হাইকোর্টের স্বতঃপ্রণোদিত আদেশ

সেফ হোম থেকে মুক্তি পেল সন্তানসহ কিশোরী মা

আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০২১, ০০:২২

এক মাসের শিশুসন্তানসহ এক কিশোরী মাকে সেফ হোম থেকে মুক্তির আদেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। স্বামী না পিত্রালয়ে অবস্থান করবে সেটা ঐ কিশোরী মায়ের নিজ বিবেচনার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আদালত বলেছে, এক মাসের শিশুসন্তান নিয়ে কিশোরী মায়ের সেফ হোমে থাকা কষ্টকর। মা ও শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থের বিষয়টি বিবেচনায় এনে নিম্ন আদালতের এ সংক্রান্ত আদেশ স্থগিত করা হলো। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে গত বৃহস্পতিবার এই আদেশ দেন।

এমন আদেশ প্রশংসনীয় উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, এক মাসের সন্তানসহ কিশোরী মায়ের সেফ হোমে থাকাটা ঝুঁকিপূর্ণ। মা ও সন্তানের মুক্তিতে এমন আদেশ ইতিবাচক নজির সৃষ্টি করবে।

জানা গেছে, বগুড়ায় ঐ কিশোরী মেয়েকে অপহরণের অভিযোগে মামলা করেন তার বাবা। ২০১৯ সালের ১৯ নভেম্বর বগুড়ার শিবগঞ্জ থানায় দায়ের করা ঐ মামলায় অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয় মিন্টু খান নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। মামলার অভিযোগে বলা হয়, স্থানীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ঐ ছাত্রীকে গত ১৫ নভেম্বর মিন্টু মিয়া ও তার সঙ্গীরা অপহরণ করে। পরে গোপন স্থানে নিয়ে ভীতি প্রদর্শন করে যৌন কাজে মেয়েটিকে বাধ্য করে। মামলার তদন্ত শেষে চার্জশিট দেয় পুলিশ।

ঘটনার এক বছর পর গত ২০ ডিসেম্বর মিন্টু বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করে জামিন চান। আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠায়। এর আগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২২ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দেয় ভিকটিম কিশোরী। ঐ জবানবন্দিতে ভিকটিম বলে, আসামি মিন্টুসহ চার-পাঁচ জন তাকে অপহরণ করে ঢাকায় নিয়ে যায়। পরে জোরপূর্বক বিয়ে করে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করে। তাকে পরিবারের সঙ্গেও যোগাযোগ করতে দেয়নি।

ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে অপহরণ ও ধর্ষণের বিষয়টি উল্লেখ করে জবানবন্দি দিলেও মেডিক্যাল পরীক্ষার সময় চিকিত্সকের সামনে ভিন্নরকম তথ্য দেয় ভিকটিম। সেখানে ভিকটিম বলে, আসামির সঙ্গে তার আড়াই মাসের প্রেমের সম্পর্ক। ঘটনার দিন পালিয়ে গিয়ে তারা বিয়ে করে। তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার মামলার শুনানি সময় হাইকোর্ট বলেন, ভিকটিমের দুটি জবানবন্দি একটির সঙ্গে আরেকটির বৈপরীত্য রয়েছে। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সারওয়ার হোসেন বাপ্পী বলেন, কিশোরীর এক মাসের সন্তান রয়েছে। ঐ সন্তানসহ তাকে সেফ হোমে পাঠিয়েছে বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। মেডিক্যাল রিপোর্টে মেয়েটির বয়স ১৫ বছর উল্লেখ করা হয়েছে। উচ্চ আদালতের বিচারপতি হিসেবে যে কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়ার এখতিয়ার আপনাদের রয়েছে।

আসামি মিন্টুর আইনজীবী মুহাম্মদ শওকত উল্লাহ খান বলেন, ছেলে ও মেয়ে দুই জনই সংসার করতে চাচ্ছেন। পারিপার্শ্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ছেলেটির জামিন মঞ্জুরের আবেদন করছি। যাতে সে কারামুক্তি পেয়ে স্ত্রী ও সন্তানের দেখভাল করতে পারেন। এরপরই হাইকোর্ট মা ও শিশুসন্তান সেফ হোমে রাখার আদেশ স্থগিত করে মিন্টুকে জামিন দেয়।

কেন সেফ হোমে:কিশোরীকে তার পরিবার নিজেদের কাছে রাখার জন্য ট্রাইব্যুনালে আবেদন করে। ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ বিষয়ে কিশোরীর মতামত জানতে চান। তখন ঐ কিশোরী বলে, সে বাবা-মায়ের কাছে যেতে চায় না। তখন ট্রাইব্যুনাল অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় কিশোরীকে সন্তানসহ সেফ হোমে রাখার আদেশ দেয়। জামিন আবেদন পর্যালোচনাকালে বিষয়টি হাইকোর্টের দুই বিচারপতির নজরে আসলে সেফ হোমে রাখার আদেশ স্থগিত করা হয়। আগামী সপ্তাহে আদেশের অনুলিপি ট্রাইব্যুনাল ও কারাগারে পৌঁছলে উভয়ে মুক্তি পাবেন বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।