দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিটলারের রাজ্য জয় এবং বর্ণবাদী আগ্রাসনের কারণে লক্ষ লক্ষ মানুষকে প্রাণ হারাতে হয়েছিল। হিটলারের পরিকল্পনায় হত্যা করা হয়েছিল ৬০ লক্ষ ইহুদিকে। ইহুদি বিদ্বেষী সেই হিটলারের সাথেই বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছিল রোসা বেরনিল নেইনাউ নামের এক ছোট্ট ইহুদি মেয়ের! তাদের এই দুর্লভ বন্ধুত্ব গড়ে ওঠার পেছনে একমাত্র কারণ ছিল তাদের দুই জনেরই জন্মদিন ছিল একই দিন- ২১ এপ্রিল। তবে শেষ পর্যন্ত তাদের সেই বন্ধুত্ব আর টিকে থাকেনি। রোসা বেরনিলের সাথে হিটলারের একটি দুর্লভ ছবি এবার যুক্তরাষ্ট্রে নিলামে উঠতে যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, নিলামে ছবিটির দাম উঠতে পারে ১০ হাজার ডলারের মতো। ছবিটি তুলেছিলেন হেইনরিক হফম্যান নামের এক ব্যক্তি।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিটলারের নির্দেশে যেখানে ৬০ লাখ ইহুদি হত্যা করা হয়েছিল সেখানে একটি ইহুদি বালিকার সাথে হিটলারের বন্ধুত্বের এই ছবি তাই ঐতিহাসিকভাবে তাত্পর্যপূর্ণ। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, ছোট্ট মেয়েটিকে হাসিমুখে জড়িয়ে ধরে আছেন হিটলার। এর আগেও রোসা এবং হিটলারের ছবি দেখা গেলেও, হিটলারের স্বাক্ষর করা বা রোসার ফুলের ছবি আকা ছবিটি আগে দেখা যায়নি।
নিলামকারী প্রতিষ্ঠানের তথ্যমতে, ১৯৩৩ সালে আলপাইন রিট্রিট বেরগফে হিটলারের বাড়ির বাইরে তার জন্মদিন উপলক্ষে আরো অনেকের সঙ্গে সমবেত হয়েছিলেন রোসা এবং তার মা ক্যারোলিন। ধারণা করা হচ্ছে, যখন হিটলার জানতে পারেন যে, রোসার জন্মও তার জন্মদিনে, তখন তিনি রোসা এবং তার মাকে বাসায় আমন্ত্রণ জানান। হিটলারের বাসাতেই তোলা হয়েছিল এই ছবিটি। এরপরে রোসা সেই সাদাকালো ছবিটির উপর নানা ফুলের ছবি আঁকে। ১৯৩৫ থেকে ১৯৩৮ সালের মধ্যে অন্তত ১৭টি উপলক্ষ ধরে হিটলারের কাছে চিঠি লিখেছিল রোসা।
হিটলারের সঙ্গে রোসার সম্পর্ক বলা যায় ভালোই চলছিল। কিন্তু তত্কালীন নািস কর্মকর্তাদের চোখে রোসাও একজন ইহুদি ছিল। হিটলারের ব্যক্তিগত সচিব, মার্টিন বোরম্যান এক সময় রোসার সঙ্গে আর যোগাযোগ না রাখার জন্য হিটলারকে বললে তাদের সেই বন্ধুত্ব ছিন্ন হয়ে যায়। যদিও দুই জনের তোলা এই ছবিতে স্বাক্ষর করে রোসার কাছে পাঠিয়েছিলেন হিটলার।
যে বছর রোসাকে আর যোগাযোগ না করার জন্য বলা হয়, সেই বছর থেকেই শুরু হয়েছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। সেই যুদ্ধে নিহত হয়েছিল ৬০ লাখ ইহুদি। মৃত্যু হয় রোসারও। হিটলারের সঙ্গে পরিচয়ের দশ বছর পর, ১৯৪৩ সালে মিউনিখের একটি হাসপাতালে পোলিওতে আক্রান্ত হয়ে ১৭ বছর বয়সে মৃত্যু হয় রোসার।
তবে রোসার সঙ্গে বন্ধুত্ব শেষ হয়ে যাওয়ার বিষয়টিতে হিটলারও কষ্ট পেয়েছিলেন। এক সময় হিটলার মন্তব্য করেছিলেন, আমার প্রতিটি আনন্দ ভঙ্গ করে দেওয়ার জন্য এখানে কিছু মানুষ রয়েছে।-বিবিসি
