‘যোগ্যতা থাকলে টিকবে, না থাকলে ঝরে যাবে’

আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০২১, ২০:৩৩

এদেশের সংগীতাঙ্গনে এ অনন্য নাম আবিদা সুলতানা। নিজের দীর্ঘ ৪ দশকের ক্যারিয়ারে তার কণ্ঠে প্রাণ পেয়েছে অসংখ্য কালজয়ী গান। যা এখনো মানুষের মানুষের হূদয়ে গেঁথে আছে। গুণী এই মানুষটি নিজের কাজ, গান নিয়ে পরিকল্পনাসহ সংগীত ইন্ডাস্ট্রির নানা বিষয়ে কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন এ এম রুবেল

নারী দিবসে নতুন একটি গানে কণ্ঠ দিলেন। এ প্রজন্মের শিল্পীদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা কিভাবে মূল্যায়ন করবেন?

আসলে সংগীতাঙ্গনের সবার সঙ্গেই খুব ভালো ও বন্ধুত্বপূর্ণ একটি সম্পর্ক রয়েছে। সবাই আমাকে অনেক সম্মান করে। বিশেষ করে যারা ভালো গায় তাদের  কিন্তু আমি অনেক ভালোবাসি। ওদের সঙ্গে এই গানটিতে কাজ করে অনেক আনন্দ হয়েছে। ওরা খুব নিষ্ঠার সঙ্গে কাজটি করেছে। 

অসংখ্য কালজয়ী গানের কণ্ঠশিল্পী আবিদা সুলতানা ধীরে ধীরে নিজেকে গুটিয়ে নিচ্ছেন। কেন এই অভিমান?

না, গুটিয়ে নিইনি। আর এটা অভিমান না। আসলে করোনার কারণে সব কিছু থেকেই একটু দূরে আছি। আগে দেশ ও দেশের বাইরে নিয়মিত গান গাইতাম। কিন্তু এখন আর তেমনটা ইচ্ছে করে না। এখন শুধু ঢাকায় কাজ হলে করছি।

আপনারা দেশের সবচেয়ে বড় সংগীত পরিবার। সেদিক দিয়ে নতুনের উদ্দেশ্যে কী বলতে চান। যাদের কোনো মামা চাচাদের সংযোগ নেই। তারা কী গানে প্রতিষ্ঠা পেতে পারবে। স্বজনপোষণের কথা তো আমরা শুনতে পাই...

দেখুন, আমরা যখন সংগীত জগতে এসেছি তখন কিন্তু আমার মামা-চাচা ছিল না। এখন যে আমার ছেলে ইন্ডাস্ট্রিতে ভালো একটি অবস্থান তৈরি করেছে সেখানে তাকে কিন্তু আমরা কোনো সহযোগিতা করিনি। এমনকি কোথাও কোনো রেফারেন্স দিইনি যে আমার ছেলে গেল, একটু দেখবেন। আসলে আমাদের সময় যেমন আমরা নিজেদের ট্যালেন্টে এসেছি এখনো তেমনি নিজের যোগতা থাকলে নিশ্চয়ই প্রতিষ্ঠা পাবে। একজন মামা-চাচা হয়তো কাউকে রাস্তা দেখাতে পারে, তবে টিকে থাকতে হবে নিজের যোগ্যতা দিয়েই। এটা কোনো চাকরি না যে জোগাড় করে দিলাম, হয়ে গেল। এখানে যোগ্যতা থাকলে টিকবে না থাকলে ঝরে যাবে।

হিরো আলমের গান বাবু খাইসে টাইপের গান ভাইরাল হয়। শিক্ষিতরাও ঠাট্টা করে শেয়ার করেন। এটাকেও কী এক ধরনের প্রশ্রয় মনে করেন না?

আমি শুনিনি। এগুলো আমি শুনি না। এগুলো আমার ভালো লাগে না। তাই এ বিষয়ে কিছু বলতে চাই না।

আপনার পরিবারের আলাউদ্দিন আলী এক অনন্য নাম। তার সঙ্গে দুটি স্মৃতিকথা শুনতে চাই...

আলাউদ্দিন ভাইয়ের সঙ্গে তো শেষের দিকে অনেকদিন যোগাযোগ ছিল না। তবে ওনার সঙ্গে আমার বা আমাদের পরিবারের অনেক স্মৃতিই জড়িয়ে আছে। সেটা কাজের ক্ষেত্রে হোক বা পারিবারিক সম্পর্কে হোক। উনি অনেক আনন্দের সঙ্গে গান করতেন। যখন স্টুডিওতে কাজ করতাম তখন খাওয়া-দাওয়া, আড্ডা দেওয়া, হইচই করা পছন্দ করতেন। আবার এমন মনে হলো উনি চলে এলেন আমাদের বাসায় বা আমরা চলে যেতাম তার বাসায়। একসঙ্গে রান্না-বান্না, খাওয়া-দাওয়া, হটাত্ একসঙ্গে ঘুরতে যাওয়া এমন অসংখ্য স্মৃতি রয়েছে তার সঙ্গে। খুব খেতে ভালো বাসতেন আলাউদ্দিন ভাই। আর তার সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক কেমন ছিল তা না হয় না-ই বললাম, সেটা সবাই জানেন।

নিজের জীবনের সুদীর্ঘ সংগীত যাত্রায় শ্রেষ্ঠ কাজটি কী করে ফেলেছেন বলে মনে করেন?

হাহাহা! না এখনো করিনি। আরো ভালো কাজ করতে চাই। সুন্দর কথা, সুন্দর সুর করতে চাই।

আপনি আধুনিক ও চলচ্চিত্রের গানের পাশাপাশি নজরুল ও রবীন্দ্রসংগীতের সিদ্ধহস্ত একজন শিল্পী। দেশের প্রেক্ষাপটে নজরুল-রবীন্দ্র চর্চার বিষয়টি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

নজরুল-রবীন্দ্রসংগীত শুধু না, আমি ফোক, চলচ্চিত্র, আধুনিক, এমনকি অনেক বিদেশি ভাষায় গান করেছি। কাজী নজরুল ইসলাম ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অন্যতম কবি। আমাদের দেশের সম্পদ। অনেক ভালো লাগে বলেই তাদের গান গাই। আমাদের দেশের এই দু’জন অনেক বেশি সমাদৃত। এখন অনেক বেশি চর্চা হচ্ছে এখানে। এমনকি আমি মনে করি পশ্চিমবাংলার চেয়ে আমাদের এখানে নজরুল-রবীন্দ্র চর্চা অনেক ভালো হচ্ছে। যারা বলছেন, নজরুল-রবীন্দ্র চর্চা কমে গেছে তারা ভুল ভাবছেন।