বিশেষ প্রতিনিধি
সিদ্দিকুর রহমান, নুরু মিয়া, হেমায়েত হোসেন ওরফে হিমু ও আবুল বাশার। ওরা গাড়ি চুরি ও দোকান লুট চক্রের চার সদস্য। বেশ কয়েক মাস ধরে ওরা ঢাকার আশাপাশ এলাকায় রাতে বিভিন্ন এলাকার তালাবদ্ধ দোকানের মালামাল লুট করলেও পুলিশের হাতে ধরা পড়েনি। কিন্তু বিধিবাম, শেষ পর্যন্ত শনিবার গাজীপুর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে থেকে তাদের আটক করে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) লালবাগ বিভাগের সংঘবদ্ধ অপরাধ ও গাড়ি চুরি প্রতিরোধ টিম। এ সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় একটি প্রাইভেটকার, একটি মোটরসাইকেল, একটি তালা কাটার কার্টার, একটি লাগেজ, ১৯টি কাটা তালা, ছয়টি অ্যান্ড্রয়েড ডেমো মোবাইল ফোন, ১৬টি এয়ারটেল সিম, দুটি ডেবিট কার্ড ও চারটি এনআইডি কার্ড। গতকাল রবিবার ডিএমপি গোয়েন্দা অফিস কম্পাউন্ডে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান, ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) এ কে এম হাফিজ আক্তার।
তিনি বলেন, মিরপুর এলাকায় চুরির ঘটনায় গত ৬ জানুয়ারি মিরপুর মডেল থানায় মামলা করা হয়। গোয়েন্দা লালবাগ বিভাগ ঐ মামলার ছায়া তদন্ত শুরু করে। সেই মামলার সূত্র ধরেই এ চক্রের চার জনকে আটক করা হয়।
ডিএমপির এ শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, এ চক্রের মূল কাজ হল গাড়ি ছিনতাই। ছিনতাই করা গাড়ি দিয়ে তারা ঢাকার আশপাশে আশুলিয়া, গাজীপুর ও ঢাকার উত্তরায় দোকান লুট করত।
হাফিজ আক্তার বলেন, চক্রটির আরো কিছু সদস্য আছে যাদের কাজ রাজধানীর বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রাইভেটকার কিংবা মোটরসাইকেল ছিনতাই করা। তিনি আরো বলেন, এ চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়েও দেশের বিভিন্ন জায়গায় চুরি ও ছিনতাই করে। রাতের বেলায় সড়কের পাশে বিভিন্ন দোকানে বিশেষ করে মোবাইল ফোনের দোকানগুলোতে চুরি করত চক্রটি। গাড়ি চুরি বা ছিনতাই রোধে সবাইকে গাড়িতে ট্র্যাকার ব্যবহার করার জন্য অনুরোধ জানান ডিবির এ গোয়েন্দা কর্মকর্তা।
