
এ ব্যপারে দুদক বরিশালের উপপরিচালক রণজিত্ দাশ জানিয়েছেন, আমরা তদন্ত-কাজ শুরু করেছি। অভিযোগের সততা পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থার দিকে ধাবিত হব।
এদিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাবিবুল হাসান রুমির বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় আসামি তালিকায় রয়েছেন আরো তিন জন। এরা হচ্ছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসের অফিস সহকারী হেলাল উদ্দিন, তার স্ত্রী খায়রুন নাহার এবং হেলাল উদ্দিনের ভাই শাহিন মাতাব্বর।
এ কে এম নজরুল ইসলামকে আসামি করে দায়ের করা এজাহারে তার স্ত্রী আফিয়া বেগম, ছেলে নুরুল ইসলাম প্রিন্স এবং হেদায়েত ইসলামও রয়েছেন আসামির তালিকায়। এছাড়া গিয়াস উদ্দিন আহমদকে আসামি করে দায়ের করা এজাহারে তার স্ত্রী ছালেহা আহমদ, বোন সংরক্ষিত ইউপি মেম্বার জয়নব বিবি এবং উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের সংরক্ষিত ইউপি সদস্য রাবেয়া বেগম শিলা, সাধারণ সদস্য নিরব হাওলাদার এবং আলমগীর মাতাব্বরকেও আসামি করা হয়।
