ওসমানীনগরে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে অব্যবহূত ও পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে আছে একটি সেতু। চোখের সামনে সেতুটি থাকলেও লোকজন নদী পারাপার হচ্ছেন বাঁশের সাঁকোর ওপর দিয়ে। সেতু সংলগ্ন স্থানে ঝুঁকিপূর্ণ একটি বাঁশের সাঁকোই স্থানীয় কয়েক হাজার মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা।
জানা যায়, ২০০১ সালে উপজেলার সাদীপুর ইউপির ইসলামপুর এলাকায় কালনী নদীর ওপর সেতুটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করে তত্কালীন বালাগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি। নির্মাণের এক বছরের মাথায় সেতুর পশ্চিম পাশ দেবে যায়। সেতুর দুই সংযোগ সড়কে পর্যাপ্ত মাটি ভরাট না থাকায় সেতুটি জনগণের উপকারে আসছে না। অবহূত এই সেতুটি ভেঙে নতুন করে একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সুরিকোনার দিকে সেতুর পশ্চিম অংশ হেলে গিয়ে দেবে পড়েছে। সেতুতে ওঠার দুই পাশের অ্যাপ্রোচ অংশে মাটি নেই। সেতুর পাশ ঘেঁষে একটি বাঁশের সাঁকো তৈরি করে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ এলাকার কয়েক হাজার মানুষ চলাচল করে আসছে।
ঝুঁকিপূর্ণ এই বাঁশের সাঁকোর ওপর দিয়ে প্রতিদিন পারাপার হচ্ছে উপজেলার সাদিপুর ইউপির দক্ষিণ কালনিচর, ইসলামপুর, সুরিকোনা, চরতাজপুর, গালিমপুর, মাধবপুর, পূর্বকালনিচর, উত্তরকালনিচর, নোয়াগাঁও, সম্মানপুর, গুচ্ছগ্রাম ও পার্শ্ববর্তী নবীগঞ্জ উপজেলার আটঘর গ্রামের হাজার হাজার মানুষ। এ ছাড়া, এই এলাকার গালিমপুর দাখিল মাদ্রাসা, রহমতপুর উচ্চ বিদ্যালয়, দক্ষিণ কালনিচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সুরিকোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরও ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হয়।
গালিমপুর গ্রামের লাল মিয়া ও কালনী নদী পারাপারকারী সম্মানপুর গ্রামের কওছর আহমদ জানান, সেতুটি দেখে দেখে আমরা বাঁশের সাঁকো পার হচ্ছি, গত ১৮ বছর ধরে। যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা না থাকায় আমাদের চলাচলের দুর্ভোগ সীমাহীন। দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসী এখানে একটি পাকা সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছে।
সেতু সংশ্লিষ্ট এলাকার ইউপি সদস্য সোনাই গাজি বলেন, ‘এই সেতুটি পুনঃনির্মাণের দাবি এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের। গালিমপুর বাজার যেতে হলে ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে নদী পারাপার হতে হয়। এই এলাকার একটিমাত্র সড়ক রয়েছে। নতুন করে সেতু নির্মাণের পাশাপাশি সেই সড়কটিও পাকাকরণের দাবি জানাচ্ছি।’ ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান বলেন, ‘এ বিষয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার মাধ্যমে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
