যানজট নিরসনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ১০টি ইউটার্ন নির্মাণের উদ্যোগ নেয় ডিএনসিসি। এর মধ্যে ছয়টির কাজ শেষে উদ্বোধনও করা হয়। যানজট নিরসনে এসব ইউটার্ন নির্মাণ করা হলেও কোনো কোনো জায়গায় যানজট কিছুটা লাঘব হলেও বিপরীত চিত্র দেখা গেছে বনানীর ইউটার্নে।
যানজট কমানোর জন্য বনানীর চেয়ারম্যান বাড়ির সড়কে ইউটার্ন নির্মাণ করা হলেও এখানে আগের চেয়ে যানজট বেড়েছে বলে জানিয়েছে এলাকাবাসী। বিমানবন্দর-বনানী সড়কে সবসময় তীব্র যানজট লেগে থাকত। যানজট নিরসনে এখানে ইউটার্ন নির্মাণ করা হয়। কিন্তু এখানে যানজট না কমে বরং বেড়েছে বলে অভিযোগ করছেন যাত্রীরা।
গত মাসে শেষের দিকে তেজগাঁও বিজি প্রেসের সামনে, নাবিস্কো-কোহিনূর কেমিক্যাল মোড় ও বনানী চেয়ারম্যানবাড়ি এলাকায় নির্মিত তিনটি ইউটার্ন যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। এর আগে বিমানবন্দর সড়কে কাওলা ফ্লাইং একাডেমি এলাকা, উত্তরা র্যাব-১ কার্যালয়ের সামনের রাস্তা ও উত্তরা আজমপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় তিনটি ইউটার্ন চালু করা হয়। অবশিষ্ট চারটি ইউটার্নের নির্মাণকাজ এখনো চলমান রয়েছে। এই চারটি ইউটার্ন হচ্ছে মহাখালী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালের সামনে, মহাখালী ফ্লাইওভারের নিচে, বনানী-কাকলী রেলস্টেশন এবং বনানী ফ্লাইওভারের নিচে।
গতকাল রবিবার বনানী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ইউটার্ন পার হয়ে এয়ারপোর্টের দিকে যাওয়ার রাস্তায় দীর্ঘ যানজট। যাত্রীরা বলেন, আগে উত্তরা যেতে বনানী পার হতে যে সময় লাগত, এখন এর দ্বিগুণ সময় লাগছে। বনানীতে ইউটার্ন নির্মাণের পর যানজট কমার চেয়ে যানজট আরো বেড়েছে। বনানীতে দায়িত্ব পালন করা ট্রাফিক পুলিশের সদস্য মিরাজ হোসেন জানান, আগের চেয়ে উত্তরা রুটে গাড়ির চাপ আরো বেড়েছে। যানজট কমেনি, বরং বেড়েছে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ফ্লাইওভার থেকে উত্তরার দিকে যাওয়ার গাড়ি, উত্তরা থেকে আসা গাড়ি ইউটার্ন দিয়ে এই রোডে, চেয়ারম্যান বাড়ি রোডের পাশের রোডের গুলশান থেকে আসা গাড়িও ইউটার্ন দিয়ে এই একই রোডে ঢুকছে। যার কারণে এই সড়কে তীব্র যানজট দেখা দিচ্ছে।
তবে বনানীতে দায়িত্ব পালনরত ট্রাফিক পুলিশের আরেক সদস্য জানান, বনানীর ইউটার্ন যানজট না কমাতে পারলেও উত্তরায় নির্মিত ইউটার্নে উত্তরায় অনেকটা যানজট লাঘব হয়েছে। এখানেও হয়তো ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে যাবে। উত্তরা-বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ রুটে চলা একটি পরিবহনের বাসচালক আব্দুর রহমান বলেন, ইউটার্নের ফলে উলটো ফল হয়েছে। উত্তরার দিকে যেতে আমাদের অবস্থা খারাপ হয়ে যাচ্ছে। বনানী পার হতেই এখন বেশ সময় লাগছে।
এ বিষয়ে যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. শামসুল হক বলেন, চড়া রাস্তা ছাড়া এটি যে হিতে বিপরীত হবে সেটি আমি আগেই জানতাম। এই ইউটার্নগুলো পরিকল্পনাহীনভাবে হয়েছে। বিজ্ঞানভিত্তিক হয়নি। যার কারণে এটি উলটো ফল দিচ্ছে। এ বিষয়ে ডিএনসিসির ইউটার্ন প্রকল্পের পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খন্দকার মাহবুব আলম জানান, সাতরাস্তা থেকে আবদুল্লাহপুর পর্যন্ত সড়কের সবকয়টি ইউটার্ন চালু হলে নগরবাসী সুফল পাবে। আংশিক চালু হওয়ায় কিছুটা সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে ইউটার্নের সুফল রাজধানীবাসী ভোগ করবে এটা বলা যায়।
ইত্তেফাক/জেডএইচডি
