কক্সবাজারের উখিয়া, টেকনাফ এবং পেকুয়ায় পৃথক ঘটনায় এক দিনে তিন জন খুন হয়েছেন। খুন হওয়াদের মধ্যে একজন নারীসহ একজন রোহিঙ্গাও রয়েছেন। রবিবার ভোররাতে পৃথক সময়ে খুন হন তারা। এছাড়া গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন।
টেকনাফের চাকমারকুল ক্যাম্পে রোহিঙ্গা দুই গ্রুপের গোলাগুলিতে নিহত হন নুর হাকিম (২৭)। তিনি ২১ নম্বর ক্যাম্পের সি-ব্লকের বাসিন্দা হোসেন আলীর ছেলে। উখিয়ায় খুন হওয়া দোকান কর্মচারী ফোরকান আহমদ ওরফে কালু (২২) রত্নাপাং ইউনিয়নের তেলিপাড়া এলাকার বশির আহমদের ছেলে এবং পিটিয়ে হত্যার শিকার পারভিন আক্তার (৩৫) পেকুয়ার উজানটিয়া ইউনিয়নের গুদারপাড়া এলাকার মো. কায়েস উদ্দিনের স্ত্রী। কালুকে গলা কেটে হত্যা করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার ভোররাতে উখিয়ার হাকিমপাড়া ও জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে এক দল রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী টেকনাফের চাকমারকুল রোহিঙ্গা শিবিরের সি-ব্লকে যায়। সেখানে তাদের সঙ্গে তোহা বাহিনীর ৫০-৬০ রাউন্ড গুলি বিনিময় হয়। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন নুর হাকিম। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন। তাদের সেভ দ্য চিলড্রেনের হাসপাতালে চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে। টেকনাফের হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই নুরে আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
টেকনাফ চাকমারকুল রোহিঙ্গা শিবিরের ইনচার্জ (সিআইসি) সাধনা ত্রিপুরা জানান, শিবিরে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে বলে জেনেছি। কি বিষয়ে এবং কি ঘটেছে জানার চেষ্টা চলছে।
অন্যদিকে, রোহিঙ্গা যুবকের হাতে ঘুমন্ত অবস্থায় খুন হন কালু। এ ঘটনায় দোকানের টাকা লুট করে পালিয়ে যায় হত্যাকারী রোহিঙ্গা কর্মচারী। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ দোকান মালিক শাহ আলমকে থানায় নিয়ে গেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, উখিয়ার কোটবাজার দক্ষিণ স্টেশনের স্থানীয় ব্যবসায়ী শাহ আলমের মালিকানাধীন একটি ডেকোরেশনের দোকানে স্থানীয় ফোরকান আহমদ ও এক রোহিঙ্গা কর্মচারী কাজ করত। প্রতি রাতের মতো তারা ঘটনার দিনও একসঙ্গে ঘুমিয়েছিল। কিন্তু ১০ জানুয়ারি ভোররাতের কোনো এক সময় কালুকে ঘুমন্ত অবস্থায় হত্যা করে ৪৫ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় রোহিঙ্গা কর্মচারী। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে লাশ উদ্ধার করেছে।
উখিয়া থানার ওসি আহমদ সনজুর মোরশেদ জানান, হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, টাকার লোভে তাকে হত্যা করা হয়েছে। আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
একই দিনে পারভিনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ২০০৯ সালে চকরিয়ার খুটাখালী ইউনিয়নের তানজুক কাটা এলাকার কবির আহমদের মেয়ে পারভিন আক্তারের সঙ্গে পেকুয়া উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়নের গুদারপাড়া এলাকার জয়নাল আবেদীনের ছেলে কায়েস উদ্দিনের বিয়ে হয়। তাদের দুইটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
নিহতের পিতা কবির আহমদ ও বড় ভাই তৌহিদুল ইসলামের অভিযোগ, জামাই কায়েস উদ্দিন জুয়াড়ি ও নেশাগ্রস্ত। জুয়া খেলা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া লেগেই থাকত। একই সঙ্গে যৌতুকের জন্য প্রায় সময় মারধর করত কায়েস। রাতে কায়েস, ভাসুর আনোয়ার হোসেন ও শাশুড়ি মাহফুজা বেগম মিলে পারভিনকে বর্বর নির্যাতন চালায়। খবর পেয়ে আমরা তাকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে চিকিত্সাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম মজুমদার জানান, এ ঘটনায় অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
