ঝুঁকিপূর্ণ মানুষ এবং যারা ঝুঁকি কমাতে কাজ করছেন তারাই প্রথম পর্যায়ে করোনার টিকা পাবেন। এর পর যাদের তুলনামূলক ঝুঁকি কম তাদের টিকা দেওয়া হবে। টিকা নেওয়ার বিষয়টি ধৈর্যের সঙ্গে নমনীয় হয়ে অপেক্ষা করতে হবে বলে জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাকোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান। তিনি বলেন, বিজ্ঞানসম্মতভাবে স্বচ্ছতার সঙ্গে টিকা নেওয়ার জন্য ব্যক্তি নির্বাচন করতে হবে। করোনার টিকার জন্য যেন মানুষের মধ্যে বঞ্চনার বা বিভক্তি সৃষ্টি না হয়, সে দিকে লক্ষ রাখতে হবে। দেশে টিকার সাফল্য নির্ভর করবে গ্রহণযোগ্যতার ওপর। যত স্বচ্ছভাবে ব্যক্তি নির্বাচন হবে, তত ভ্যাকসিনের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে। গতকাল শনিবার রাজধানীর বিএমএ মিলনায়তনে বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম-বিএইচআরএফ আয়োজিত ‘কোভিড-১৯ টিকা ব্যবস্থাপনা : প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ’ শীর্ষক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান বলেন, টিকার মূল উদ্দেশ্য করোনা রোগে আক্রান্ত মানুষের মৃত্যু কমানো, যারা আক্রান্ত হবে তাদের জটিলতা কমানো এবং দেশে করোনা রোগের বিস্তার কমানো। বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. রশিদ-ই-মাহবুব বলেন, দেশে প্রথম টিকা কে পাবে, সেটা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে ঠিক করতে হবে। সাধারণ মানুষকে কীভাবে টিকা দেওয়া হবে, এ টিকা কারা ফ্রি পাবে সেটাও স্পষ্ট করতে হবে। টিকা পাওয়ার জন্য অনলাইনে নিবন্ধনের যে অ্যাপস বানানো হয়েছে। তা কতটুকু কার্যকর হবে এ বিষয়গুলো যদি সমাধান করা যায় তাহলে কোভিড-১৯ টিকা বিতরণ কোনো বিষয় না। টিকা বিতরণ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা অনলাইনে যুক্ত হয়ে বলেন, বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুসারে টিকা বিতরণের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। তবে যাদের সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা বেশি, যাদের মধ্যে জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি বেশি তাদের গুরুত্ব দিয়ে টিকা বিতরণ করা হবে। কে কখন টিকা পাবে তার তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, যারা টিকা পাবেন তাদের কীভাবে নিবন্ধন করবে সেটার কার্যক্রম চলছে।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন—বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহীউদ্দীন, স্বাধীনতা চিকিত্সক পরিষদের (স্বাচিব) মহাসচিব ডা. এম এ আজিজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ, জনস্বাস্থ্যবিদ আবু জামিল ফয়সাল। অনলাইনে আরো যুক্ত ছিলেন সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম।
