সাংবাদিক জামাল খাশোগির হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের মধ্যে পাঁচজনকে ফাঁসির সাজা দিতে চায় সৌদি আরব।
গতকাল বৃহস্পতিবার দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল সৌদ আল মোজেব রিয়াদে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ১১ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে বিচারের মুখোমুখি করা হচ্ছে। এদের মধ্যে খাশোগিকে হত্যার নির্দেশ দেওয়া ও হত্যাকাণ্ড সংগঠিত করায় পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার অনুরোধ করা হবে। তবে এই পাঁচ আসামির নাম প্রকাশ করা হয়নি।
সাবেক স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের সনদ নিতে গত ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলস্থ সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশের পর সাংবাদিক খাশোগিকে হত্যা করা হয়। বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, এই হত্যকাণ্ড সংগঠিত করতে সৌদি আরব থেকে ১৫ সদস্যদের একটি টিম আসে। তারা খাশোগিকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে। এরপর তার মরদেহ কেটে টুকরো টুকরো করে তা এসিডে গলিয়ে ফেলেছে। খাশোগি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের একজন সমালোচক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। খবর:আল জাজিরা ও রয়টার্সের।
সৌদি অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর খাশোগিকে হত্যা ও টুকরো টুকরো করার নির্দেশ দেন এবং তা বাস্তবায়ন করেন এই পাঁচ আসামি। তাদের মৃত্যুদণ্ড চাওয়া হবে। তিনি জানান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এই বর্বর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নন। সৌদি অ্যাটর্নি জেনারেল দাবি করেন, খাশোগিকে প্রাণঘাতী ইনজেকশন দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পরে তার মরদেহ টুকরো টুকরো করে কনস্যুলেটের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়।
মোজেব বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে ২১ জন পুলিশ হেফাজতে ছিল। এর মধ্যে ১১ জনকে অভিযুক্ত করে বিচারের মুখোমুখি করা হচ্ছে। একইসঙ্গে তদন্ত চলাকালে রয়েল কোর্টের সাবেক উপদেষ্টা সৌদ আল-কাহতানির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
এদিকে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কভুসগলু সন্দেহভাজন আসামিদের তুরস্কের কাছে হস্তান্তর করতে সৌদি আরবের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের বিচারে তুরস্কের আইন প্রযোজ্য। কারণ হত্যাকাণ্ড তুরস্কের মাটিতেই সংগঠিত হয়েছে। তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ড নিয়ে এখনো অনেক প্রশ্নের জবাব মেলেনি।
প্রসঙ্গত, সৌদি যুবরাজ এই হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন তুরস্কের কর্মকর্তারা। তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপে এরদোয়ান বলেছেন, হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ সৌদি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এসেছে। এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মনে করেন, দায়বদ্ধতা সৌদির কার্যত শাসক যুবরাজের মধ্যেই নিহিত।
