সোহেল সারোয়ার চঞ্চল
সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব প্রথম বারের মতো ফেডারেশন কাপ ফুটবলের ফাইনালে উঠেছিল। কত স্বপ্ন ছিল টুর্নামেন্টের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংসের মাথা থেকে মুকুট নামিয়ে নিজেদের মাথায় রাখবে। সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। ফাইনালে বসুন্ধরা কিংস ১-০ গোলে সাইফকে হারিয়ে আবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। টানা তিন বার ফাইনাল খেলল বসুন্ধরা কিংস। দুই বার ট্রফি নিয়ে গেল। গত বারের টুর্নামেন্টেও চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা। এবারও চ্যাম্পিয়নদের ঘরেই গেল ট্রফি। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ফাইনালের ৫২ মিনিটে আর্জেন্টাইন ফুটবলার রাউল অস্কারের একমাত্র গোলে চ্যাম্পিয়ন হয় বসুন্ধরা।
ফেডারেশন কাপ ফুটবলের ৩২তম আসর এটি। তিন বার ফাইনাল খেলার অভিজ্ঞতা মোহামেডান, আবাহনী, শেখ জামাল, মুক্তিযোদ্ধা সংসদেও আছে। সেই তালিকায় এবার করপোরেট অফিস দল বসুন্ধরাও নাম লেখাল।
১৯৮০ সালে শুরু হওয়া ফেডারেশন কাপ ফুটবলের আসর থেকেই মোহামেডান, আবাহনীর রাজত্ব দেখেছে ফুটবল দর্শক। ৯০ দশকের পর থেকে সেই ধারা ভাঙতে শুরু করে। আর এখন মোহামেডান,আবাহনীর ফুটবল শক্তিটা এমন এক অবস্থানে এসে দাঁড়িয়েছে নতুন নতুন দল মোহামেডান, আবাহনীর মাঠে ভাগ বসিয়েছে।
করপোরেট দুই দল খেলল ফেডারেশন কাপ ফাইনাল। তারপরও মোহামেডান গ্যালারি এবং আবাহনীর গ্যালারিতে দর্শক ছিল চোখে পড়ার মতোই। মোহামেডান গ্যালারিতে বসুন্ধরার লাল জার্সি গায়ে ঢাকঢোল বাজিয়ে উল্লাস, চোখে লেগেছে। আবাহনী গ্যালারিতে সাইফের পক্ষে কালো-হলুদ জার্সি গায়ে নীরব প্রস্থান ফাইনাল হারের পর।
মাঠে তখনো বসুন্ধরার ফুটবলাদের হাসি মুখ। দলের স্প্যানিশ কোচ অস্কার ব্রুজন, মতিন মিয়া, ইব্রাহিম, মাসুক মিয়া জনি, গোলকিপার আনিসুর রহমান জিকো, অধিনায়ক তপু বর্মন, বিশ্বনাথ ঘোষ, ইরানী খালেদ শাফি, সবুজ, ব্রাজিলিয়ান রবসন, ব্রাজিলিয়ান জনাথন, সুফিলদের নাচ-উল্লাস, মোবাইলে ভিডিও করা, সেলফি তোলা পুরো মাঠ জমিয়ে রাখল। ফুটবল মাঠের মাঝবৃত্তে গোল হয়ে হাতে হাত রাখে চ্যাম্পিয়নরা। মাঠেই ক্ষাণিকটা দূরে থাকা রানার্সআপ সাইফ স্পোর্টিংয়ের খেলোয়াড়রা। সঙ্গে দলের বেলজিয়ান কোচ পল যোসেফ পুট। মাঠে ঢুকে গিয়ে তার ছেলেদের সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন। কোনো খেলোয়াড় কান্নাও করেছেন। করারই কথা কারণ পুরো ম্যাচে সাইফ যেসব সুযোগ পেয়েছিল তার একটিও কাজে লাগেনি। দুর্দান্ত সব সুযোগ পেয়েও ভাগ্যের বেড়া জালে আটকা পড়ে সাইফ।
একবার নয়, দুই বার নয়, অন্তত চার বার সাইফের সহজ গোলের সুযোগ ব্যর্থ করে দিয়েছেন বসুন্ধরার গোলপোস্টের অতন্দ্রপ্রহরী আনিসুর রহমান জিকো।
বসুন্ধরা কিংস নিজেদের ঘর আগলে রেখে সাইফের ওপর আক্রমণ করে। পুরো ম্যাচে গুনলে তিনটি সুযোগ পেয়েছিল। এর মধ্যে একটা সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল আদায় করে নেয় বসুন্ধরা। এক গোলেই বাজিমাত।
সাইফ পিছিয়ে থেকেও গোলের সুযোগ পেয়েছিল ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড কেনেথ উকুচুকুজনাথন। জীবন বাজি রেখে লড়াই করে তিন বার সুযোগ আদায় করেছিলেন কিন্তু প্রতিবারই গোলকিপার জিকো থামিয়ে দিয়েছেন।
