নারীরা নিকাহ রেজিস্ট্রার হতে পারবেন না মর্মে ছয় বছর আগে দেওয়া আইন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত রায়ে আদালত বলেছে, বিবাহ শুধু একটি সামাজিক ও পারিবারিক অনুষ্ঠানই নয়, এটা ধর্মীয় উত্সবও বটে। ইদানীং দেখা যাচ্ছে অনেক বিয়ে মসজিদে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কিন্তু মাসের একটি নির্দিষ্ট সময়ে শারীরিক কারণে একজন নারী নামাজ পড়তে বা মসজিদে প্রবেশ করতে পারেন না। ফলে এই সময়ে কোনো বিয়ের অনুষ্ঠান মসজিদে হলে একজন নারী নিকাহ রেজিস্ট্রারের পক্ষে বিয়ে পড়ানোর দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয়। বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের পূর্ণাঙ্গ রায়ে এ পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়েছে। গত বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি দেওয়া রায়ের অনুলিপি গতকাল সোমবার প্রকাশ পেয়েছে।
এ প্রসঙ্গে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ সাইফুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, আদালত রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেছেন, একজন নারীর মুসলিম ম্যারেজ রেজিস্ট্রার হতে হলে কিছু কিছু কার্যক্রম করতে হয়। নারী হিসেবে তিনি সব জায়গায় যেতে পারবেন কি না। রাতবিরাতে বিয়ের অনুষ্ঠান হতে পারে, সেখানে তো তিনি যেতে পারবেন না। আদালত পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন, মুসলিম ম্যারেজ রেজিস্ট্রারদের কিছু নিয়মকানুন মেনে চলতে হয়। কিন্তু প্রাকৃতিকভাবে নারীদের প্রত্যেক মাসে একটি বিশেষ সময় আসে যে সময়টাতে ধর্মীয়ভাবেই নারীরা মসজিদেও যেতে পারেন না। আবার নামাজও পড়তে পারেন না। এই রকম সময়ে যদি কারো বিয়ের অনুষ্ঠান হয়, সেখানে তো কোনো নারী যেতে পারবে না। অন্যান্য পাবলিক অফিসে নারীরা যে কাজ করেন, আর ম্যারেজ রেজিস্ট্রার হিসেবে কার্যক্রমটা আলাদা।
২০১৪ সালে দিনাজপুরের ফুলবাড়িয়া পৌরসভার ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নিকাহ রেজিস্ট্রার হিসেবে তিন জন মহিলার নাম প্রস্তাব করে তা আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। ঐ বছরের ১৬ জুন আইন মন্ত্রণালয় ‘বাংলাদেশের বাস্তব অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে নারীদের দ্বারা নিকাহ রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয়’ মর্মে চিঠি দিয়ে তিন সদস্যের সেই প্যানেল বাতিল করে। প্যানেলের ১ নম্বর ক্রমিকে থাকা আয়েশা সিদ্দিকা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন। ঐ রিটের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট আইন মন্ত্রণালয়ের চিঠি কেন বাতিল করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। ঐ রুলের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে তা খারিজ করে দেয় হাইকোর্ট।
