ভিক্ষুক, ফেরিওয়ালা সেজে ওরা ফেনসিডিল নিয়ে ঢোকে ঢাকায়

আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০২১, ০০:২৩

মোহাম্মদ শহীদ, মোহাম্মদ রিপন আলী ও মোহাম্মদ লুত্ফর রহমান। প্রথম দুই জনের গ্রামের বাড়ি রাজশাহী জেলার সীমান্ত এলাকায়। অন্য জনের বাড়ি ঢাকা জেলায়। পরিচয় কেন্দ্রীয় কারাগারে। সেখানেই বন্ধুত্ব। তিন জনই ধরা পড়েছিল ফেনসিডিল নিয়ে। তাও মহামারি করোনা ভাইরাসের শুরুর আগে। তারা মুক্তি পান কয়েক মাস আগে। তবে কারাবাসের সময় তারা তিন জনে ফেনসিডিল ব্যবসা কীভাবে ঝামেলা মুক্ত অবস্থায় চালানো যায়, তার কৌশল ঠিক করেন। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত এ তিন জনই এ তথ্য জানিয়েছে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের গোয়েন্দা সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের একটি টিম গত রবিবার তাদের পল্লবী এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ৮১ বোতল ফেনসিডিল। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অরগানাইজড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিমের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. নাজমুল হক।

তিনি বলেন, গ্রেফতারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে ফেনসিডিল ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তারা  রাজশাহীর সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ফেনসিডিল সংগ্রহ করে ট্রেনে ঢাকায় নিয়ে আসত। ট্রেনে যাতে কেউ সন্দেহ করতে না পরে সে জন্য তারা বিভিন্ন অভিনব পন্থা অবলম্বন করত। কখনো ভিক্ষুক, আবার কখনো কাপড় ব্যবসায়ী, কখনো-বা ফেরিওয়ালা বেশে ট্রেনে চড়ত। এরপর ট্রেন থেকে নেমে ফেনসিডিলের চালান নির্ধারিত স্থানে পৌঁছে দিয়ে টাকা বুঝে নিত। 

পল্লবী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী ওয়াজেদ আলী জানিয়েছেন, সোমবার পল্লবী এলাকা থেকে ৩৯০ বোতাল ফেনসিডিলসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে—আব্দুস সালাম ও মো. বাদশা মিয়া। জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানিয়েছে তারাও ভিক্ষুক ও ফেরিওয়ালা বেশে ফেনসিডিল ঢাকায় নিয়ে আসত। একই দিন মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কোতোয়ালি জোনাল টিম বংশাল এলাকা থেকে ১০০ বোতল ফেনসিডিলসহ দোলোয়ার হোসেন নামে আরেক মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করে।

গাঁজা বিক্রি জনগণ দেখে পুলিশ দেখে না !

রাজধানীর বৃহত্তর কাঁচামালের আড়ত রাজধানীর কাওরান বাজার। এ বাজারের অলিগলিতে ২৪ ঘণ্টাই প্রকাশ্যে বিক্রি হয় গাঁজা। মাঝেমধ্যে পুলিশ ও মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের টিম অভিযান চালালেও বাস্তবে কোনো কাজ হয় না। বিশেষ করে কাওরান বাজার রেল ক্রসিং সড়কটি বলতে গেলে গাঁজার হাট। এ সড়কের এক জন ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, মাদক ব্যবসায়ীদের ভয়ে কখনো টুঁ শব্দটি করতে সাহস পান না। সড়কে প্রকাশ্যেই বিক্রি হয় গাঁজা। আছে পুলিশ টহল। কিন্তু সড়কে চলাচলরত সব জনতাই দেখে গাঁজা বিক্রি চলছে কিন্তু টহল পুলিশ নাকি দেখতে পায় না।

এমন অভিযোগের ব্যাপারে তেজগাঁও থানার  অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সালাহ উদ্দিন মিয়া গাঁজা বিক্রির কথা স্বীকার করে বলেন, মহিলারা বিক্রি করে থাকে। টহল পুলিশের গাড়ি দেখলেই তারা পালিয়ে যায়।  গত মাসে তিনি নিজে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৬০-৭০ জনকে গ্রেফতার করে চালান করেন। কিন্তু কয়েক দিন জেল খেটেই তারা বেড়িয়ে যায়। আবার শুরু করে গাঁজা বিক্রি। তবে তিনি গাঁজা বিক্রোতাদের বিরুদ্ধে অভিযান আরো জোরদার করবেন বলে জানান।

এদিকে যাত্রাবাড়ী থানাপুলিশ গত ৪ জানুয়ারি ধনিয়া এলাকা থেকে আট কেজি গাঁজাসহ জাহাঙ্গীর হোসেন নামে এক মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করে। একই দিন কদমতলী থানা এলাকা থেকে অভিনব কায়দায় কাভার্ড ভ্যানে করে গাঁজা পরিবহনের অভিযোগে দুই জনকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। উদ্ধার করা হয় ৪৮ কেজি গাঁজা।

এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) এ কে এম হাফিজ আক্তার জানিয়েছেন,  জব্দকৃত কাভার্ড ভ্যানের ভেতরে অভিনব কৌশলে একটি গোপন কামরা তৈরি করা হয়। মাদক পরিবহনের জন্য গাড়ির ঐ কামরাটি ব্যবহার করা হয়।